Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ২:১৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
নাজমুল হুদাকে ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ  নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার  একজন শিশুকে পিইসি পরীক্ষার জন্য যেভাবে পরিশ্রম করতে হয়, সত্যিই অমানবিক : সমাজকল্যাণমন্ত্রী নির্বাচনকে সামনে রেখে আদর্শগত নয়, কৌশলগত জোট করছে আওয়ামী লীগ : সাধারণ সম্পাদক থার্টিফার্স্ট উদযাপন নিষিদ্ধ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে সেনাবাহিনী  মহাজোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যাওয়ার শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে  প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু আজ  ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন শেষ তারিখ ২১ নভেম্বর  আ'লীগ যত রকম ১০ নম্বরি করার করুক, ভোট দেবো, ভোটে থাকব : ড. কামাল হোসেন

গল্প : ঘড়ির কাঁটায়


অর্পিতা গোস্বামী চৌধুরী

আপডেট সময়: ৮ ডিসেম্বর ২০১৭ ১১:৫৪ এএম:
গল্প : ঘড়ির কাঁটায়

লেখক ,অর্পিতা গোস্বামী চৌধুরী : আজ সকাল থেকেই কারণে অকারণে জেদ করছে বার্বি। প্রথমে দুধ খাবে না বলে তারপর ওর পিগিপিগি সাবান কোথায় গেল। ওই সাবান ছাড়া চলবে না। অবশেষে স্কুল ড্রেসটা বেঁকে গেছে বলে। শেষের অবাস্তব আর অকারণ বায়নাতে পামেলা ধৈর্যচ্যুত হল। বাড়িতে হুলস্থুল শুরু হয়ে যায়। একসঙ্গে ওর হাত চলছে এবং মুখ। প্রতিযোগিতা করছে বার্বির কান্না। আসলে ঘুম থেকে উঠে এই সময় বার্বি চিরকালের মতো একটু বাড়তি মনোযোগ চায়। অথচ পামেলা যে কী নিরুপায় তা শুধু অংশুই জানে। একা হাতে বেচারিকে বাড়ি বাচ্চা সামলে আবার অফিস। এতটুকু সাহায্য করতে পারে না ও। আস্তে আস্তে বার্বিও বুঝে গেছে বাবাকে কিছু বলে কোনও লাভ হবে না। তবু যখন রাতে বই নিয়ে আসে পড়তে, তখন তার মধ্যে দিয়ে সমস্ত অপূর্ণতা মেরামতের চেষ্টা চালায় ও। পামেলা সারাদিনের সমস্তটুকু গুছিয়ে রেখে যায় অংশুর জন্য। এতটুকু ভুল করে না। অভ্রান্তিতেও হাঁফ ধরে কখনও কখনও। বেরনোর সময় যখন প্রতিদিনের মতো বিদায় চুমু খায় গলা জড়িয়ে তখন অংশু গবেষণা করার চেষ্টা করে, আজ আরও কতটা কৃত্রিম হল ওর হাসি, ওর আদর। যতক্ষণ পামেলা আর বার্বি থাকে বাড়িতে ততক্ষণ যেন ঘোড়া হয়ে ছোটে ঘড়ির কাঁটা। পামেলা বলে, ইস ঘড়িটা যেন শত্রু হয়েছে একটু ধীরে চল না বাপু। কিন্তু না, সে চলবে নিজের মর্জিতে। আর ওরা বেরিয়ে  গেলেই ফাঁকিবাজ কর্মীর মতো দিবানিদ্রায় বেহুঁশ। নড়বেও না, চড়বেও না। 

পৃথিবীর যত মেদ সব ওর কাঁটায় জমবে এসে। ট্রাউজার আর গোল গলা গেঞ্জি পরে শুয়ে শুয়ে সিগারেট ধরাল অংশু। সামনে ৪২ ইঞ্চি টিভি সবে বন্ধ করেছে। রিমোট এখনও বুকের উপর। পামেলা আর বার্বি বেরিয়ে গেল। টেবিলের উপর রেখে গিয়েছে কফি পট, জল স্যান্ডউইচ, স্ন্যাক্স। ক্রাচটাও মুছে ঠিক যত্ন করে বিছানার পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে তারপর ও আর বার্বি টা টা করতে করতে বেরিয়ে গেল। বাইরে পুরু বরফের চাদর। কার্নিস বেয়ে গড়িয়ে পড়া জল জমে ঝুলন্ত প্রাগৈতিহাসিক বৃক্ষ যেন। পাশে রাখা আই ফোনে টুং টাং, জানান দিচ্ছে মেসেজ রিসিভড। দু’মাস ধরে এসবই স্থির চিত্র। বড় একঘেঁয়ে। অকারণ রুম হিটার আর একটু বাড়িয়ে মাথা এলিয়ে দিল বালিশে। অলস চোখে ঘুম নেমে এল। ওষুধের প্রভাব, এক্ষুণি ঘুমিয়ে পড়বে ও। টানা দু’ঘণ্টা। তারপর ক্রাচ টেনে একবার বাথরুমে যাবে, বন্ধ জানলা দিয়ে বাইরে তাকাবে।

