Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
আয়কর মেলার শেষ দিন আজ দুর্নীতিসহ ১১ সূচকে রেড জোনে বাংলাদেশ : এমসিসি  চিকিৎসা বিষয়ে খালেদা জিয়ার রিটের আদেশ আজ  নাজমুল হুদাকে ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ  নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার  একজন শিশুকে পিইসি পরীক্ষার জন্য যেভাবে পরিশ্রম করতে হয়, সত্যিই অমানবিক : সমাজকল্যাণমন্ত্রী নির্বাচনকে সামনে রেখে আদর্শগত নয়, কৌশলগত জোট করছে আওয়ামী লীগ : সাধারণ সম্পাদক থার্টিফার্স্ট উদযাপন নিষিদ্ধ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে সেনাবাহিনী  মহাজোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যাওয়ার শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে 

আওয়ামী লীগকে আরও স্মার্ট, আধুনিক ও গতিশীল করতে হবে : ওবায়দুল কাদের


জাতীয় ডেস্ক

আপডেট সময়: ২০ নভেম্বর ২০১৭ ১:৫১ পিএম:
আওয়ামী লীগকে আরও স্মার্ট, আধুনিক ও গতিশীল করতে হবে : ওবায়দুল কাদের

শাসক দল আওয়ামী লীগের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ওবায়দুল কাদের। নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত এ সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের সড়ক ও সেতুমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। কলেজজীবন থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে মাঠে সক্রিয় ছিলেন তিনি। কোম্পানীগঞ্জ থানার মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক হিসেবে অংশ নিয়েছেন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে। টানা দুবার ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিলেন তিনি; রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণ করেন তিনি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রাতঃভ্রমণের সময় প্রজন্মকন্ঠর সঙ্গে একান্তে আলাপচারিতা করেন তিনি। বৃষ্টিস্নাত সেই ভোরের কথামালায় উঠে এসেছে দল নিয়ে তার পরিকল্পনা, আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদের উত্থান, তার দৃষ্টিতে বিএনপির বর্তমান রাজনীতিসহ ব্যক্তি ওবায়দুল কাদেরের যাপিত জীবনের নানা গল্প
 
প্রশ্ন: এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আপনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলকে নিয়ে আপনার প্রথম পরিকল্পনা কী?
ওবায়দুল কাদের: দলের সব পর্যায়ে বিশেষ করে তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। উন্নয়নের সঙ্গে আচরণের ব্যাপারটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। নেতাকর্মীদের আচরণগত বিষয়টি উন্নত করতে হবে। আচরণ অনেক সময় অনেক অনেক উন্নয়নকেও ম্লান করে দেয়। তাই আচরণ ও উন্নয়নের মধ্যে একটা ফাইন ব্যালেন্স করতে হবে, তাহলেই আমরা সুশাসনের বিষয়টি ইমপ্রুভ করতে পারব এবং জনগণের কাছে আমাদের যে ভাবমূর্তি, তা রক্ষা করা যাবে।
 
প্রজন্মকন্ঠ : সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, বাংলাদেশের উগ্র সাম্প্রদয়িক শক্তি প্রতিরোধ করা এবং ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করা আপনার প্রথম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে আপনার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কিনা?
ওবায়দুল কাদের: পরিকল্পনাটা আমাদের দলের, আমাদের নেত্রীর। সরকারের সকল পরিকল্পনা এবং নতুন নতুন আইডিয়ার আর্কিটেক্ট হচ্ছেন আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমার দায়িত্ব হচ্ছে একটা টিমওয়ার্ক গড়ে তোলা। আওয়ামী লীগকে আরও স্মার্ট, আধুনিক ও গতিশীল করতে হবে। আপাতত লক্ষ্য ‘ভিশন-২০২১’ অর্থাৎ ২০২১ সাল পর্যন্ত যেসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের কথা সরকারের, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে উন্নয়ন অর্জনের বিষয়টি।

