Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , সময়- ১০:৩৩ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিতর্ক কেন ? বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আবেদন খালেদা জিয়ার | প্রজন্মকণ্ঠ খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকার সময়ও জনগণ তার ডাকে সাড়া দেয়নি : ওবায়দুল কাদের বিএনপি-জামায়াত ক্লিনহার্ট অপারেশন চালিয়ে আ'লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে নির্যাতনের শিকার করেছিল : প্রধানমন্ত্রী  ধর্মমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রীর  কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল করেছে বিএনপি আ'লীগের প্রতিনিধিদলের উত্তরবঙ্গ সফর শুরু । প্রজন্মকণ্ঠ   বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন : সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার | প্রজন্মকণ্ঠ  সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ, আগামীকাল | প্রজন্মকণ্ঠ

লেখক পরিচিতি : নির্মলেন্দু গুন


প্রজন্মকণ্ঠ ডেস্ক

আপডেট সময়: ২৩ এপ্রিল ২০১৭ ৪:১৮ এএম:
 লেখক পরিচিতি : নির্মলেন্দু গুন

নির্মলেন্দু গুনের পরিচিতি


জন্ম ১৯৪৫ সালে ২১ জুন বাংলা ১৩৫২ সালের ৭ আষাঢ় দিনটি বৃহস্পতিবার নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার কাশবন গ্রামে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে গ্রামে। বাবা সুখেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী । সুখেন্দুর ৩ কন্যা ও ২ পুত্রের ছোট পুত্র নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। যে বয়সে মায়ের চেয়ে খেলাকেই বেশী ভালোবাসতে শুরু করে শিশুরা সেই বয়সেই মা বীনাপনিকে হারান নির্মলেন্দু গুণ। মাত্র ৪ বছর বয়সে। মা মারা যাবার পর তাঁর বাবা আবার বিয়ে করেন। লেখা পড়ার হাতেখড়ি নতুন মা চারুবালার হাতেই। ৩য় শ্রেণীতে, প্রথম স্কুলে ভর্তি হন। বারহাট্টা স্কুলে। পুরো নাম করোনেশন কৃষ্ণপ্রসাদ ইন্সটিটিউট। ক্লাসে বসেই একদিন লিখে ফেলেন একটি ছড়া,স্কুলকে নিয়ে। শুরুটা এভাবেই। ক্লাস এইটে পড়ার সময় স্কুলে বাংলার নতুন শিক্ষক মুখলেসুর রহমান স্যার আসেন। তিনি খুব সুন্দর কবিতা আবৃত্তি করতেন। তাঁর মাধ্যমেই এসময় মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নজরুল ইসলামের পর কবি জীবনানন্দের কবিতার সাথে প্রথম পরিচিত হন তিনি। দুই বিষয়ে লেটারসহ মেট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ পান ১৯৬২ সালে। মাত্র ৩ জন প্রথম বিভাগ পেয়েছিল স্কুল থেকে। মেট্রিক পরীক্ষার আগেই নেত্রকোণা থেকে প্রকাশিত ‘উত্তর আকাশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণের প্রথম কবিতা ‘নতুন কান্ডারী’।এসময় এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন প্রবীণ সাহিত্যিক খালেকদাদ চৌধুরী। কবিতাটি ছিল নেত্রকোণার নবাগত এস.ডি.ও. জনাব নূরুল ইসলাম খানকে উদ্দেশ্য করে লেখা। মেট্রিকের পর আই.এস.সি. পড়তে চলে আসেন আনন্দমোহন কলেজে, ময়মনসিংহ। পরে আবার বাবার প্রস্তাবে টিসি নিয়ে চলে যান নেত্রকোণা.কলেজে।

মেট্রিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টের সুবাদে পাওয়া রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপসহ পড়তে থাকেন এখানে। নেত্রকোণায় ফিরে এসে নির্মলেন্দু গুণ আবার ‘উত্তর আকাশ’ পত্রিকা ও তাঁর কবি বন্ধুদের কাছে আসার সুযোগ পান। নেত্রকোণার সুন্দর সাহিত্যিক পরিমন্ডলে তাঁর দিন ভালোই কাটতে থাকে। একসময় এসে যায় আই.এস.সি. পরীক্ষা। ১৯৬৪ সালের জুন মাসে আই.এস.সি. পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের ১১৯ জন প্রথম বিভাগ অর্জনকারীর মাঝে তিনিই একমাত্র নেত্রকোণা কলেজের।