রঙে রং বাহারি পাহাড়ের চূড়া। হাজার হাজার প্রজাপতি, জল ছোঁয়া বাতাস। নিউ হ্যামস্ফেয়ারের রঙিন অরণ্য। দৌড়চ্ছে বার্বি, দৌড়চ্ছে অংশুও। পেছনে পামেলা। ও হাঁপাচ্ছে। হঠাৎ খাদ বেয়ে অংশু নেমে যাচ্ছে কোথায়! দু’হাত উপরে তুলে কিছু ধরতে চাইছে। গতিতে ঝড়। রঙিন পাতাগুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে ওর উপর আস্তরণ তৈরি করে নেমে আসছে। ওর চিৎকারে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। ওই ফুল পাতা ভেদ করে তবু পাঠাতে চাইছে আত্মরক্ষার আকুতি। বাঁ-চা-ও। প্রচণ্ড আতঙ্কে ঘুম ভেঙে গেল। কপালে ঘাম বিন্দু বিন্দু। হিটার কমিয়ে তারপর উঠে বাথরুম গেল ক্রাচ হাতে চেপে। জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে মনে হল, গোটা রাজ্য কেমন স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। জনশূন্য নিস্তব্ধ পুরী। স্বপ্ন দেখে ঘুমটা আগে ভেঙে যাওয়ায় বেশ বিরক্তি লাগছে। কোনওরকমে শরীরটাকে টেনে হিঁচড়ে বিছানায় ফিরে এল আবার। একটু কফি ঢেলে নেবে কি! কিন্তু ওই নেওয়াটা বড় কষ্ট। থাক এখন, পরে দেখা যাবে। অ্যাক্সিডেন্টের পর একটা পা প্যারালাইসিস হয়ে গেছে পুরো। অন্য পায়ে রড বসানো আছে। এর মধ্যেই আবার অপারেশন করে ওটা বের করবে। ও কি সম্পূর্ণ সুস্থ হবে কখনও! অথবা এভাবেই কি অফিসে যাবে! লম্বা চওড়া হ্যান্ডসাম। ড্রেস এবং অ্যাটিটিউডে মুগ্ধ হয়ে যায় সকলে। সে অফিসে যাবে ক্রাচ হাতে। ও আসলে এখন একটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কী যুদ্ধটাই না সকাল থেকে করতে হয় পামেলাকে। নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছা করে কখনও কখনও। কিন্তু অংশুকে সুস্থ করে তোলার তীব্র জেদ ধরে থাকা পামেলা অথবা বার্বির প্রার্থনা সব মিথ্যা করে দেবে ও!
বার্বিকে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি করা, নিজে তৈরি হওয়া, অংশুর সবকিছু করে দেওয়া, বাড়িতে যেন একটা ঝড় চলে সকাল থেকে আর ওরা বেরিয়ে গেলে ঝড়ে খসে পড়া শুকনো পাতার মতো এতবড় বাড়িটাতে 
একা পড়ে থাকে ও। টিভি চললেও মন অন্য কোথাও গুটিয়ে থাকে কোন এক হতাশার অন্ধকারে, মেসেজের টুংটাং হাতছানি দেয় না। ও জানে আর কখনও ওর পা স্বাভাবিক হবে না।
ইন্ডিয়াতে থাকলে ওর আশেপাশে মা থাকত, বাবা থাকত, ভাইয়ের ছেলে, দাদার মেয়ে। ও কাল্পনিক দৃশ্যপটে দেখে ওকে ঘিরে সকলে বসে। সকলের কত কথা। গতকাল মাকে বলেছিল মুঠোফোনের এপার থেকে, মা আমার খুব দেশে ফিরতে ইচ্ছা করে, ওখানে কত প্রাণ কত কোলাহল। এখানে বরফের মতো সব ঠান্ডা। মা ওপার থেকে বলেছিল নারে ফিরিস না, এখানে কিচ্ছু নেই। যে যার মতো ব্যস্ত। দূরে থাকিস তাই। কাছে থাকলে দেখবি, শুধু ভ্যাপসা গরম, প্যাচপেচে ঘাম আর নোংরা পলিটিক্স। অংশু বলতে চেয়েছিল অনেক কথা। কিন্তু পারেনি, বরঞ্চ মা বলল, আমার কথা ভাবিস না, আমি ভালোই আছি। তাছাড়া আমি আর 
ক’দিন!
—তুমি আসবে মা!
—হ্যাঁরে যাব, কেন যাব না। নিশ্চয় যাব। ছোটনের ছেলেটা সবে একমাস। আর একটু বড় হোক, ওকে ছেড়ে যাই কেমন করে বল! বউমার তো সিজার হয়েছে তুই জানিস, ছোট্ট বাচ্চা।
এখানে এখন সিজার বন্ধই একরকম।

