Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , সময়- ১১:১৯ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিতর্ক কেন ? বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আবেদন খালেদা জিয়ার | প্রজন্মকণ্ঠ খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকার সময়ও জনগণ তার ডাকে সাড়া দেয়নি : ওবায়দুল কাদের বিএনপি-জামায়াত ক্লিনহার্ট অপারেশন চালিয়ে আ'লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে নির্যাতনের শিকার করেছিল : প্রধানমন্ত্রী  ধর্মমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রীর  কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল করেছে বিএনপি আ'লীগের প্রতিনিধিদলের উত্তরবঙ্গ সফর শুরু । প্রজন্মকণ্ঠ   বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন : সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার | প্রজন্মকণ্ঠ  সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ, আগামীকাল | প্রজন্মকণ্ঠ

সাফল্যের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করতে হয়েছে : পারভেজ রানা


অনলাইন ডেস্ক

আপডেট সময়: ১৩ এপ্রিল ২০১৭ ৪:৫৪ এএম:
সাফল্যের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করতে হয়েছে :  পারভেজ রানা

দক্ষিণ বঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলা যশোর। ছবির মত সুন্দর একটি গ্রাম ফুলসর। আর সেই গ্রামের আলো বাতাসে দুরন্তপনায় তার বেড়ে ওঠা। সবে মাত্র দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়াশুনা। প্রথম মাথায় আসে বড় হয়ে বই লিখবেন। কারণ তখন তার কাছে মনে হয়েছিল যারা বই লেখে তারা অনেক বড়, অনেক জ্ঞানী মানুষ। না হলে বই লেখা সম্ভব হত না। আর তখন খেকেই তার লক্ষ বড় হয়ে তাকে জ্ঞানী হতে হবে।

বাবা ছিলেন আর্মির হাবিলদার। সেই সাথে একজন মহান মুক্তিযোদ্ধা। আর তাই বাবার ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ছেলে দেশের সেবায় কাজ করবে। একজন আর্মি অফিসার হবে। কিন্তু বাঁধ সাধে পায়ের সমস্যা। বাবার ইচ্ছে খাকলেও সরে দাঁড়াতে হয়। আর সেই সরে দাঁড়ানোর জন্যই আজ তার দুটি পরিচয়। একদিকে ভবন নির্মাণ শিল্প খাতের উদ্যোক্তা অন্যদিকে লেখক ও প্রকাশক পারভেজ রানা।

কিন্তু আজকের এই পারভেজ রানার শুরুটা ছিল খুবই কঠিন। সময় তার সাখে বন্ধুর মত আচরণ করেনি। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে একের পর এক সফলতা ছিনিয়ে এনেছেন তিনি। ছাত্র জীবন থেকে মেধাবী ছিলেন। তারপরও বারবার সিদ্ধান্তহীনতার কারণ জীবন হারাতে হয়েছে একটি বছর। লক্ষের পানে ছুটতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর পড়াশুনা করার পরও তা ছেড়ে দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনা শেষ করেন।

পড়াশুনা করাকালীন তার সাহিত্য নিয়ে ভাললাগা আর ভালবাসা খেকে কয়েকজন বন্ধু নিয়ে উদীয়মান সাহিত্যিক ও পাঠক সমাবেশ (উসাপাস) নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান খেকেই তার সাহিত্য চর্চার শুরু। পরবর্তীতে ছোয়া প্রকাশন নামে ১৯৯৯ সালে প্রথম বই প্রকাশ করেন। বড় ধরনের সফলতার দেখা না পেলেও আত্মতৃপ্তি পেয়েছিলেন।