সকলে খুশি। বাবা খুশি। এবার ছেলের সামনে উচ্চশিক্ষার সুগম পথ।ভালো ফলাফল তাঁর যাত্রাকে বেগবান করবে এমনটাই আশা। বাবা চাইতেন ডাক্তারী পড়া। কিন্তু না তিনি সুযোগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগে। ভর্তির প্রস্তুতি নেন নির্মলেন্দু গুণ। হঠাত্‍ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা শুরু হয় ঢাকায়। দাঙ্গার কারণে তিনি ফিরে আসেন গ্রামে। ঢাকার অবস্থার উন্নতি হলে ফিরে গিয়ে দেখেন তাঁর নাম ভর্তি লিষ্ট থেকে লাল কালি দিয়ে কেটে দেওয়া। আর ভর্তি হওয়া হলো না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।ফিরে আসেন গ্রামে। আই.এস.সি.-তে ভালো রেজাল্ট করায় তিনি ফার্স্ট গ্রেড স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। মাসে ৪৫ টাকা, বছর শেষে আরও ২৫০ টাকা। তখনকার দিনে অনেক টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পারায় একবার ভেবেছিলেন পড়াশুনার ইতি টানবেন। কিন্তু ভালো রেজাল্টের সুবাদে পাওয়া ফার্ষ্ট গ্রেড স্কলারশিপ মিস্ না করতে আবার ফিরতে হয় সেই আনন্দমোহন কলেজে। যে কলেজটি আই.এস.সি. দ্বিতীয় বর্ষে তাঁকে ঘৃণাভারে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখানে তিনি ভর্তি হন পাস কোর্সে বি.এস.সি.তে। যদিও এ পরীক্ষায় আর উত্তীর্ণ হওয়া হয়নি তাঁর। কিন্তু ১৯৬৯ সালে প্রাইভেটে বি.এ. পাশ করেন তিনি (যদিও বি.এ. সার্টিফিকেটটি তিনি তোলেননি)।

দেশ তখন অস্থির। ৬ দফা আন্দোলন তখন দানা বাঁধছে। তখন ‘সংবাদে’ছাপা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে উত্‍সর্গ করা কবিতা ‘প্রচ্ছদের জন্য’।বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি সহপাঠী হিসেবে পান মুজিব কন্যা শেখ হাসিনাকে।

১৯৬৭ সালে কবি শামসুর রাহমান, কবি আল মাহমুদ, কবি সিকান্দার আবু জাফর প্রমুখ বাংলা কবিতার প্রধান কবিদের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৬৯-এর প্রথম দিকে রেডিওতে কবিতা পাঠের আসরে ডাক পান নির্মলেন্দু গুণ। ঢাকায় তাঁর প্রচুর কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে। তিনি লিখতেন’সংবাদ’, ‘আজাদ’, ‘পাক জমহুরিয়াত’, ‘জোনাকী’ প্রভৃতিতে। প্রকাশিত হয় তাঁর কলাম ‘ফসল বিনাসী হাওয়া’। ২১ জুলাই ১৯৭০। তরুণ কবিদের কবিতা পাঠের আসরে পাঠ করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘হুলিয়া’। ‘হুলিয়া’তাঁকে কবি খ্যাতি এনে দেয়। বড় বড় লেখকরা তাঁর কবিতার প্রশংসা করেন। সমালোচনা লেখেন আব্দুল গাফফার চৌধুরী ‘তৃতীয় মত’ কলামে।খান ব্রাদার্স বের করে তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’। পশ্চিম বঙ্গের শক্তিমান লেখক শক্তি চট্টোপাধ্যায় ‘পূর্ব বাংলার শ্রেষ্ট কবিতা’ গ্রন্থে ছাপেন ‘হুলিয়া’ কবিতাটি। এর পর আর থেমে থাকার সময় কোথায়? প্রেম ও গণমানুষকে তাঁর কবিতার বিষয়বস্তুতে পরিণত করে একে একে লিখে চলেন কবিতা- ‘অমীমাংসিত রমণী’, ‘চৈত্রের ভালোবাসা’, ‘তার আগে চাই সমাজতন্ত্র’সহ আরও অনেক কবিতার বই।

স্বাধীনতার পূর্বপর্যন্ত চাকরি করেছেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত’কন্ঠস্বর’, আহমদ রফিক সম্পাদিত ‘নাগরিক’, ‘পরিক্রম’ ও ‘জোনাকী’পত্রিকায়। এর পর আবিদুর রহমান সম্পাদিত ইংরেজী পত্রিকা ‘পিপল্’ এ কাজ নেন সাব এডিটর হিসেবে। স্বাধীনতার পর কাজ করেছেন আল মাহমুদ সম্পাদিত ‘গণকন্ঠ’ পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে। এরপর সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন ‘সংবাদ’ ও ‘দৈনিক বাংলার বাণী’-তে। এখান থেকে চাকরি নেন ‘বাংলাবাজার’ পত্রিকায় সাহিত্য ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে। এরপর ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি কাজ করেছেন ‘দৈনিক আজকের আওয়াজ’ নামে একটি পত্রিকায় যেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি আর কোথাও চাকরি করেননি। এখন তিনি তাঁর লেখালেখি নিয়েই ব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছেন।

দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে তিনি কবিতা লিছেছেন। ছাত্র জীবনেইনির্মলেন্দু গুণ কবি খ্যাতি অর্জন করে নিয়েছিলেন। তাঁর হুলিয়া কবিতাটিতাকে কবিখ্যাতির শীর্ষে পৌছে দিয়েছিল। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংসুররক্ত চাই প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭০ সালে। ১৯৭১ সালে নির্মলেন্দু গুণমুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, ভারতেরআকাশবাণীতে কথিকা পাঠ করতেন তিনি। কবিতা আবৃত্তি করেমুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা যোগাতেন। মুক্তিযুদ্ধের একজন শব্দযোদ্ধা হিসেবেনির্মলেন্দু গুণ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন।