আরেকটি বিষয় হলো সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ইটস আ গ্লোবাল ফোনোমেনন, সারা পৃথিবীর সমস্যা। বাংলাদেশেও এ সমস্যা আছে। সাম্প্রতিককালে কিছু ঘটনার পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। তার মানে এই নয় যে, উগ্রবাদ নেই। তলে তলে তারা ভয়াবহ কোনো হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিনা এমন আশঙ্কাও আছে। কাজেই এরা নির্মূল বা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে মনে করার কারণ নেই। সেটাও কিন্তু আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এটাই এখন দেশের প্রধান বিপদ। কারণ উন্নয়ন অর্জনের জন্য স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। এই স্থিতি এরা (উগ্রবাদী) বিনষ্ট করতে চাইছে এবং চাইবে। এখানে দেশি-বিদেশি নানা গেম আছে। এদের প্রতিহত করতে হবে। তাদের পরাজিত করতে হবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে। এখানে এটা এমন একটা বিষয় জনগণকে সঙ্গে নিতেই হবে। এক্ষেত্রে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে সকল রাজনৈতিক দল রয়েছে, সে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কারণ এটা আমাদের জাতীয় বিপদ, দুর্ভাবনা। এই বিপদের জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন, জনগণের ঐক্য প্রয়োজন।
 
প্রজন্মকন্ঠ : গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে না আসায় বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি বর্তমানে সংসদের বাইরে। আগামীতে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেখানে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? সেক্ষেত্রে তারা যদি নির্বাচনে আসতে চায়, আপনাদের ছাড় দেওয়ার কোনো মানসিকতা বা চিন্তাভাবনা রয়েছে কিনা? ২০১৯ সালের আগে আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা রয়েছে বলে আপনি মনে করেন কি?
ওবায়দুল কাদের: আগাম নির্বাচন কেন? আগাম কোনো কিছু ভেবে দেখা হবে কিনা বা সে ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির বিচারে নিতে হবে কিনা সেটা কেবল প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আগাম বা মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য দেশ বিদেশ থেকে আমরা কোনো প্রকার উল্লেখযোগ্য চাপ অনুভব করছি না। জনগণের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের চাপ নেই।

বিএনপি নির্বাচন না করে যে ভুল করেছে, সে ভুলের চোরাবালিতে তারা আজও আটকে আছে। নির্বাচন না করে তারা সহিংস আন্দোলন করে, সহিংস তৎপরতার মাধ্যমে সরকার উৎখাত করবে, মানুষকে পুড়িয়ে মারবে, পেট্রলবোমা দিয়ে, ককটেল দিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে মারবে এসব ঘটিয়ে তারা বরং তাদের জনবিচ্ছিন্নতাকে আরও বাড়িয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে একটা ইতিবাচক আন্দোলন গড়ে তোলার সামর্থ্য, সক্ষমতা তারা এ পর্যন্ত দেখাতে পারেনি। তারা নিজেরাই নিজেদের দুর্বল করেছে। তারা দেশে গণতন্ত্র রক্ষা করতে চায়। অথচ তাদের দলের ভেতরের গণতন্ত্রই আজ বিপর্যস্ত। তারা নিজেদের ঘরেই গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারছে না, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে কেমন করে?

বিএনপি সবচেয়ে বড় ভুল করেছে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন করে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সেটাকে তিনি অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে এবং আমি বলব অনেকটা নোংরাভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেটা ছিল তাদের বড়মাপের ভুল। সেটার পরিণতিতে তারা নির্বাচন বর্জন করল এবং সেটা ছিল আরও মস্ত বড় ভুল। ভুল থেকে আরও বড় ভুলের দিকে তারা গিয়েছে এবং নির্বাচন না করে তারা ভুল করেছে। সেই সময় তারা যদি গণভবনে আসত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিত তাহলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস ভিন্নভাবেও লেখা হতে পারত।
আজ যেসব অভিযোগ তারা করছে, সে অভিযোগগুলো করার প্রয়োজন ছিল না। এ অভিযোগগুলো করার প্রভোকেশন তারাই তৈরি করেছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, সুযোগ তাদের আরও একটা ছিল। সেটাও তারা হাতছাড়া করেছে। খালেদা জিয়ার সন্তান কোকো যখন মৃত্যুবরণ করে, তার মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী স্বেচ্ছায় ওইদিন মানবিক কারণে সহানুভূতি জানাতে খালেদা জিয়ার দরজায় গিয়েও ফিরে এসেছেন প্রত্যাখ্যাত হয়ে। তিনি দরজাটি খোলেননি, মানবিক কারণেও দরজাটা যখন খোলা হয়নি, তখন গণতন্ত্রের ওয়ার্কিং রিলেশন কেমন করে গড়ে উঠবে? বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কটা খুব প্লেজেন্ট (সুখকর) না। এটা কখনই প্লেজেন্ট ছিল না। এটার মূল ছিল ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট। এই দুটি মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি আজকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে আবিষ্টতা সৃষ্টি করেছে এবং আমাদের হৃদয়ে যে রক্তক্ষরণ তারপরও কোকোর মৃত্যুর পর নেত্রী সহানুভূতি জানাতে গিয়েছিলেন। সেটাকে প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি আবারও একই ভুল করল এবং গণতন্ত্রের পথে তাদের মুখের কথার সঙ্গে তাদের বাস্তবের আচরণ একেবারে উল্টোটা প্রদর্শন করল। এসব বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের তারা পুরস্কৃত করল, তারা বিদেশি দূতাবাসে চাকরি দিল, বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিল। এসব ঘটনাই বলছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে তারাও সম্পৃক্ত। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় প্রাইম টার্গেট (প্রধান শিকার) ছিল আমাদের নেত্রী। সেদিন ভাগ্যক্রমে তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। এ ঘটনা বিএনপি সরকার এফবিআইকে তদন্ত করতে দিল না, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে আসতে দিল না এবং সমস্ত আলামত তারা নষ্ট করে দিয়েছিল। এসব ঘটনার পর গণতন্ত্রের পথে তারা কী করে সরকারের কাছ থেকে ছাড় আশা করতে পারে?