এতদিনে যতটুকু পুঁজি তিনি গড়েছিলেন তা পুরোটাই শেষ করে দিয়েছিল ২০০০ সালের বন্যা। প্রেসে তখন তার বই বাইন্ডিং চলছিল। সমন্ত বই বন্যার পানিতে নষ্ট হয়। প্রেস মালিকের কাছ খেকে কোন অর্খই ফেরত না পাওয়ায় তার সবটাই হারাতে হয়। সেখানেই থেমে থাকেননি। ছোঁয়া প্রকাশন থেকে আজকের বাংলাদেশ রাইটার্স গিল্ড। যার গত চার বছরের অর্জন ৬২ টি বই প্রকাশ। সেই সাখে পারভেজ রানা নিজেও লিখেছেন ও সম্পাদনা করেছেন ৭টি বই।

পড়াশুনা শেষ করে চাকুরির পিছনে ছুটে বেড়িয়েছেন দিন রাত। অভিজ্ঞতা না থাকলেও শেষ পর্যন্ত মেধার জোরে জায়গা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু তার বেতন ছিল মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। হতাশ না হয়ে কাজ করেছেন। কিছু দিনের মধ্যেই অবশ্য বেতন বেড়ে সাত হাজার টাকা হয়েছিল। সন্তুষ্ট না হলেও শেখার জায়গা হিসেবে দেখে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখার সুযোগটা এখান থেকেই হয়েছিল। দুই বছরের মত চাকুরী করার পর নতুন এবং আরও বড় প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ মিলে যায়। সে সুযোগটাকে কাজে লাগাতে ভুল করলেন না তিনি।

চাকুরির মধ্যবর্তী সময়ে এসে হঠাৎ করেই কয়েক জন বন্ধু মিলে নিদ্ধান্ত নেন ব্যবসা শুরু করবেন। সব কিছুই ঠিক ঠাক মত করছিলেন। কিন্তু এবার তাকে আরও চরম মূল্য দিতে হল। ঠিকঠাক মত বিলের অর্খ না পাওয়ায় প্রজেক্ট গুলোতে ক্ষতি হল। এতটাই ক্ষতি হল যে পরবর্তীতে শুরু করার মত অবশিষ্ট কিছুই হাতে ছিল না। থেমে না গিয়ে বহু কষ্টে আবারও ঝুঁকি নেওয়ার মত সাহস দেখালেন। নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে দাঁড় করালেন ইন্টিগ্রেটেড ইন্ডাষ্ট্রিয়াল কমপ্লায়েন্স স্ট্রাটেজি এন্ড সল্যুশন নামে নিরাপত্তা বিষয়ক ফার্ম। তার এ প্রতিষ্ঠানের মুল লক্ষই হচ্ছে নিরাপত্তার দিকটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবনের ডিজাইন ও নির্মাণের কাজ করা। বিশেষ করে ইন্ডাষ্টিয়াল ও বানিজ্যিক ভবন তৈরীর ক্ষেত্রে তিনি সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তার কথা বলেন। আর মনের মত পছন্দের বাড়িটি তৈরীর জন্য তার প্রচেষ্টা তো নিরন্তর। তারই প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করছেন এক ঝাঁক দক্ষ কর্মীবাহিনী।

আগামীর উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, উদ্যোক্তা হতে হলে প্রথমে থাকতে হবে স্বপ্ন, আর হতে হবে সৎ। সততার সাথে উদ্যোক্তা হওয়া প্রয়োজন। কারণ সব উদ্যোক্তারা সৎ নয়। আর এই অসততার জন্য যারা উদ্যোক্তা হতে আগ্রহী তারাও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই উদ্যোক্তা হতে হলে অবশ্যই কৌশলী হতে হবে। সুযোগ গুলোকে কাজে লাগাতে হবে, কিছুটা ঝুঁকিও নিতে হবে। আর ব্যবসা শিখতে হবে। চাকুরি করে ব্যবসা শেখা যায় না, ব্যবসায়ের একটি ক্ষুদ্র অংশের কাজ শেখা যায়। অনেক বেশী শিখতে হবে আপনাকে। জানতে হবে আপনাকে। না হলে জীবনে সফলতা পাওয়া যাবে না।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top