মূলত গদ্যকবিতা রচনা করলেও ছন্দ নিয়ে খেলা করেছেন নির্মলেন্দু গুণ।কোন কোন সমালোচক তাঁর ছন্দ কবিতায় ছন্দ-শৈথিল্যের কারণে ছন্দ লিখতে প্রায়ই হোঁচট খাবার অভিযোগ করেন। তবে তিনি বিশুদ্ধ ছন্দ ব্যবহার করে দেখিয়েছেন। নির্মলেন্দু গুণ এক কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর মেয়ের নাম মৃত্তিকা গুণ।

পুরস্কার

বাংলা একাডেমী পদক (১৯৮২)
একুশে পদক (২০০১)
প্রকাশিত গ্রন্থ

কাব্যগ্রন্থ

প্রেমাংশুর রক্ত চাই (১৯৭০)
না প্রেমিক না বিপ্লবী (১৯৭২)
কবিতা, অমিমাংসিত রমণী (১৯৭৩)
দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী (১৯৭৪)
চৈত্রের ভালোবাসা (১৯৭৫)
ও বন্ধু আমার (১৯৭৫)
আনন্দ কুসুম (১৯৭৬)
বাংলার মাটি বাংলার জল (১৯৭৮)
তার আগে চাই সমাজতন্ত্র (১৯৭৯)
চাষাভুষার কাব্য (১৯৮১)
অচল পদাবলী (১৯৮২)
পৃথিবীজোড়া গান (১৯৮২)
দূর হ দুঃশাসন (১৯৮৩)
নির্বাচিতা (১৯৮৩)
শান্তির ডিক্রি (১৯৮৪)
ইসক্রা (১৯৮৪)
প্রথম দিনের সূর্য (১৯৮৪)
আবার একটা ফুঁ দিয়ে দাও (১৯৮৪)
নেই কেন সেই পাখি (১৯৮৫)
নিরঞ্জনের পৃথিবী (১৯৮৬)
চিরকালের বাঁশি (১৯৮৬)
দুঃখ করো না, বাঁচো (১৯৮৭)
১৯৮৭ (১৯৮৮)
যখন আমি বুকের পাঁজর খুলে দাঁড়াই (১৯৮৯)
ধাবমান হরিণের দ্যুতি (১৯৯২)
কাব্যসমগ্র, ১ম খণ্ড (১৯৯২, সংকলন)
কাব্যসমগ্র, ২য় খণ্ড (১৯৯৩, সংকলন)
অনন্ত বরফবীথি (১৯৯৩)
আনন্দউদ্যান (১৯৯৫ )
পঞ্চাশ সহস্র বর্ষ (১৯৯৫ )
প্রিয় নারী হারানো কবিতা (১৯৯৬)
শিয়রে বাংলাদেশ
ইয়াহিয়াকাল (১৯৯৮ )
আমি সময়কে জন্মাতে দেখেছি (২০০০)
বাৎস্যায়ন (২০০০) 
গল্পগ্রন্থ

আপন দলের মানুষ

ছড়ার বই

১৯৮৭ সোনার কুঠার

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ

আমার ছেলেবেলা
আমার কণ্ঠস্বর
আত্মকথা ১৯৭১(২০০৮)

অনুবাদ

১৯৮৩ রক্ত আর ফুলগুলি

নির্মলেন্দু গুণ সাহিত্য সাধনার জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমী পুরষ্কার,একুশে পদক, আলাওল সাহিত্য পুরষ্কার, কবি আহসান হাবীব সাহিত্য পুরষ্কার। তিনি নিজ গ্রাম কাশতলায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘কাশবন বিদ্যা নিকেতন’নামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এক সময় ভাবতেন বড় হয়ে সন্ন্যাসী হবেন। তাঁর জ্যাঠা মশাই সন্ন্যাস ব্রত নিয়েছিলেন। জ্যাঠা মশাই কেন সন্ন্যাসী হয়েছিলেন খুব জানার ইচ্ছে ছিল তাঁর। তবে তিনি তা জানতে পারেননি। কিন্তু কাব্যকে আশ্রয় করে তিনিও তো সন্ন্যাসী হয়েছেন। কবিতার প্রেরণায় ছুটেছেন পথ থেকে পথে।কবিতার ভাষায় হয়ে উঠেছেন ক্ষমতাধর। আর পরম ক্ষমতার প্রতি তাঁর নিজ সঙ্গায়িত ভক্তি রেখে ছুটেছেন বাক্যের পথে প্রান্তরে। লিখতে পেরেছেন “ধাবমান হরিণের দুত্যি” বা “অগ্নি সঙ্গমের” মত চিন্তার খোরাক জোগানো কাব্য। প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজের কাব্য দর্শন। শ্বেত শুভ্র চুল দাড়ির এ কাব্য অন্বেষক, কাব্য দার্শনিকও তো বটে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top