Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ৪:৪২ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে গত বছরের তুলনায় আরও দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পর এবার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা চলতি বছরেই বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট শেষ পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়ে গ্যাসের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত : বিইআরসি নরসিংদীর ‘জঙ্গি আস্তানায়’ যৌথবাহীনির অভিযান সমাপ্ত  এই মুহূর্তে কোনও রাজবন্দি নাই, যারা আছে তারা সবাই অপরাধী : তথ্যমন্ত্রী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ছাড়া দুদক টিকবে না : দুর্নীতি দমন কমিশন নরসিংদীর 'জঙ্গি আস্তানা' থেকে দু'টি লাশ উদ্ধার, জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান ৮ হাজার রোহিঙ্গার প্রথম তালিকা যাচাই করে তথ্য স্বীকার করেছে মায়ানমার জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই : পানি সম্পদ মন্ত্রী

না, ওদের কোনও দেশ নেই ! 


সম্পাদকীয়

আপডেট সময়: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:২১ এএম:
না, ওদের কোনও দেশ নেই ! 

সম্পাদকীয় - রাষ্ট্রহীন নাগরিকের পরিচয়েই চলে গেছে, চলে যাচ্ছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ওঁরা রোহিঙ্গা মুসলিম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেটলেস কমিউনিটি। প্রাণের দায়ে ভিটেমাটির আশা ত্যাগ করে মায়ানমার ছেড়ে পালাচ্ছেন এই রোহিঙ্গারা। বাংলাদেশে আছড়ে পড়ছে উদ্বাস্তু স্রোত। 

কেউ গুলিবিদ্ধ, কেউ আগুনে পুড়ে ছটফট করছেন, কারো পা উড়ে গেছে ল্যান্ডমাইনে। শরীরের ভাঁজে ভাঁজে যন্ত্রণা। অনাহারে-অর্ধাহারে দিনের পর দিন পাহাড়, জঙ্গল, নদী পার হয়ে যখন বাংলাদেশে ঢুকবেন ঠিক তখনই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অসহায় রোহিঙ্গারা। কেউ মরছেন নৌকাডুবিতে, কেউবা যন্ত্রণায় কাঁতরাতে কাঁতরাতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন। আবার কাউকে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এসেই গুলি করে হত্যা করছে মিয়ানমার সৈন্যরা। 

গত কয়েকদিনে দেড় লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে। চরম মানবিক সঙ্কটের মুখে এই উপমহাদেশ। মায়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ঠাঁই দিতে নারাজ। মানবাধিকার শব্দটা এখানে অভিধানের বাইরে। তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে এতদিন রাখাইনে কোনওভাবে কাটছিল দিন। এখন তারও আর জো নেই। বাঁচতে চাইলে পালাতে হবে। যদি বা একে বাঁচা বলে।

মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে গত দু-সপ্তাহে দেড় লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা পা রেখেছেন বাংলাদেশে। কক্সবাজারের কাছে উদ্বাস্তু শিবিরে আপাতত ঠাঁই হয়েছে। কিন্তু, সেই বা আর কতদিন! ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় রোহিঙ্গাদের একটা বড় অংশ পা রেখেছিল আরাকানে। এখনকার মায়ানমার ১৮২৩ সালের পরে সে দেশে যাওয়া কাউকে নাগরিকত্ব দিতে নারাজ। রোহিঙ্গারা তাই রাখাইনে অবমানব। 

পরিচয় নেই, স্বাধীন চলাফেরার অধিকার নেই। অন্য কোথাও চলে যাওয়ারও তো উপায় নেই। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিজেদের বলে মানে না। যাঁরা ঢুকে পড়েছেন ভারতে, তাঁদের ফিরিয়ে দিতে চায় দিল্লিও। গত মাসে আচমকাই মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে বসে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি নামে একটি সংগঠন। পাল্টা এথনিক ক্লিনসিংয়ে নেমে পড়ে রাষ্ট্র।

খাবার নেই। জল নেই। আছে আগুনে পোড়া বাড়ি, খুন-ধর্ষণের ভয় আর শিশুদের কান্না। তাই ওঁরা ভিটে-মাটি ছেড়ে চলেছেন বাংলাদেশে। যদি প্রাণটা বাঁচে। শান্তির নোবেল জয়ীর মুখে আজ কোনও কথা নেই। দু-দিন পর প্রতিবেশী দেশও যখন খেদিয়ে দিতে চাইবে, তখন কী হবে জানা নেই। ভবিষ্যত নিয়ে ভাবার সময় নেই। প্রাণে বাঁচতে শুধু বর্তমানে বেঁচে থাকার চেষ্টা।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top