এখন গণতন্ত্র তো অধিকার, এটা তো করুণা না। সরকার করুণা করে কোনো বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক সুবিধা দেবে, এ ধরনের মানসিকতা যাদের, আমি তো মনে করি চরম দেউলিয়াত্বের মধ্যে তাদের অবস্থান। এ ধরনের দেউলিয়াপনা নিয়ে আমরা যখন আন্দোলন করেছি বিএনপি-এরশাদের আমলে, আন্দোলনের সময় আমাদের দাবি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে এটা তো আমরা ভাবিনি। আন্দোলনের সক্ষমতাও তারা দেখাতে পারেনি। নির্বাচন যথাসময়ে হবে এবং আমরাও চাই বিএনপি আসুক। বিএনপি নির্বাচনে এসে আবারও সংসদে আসুক, জনগণ যে দলকে নির্বাচিত করবে, সে দলই জিতবে। এখানে তো জোর-জবরদস্তি করে নির্বাচিত হওয়ার কোনো বিষয় নেই। ৫ জানুয়ারি তারা আসেনি, কাজেই নির্বাচনে কারচুপি-জোরজবরদস্তি হয়েছে এটা বলার কোনো সুযোগ তাদের নেই। নির্বাচন তো নির্বাচন কমিশনের অধীনে হবে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে পারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য।

প্রজন্মকন্ঠ : সামনে তো নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন…
ওবায়দুল কাদের : এটা যে পদ্ধতিতে আমাদের সংবিধানে বলা আছে সেভাবেই হবে, সার্চ কমিটির মাধ্যমে।
প্রজন্মকন্ঠ : পদ্ধতি পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা রয়েছে কিনা?
ওবয়াদুল কাদের : কেন পরিবর্তন হবে? পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই।
প্রজন্মকন্ঠ : আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে দেখা যায়, ‘ভোট ও ভাতের অধিকার’ প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা আন্দোলন করেছেন। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পেছনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা অগ্রগামী বলা হয়। কিন্তু এখন অনেকে দাবি করে থাকেন, বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন, কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেখার পর… যে আওয়ামী লীগের এই শাসনামলে দেশের মানুষ ভোটাধিকারটা ঠিকমতো পাচ্ছে কিনা?

ওবায়দুল কাদের : স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির আমলে বা এরশাদের আমলে আমাদের চেয়ে ভালো হয়েছে এটা কি তারা দাবি করতে পারবেন? আমার মনে হয়, আমাদের সবারই আয়নায় নিজেদের চেহারাটা দেখা উচিত। তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তারা কী করেছিলেন। জনগণই এটা প্রমাণ করবে, কারা বেটার। আমরা একেবারে সবদিক থেকে ধোয়া তুলসীপাতা একথা তো আমি বলব না। এখানে বাংলাদেশে প্রাকটিস (চর্চা) করতে করতে গণতন্ত্র ম্যাচিউরিটি (পূর্ণতা) পাবে, প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। গণতন্ত্র তো এক চাকার বাইসাইকেল না। এখানে বিরোধী দল লাগে। বিরোধী দল নিজে নিজেই যদি বাইসাইকেল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে তো সমস্যা হবেই। তাদেরও তো কো-অপারেশন (সহযোগিতা) করতে হবে। আমরা গণভবনে ডাকি, আমাদের মানবিক আবেদনটাও তারা প্রত্যাখ্যান করে। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সম্মেলনেও আমরা তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা সৌজন্যবোধ দেখাতে পারত। কিন্তু আসেনি। তাদের মধ্যে সমঝোতা গড়ে তোলার মানসিকতা নেই এটা তারা প্রমাণ করেছে। অথচ প্রথমে বলেছিল, আমরা আসব।
 
প্রজন্মকন্ঠ : আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অনেক সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ করতে দেখা যায়। নিজেদের মধ্যে এক ধরনের দূরত্বের অভিযোগ রয়েছে তাদের। এগুলো নিরসনে আপনার চিন্তাভাবনা কী?
ওবায়দুল কাদের: আমি প্রথমেই বলেছি, দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। আমি একটু বড় দাগে বলেছি সেটা। দলের যারা অপকর্ম করবে, যাদের কারণে জনগণের কাছে পার্টির ভাবমূর্তি ক্ষুণ হবে, আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে তাদের সমস্যার মুখে পড়তে হবে।
 
প্রজন্মকন্ঠ: আপনি প্রায়ই হাইব্রিডদের সমালোচনা করেন…
ওবায়দুল কাদের: ক্ষমতাসীন দলে অনেক সময় দেখা যায়, বসন্তের কোকিলরা এসে দলের ত্যাগী, দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে দেয়। আমার বক্তব্যে আসল স্পিরিট ছিল এটা। এবারের জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আমরা এই ধরনের অনেক সমস্যা যেন নিরসন করতে পারি, দলকে সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারি; সে ব্যাপারে আমাদের এজেন্ডা নির্ধারণ করব।
 
প্রজন্মকন্ঠ : আপনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ। কলকাতার মিঠুন চক্রবর্তীর একটা সিনেমা আছে। অনেকে কিন্তু আপনাকে ওই সিনেমায় তার অভিনীত চরিত্রের নামেও ডাকে….
ওবায়দুল কাদের: ওই চরিত্রটা হলো অভিনয়, আমি হলাম বাস্তব। আমি অভিনয় করি না, আমি যা করি বাস্তব, যা করি মনের থেকে করি। আমি অনেক ছবি দেখেছি, কিন্তু মিঠুন চক্রবর্তীর ওই ছবিটি আমার দেখা হয়নি। কাজেই আমি জানি না (হাসতে হাসতে) সিনেমাটিতে কী আছে। অনেকে আমাকে দেখে বলে, ‘ওই যে ফাটাকেস্ট যায়!’ গ্রাম দিয়ে যেতে যেতেও হঠাৎ আওয়াজ পাই গাড়িতে বসে। আশপাশের লোকজন এমন মন্তব্য করছে। আমি জানি, মন্তব্যটা খারাপ অর্থে করে না, কিন্তু আমার কাছে একটা বিষয় খারাপ লাগে আমি তো বাস্তবে কাজ করছি। আর সিনেমা তো সিনেমাই।
 
প্রজন্মকন্ঠ : আপনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আপনার আগের সাধারণ সম্পাদককে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
ওবায়দুল কাদের: তিনি ভালো ও সজ্জন মানুষ। শিক্ষিত মানুষ। আমি অতীত নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে চাই না। অতীতের অভিজ্ঞতা শুধু কাজে লাগাতে চাই।
 
প্রজন্মকন্ঠ : আওয়ামী লীগের যে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হচ্ছে সেখানে সম্পাদকম-লীতে কোনও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে দেখছি না। এটা কি দল ও সরকারকে পৃথক রাখার ভাবনার বহিঃপ্রকাশ?
ওবায়দুল কাদের: এটা একটা ইঙ্গিত। সরকারের মধ্যে দল হারিয়ে যায়, এ রকম একটা কথা আছে। দল আর সরকার একযোগেই কাজ করবে। এক্ষেত্রে দল থাকবে সরকারের চেয়েও শক্তিশালী। কিন্তু সরকার যতটা শক্তিশালী, দল ততটা নয়। কাজেই এখানে একটা ফাইন ব্যালেন্স (ভারসাম্য) করা দরকার।
 
প্রজন্মকন্ঠ : ধন্যবাদ, সময় দেওয়ার জন্য।
ওবায়দুল কাদের: ধন্যবাদ।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top