পামেলার নর্মাল ডেলিভারি, মা এসেছিল তখন। আবার আসবে মা, থাকবে কিছুদিন এসে। একেবারে থাকবে না। কেন, মা থাকবে না কেন! দেখো, আমি পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশে থাকি। এখানে বাতাসে ধোঁয়া নেই, ঘাম নেই, কোলাহল নেই ধুলো-বালি নেই। সব কিছু সুন্দর সব পরিষ্কার। সব ভালো মা, সব ভালো শুধু তোমাকে বলা হয়নি, আমি ভালো নেই মা, ভালো নেই। আমি আর কখনও ভালো হবও না। পা ভেঙেছে সে কথা বলেছি কিন্তু প্যারালাইজড— হয়তো আর কখনও— । বুকের ভেতর একঘেঁয়ে মোচড়ানো ব্যথা।

কতক্ষণ সময় পার হয়ে গেল কে জানে, হয়তো অনন্তকাল। পামেলা নেই, বার্বি নেই। একা শূন্য ঘর। জানলা দরজা সব বন্ধ। কোথাও কোনও শব্দ নেই। শুধু রুম হিটারের সাঁ সাঁ। ঘড়ি দেখল অংশু। এগারোটা পনেরো বাজে। হিসাব করল, পামেলা আর বার্বি বেরিয়েছে ঠিক ন’টা দশ-এ। ও ঘুমিয়েছে একঘণ্টা পঞ্চাশ মিনিট। তারপর বাথরুমে দশ মিনিট। পাঁচ মিনিট ধরে বসে আছে বিছানায়। ঘড়িটা দেখল। কোনও আওয়াজ নেই। দুটো বিন্দু ভ্যানিস হয়ে যাচ্ছে আবার পরক্ষণেই ফুটে উঠছে ডিজিটাল স্ক্রিনে। ছোটবেলার সেই দেওয়াল ঘড়িটার জন্য মন কেমন করে উঠল। বড় বড় করে রোমান হরফে লেখা এক দুই তিন। নীচে একটা গোল পেন্ডুলাম। অবিরাম দুলছে টিক টিক। ও চোখ বন্ধ করে শোনার চেষ্টা করল। সেই সুদূর অতীত থেকে ভেসে আসছে একটা ব্যস্ততা, টিক঩ টিক। ইচ্ছা করত, ঘড়ির কাঁটা ধরে ঝুলে পড়ে। কতবার ভেবেছে, ভাবতে ভাবতে নিজেই পেন্ডুলাম হয়ে গেছে। হাঁ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে পরে দুলতে শুরু করত। পেছন থেকে দাদা এসে মারত এক চাঁটি। তারপর দৌড়ে ছুটে পালাত। ও ছুটত পেছনে। বারান্দায় জল পড়েছিল। পা পিছলে দাড়াম। কনুই কেটে দরদর করে রক্ত। মা ব্যস্ত হয়ে পড়ল, কোথায় অ্যান্টিসেফটিক—। উঃ সেই ডেটল দেখলেই ভয়, যেমন জ্বলুনি তেমন বিচ্ছিরি গন্ধ। মা বলেছিল, কিচ্ছু হবে না ফু ফু।
মা, মাগো। চোখে হঠাৎ কোথা থেকে জল চলে এল। সারাটা দিন কী করে অংশু! অফিসের ব্যস্ততা নেই, বন্ধুদের সঙ্গে উইকএন্ড পার্টি নেই, ঘরে পামেলাকে সাহায্য করা নেই। নিজেকে রেফ্রিজারেটরে বন্দি ফিস মনে হচ্ছে। হে ফিসস টাই টাই ফিসসস।

কোনওরকমে কোমরে ভর দিয়ে উঠে কফি ঢেলে নিল কাপে। ব্ল্যাক কফি। চুমুক দিয়ে গলা ভেজাল। কফির গন্ধ চিরকালই খুব ভালো লাগে ওর। সেবার বাবা কফি নিয়ে এসেছিল, অংশু তখন অনেক ছোট। দুপুরে চুপিচুপি করে রান্নাঘরে গিয়ে হাতে ঢেলে নিয়েছিল অনেকটা। তারপর এত্ত বড় জিভ বের করে চেটে নেওয়া, যতটা পারে একবারে। ছিঃ, থুঃ থুঃ! পেছনে কখন এসে দাঁড়িয়েছিল ছোটন আর দাদা, ওদের সে কী হাসি হো হো হো। স্বাদটা যেন ফিরে এল মুখে। নামিয়ে রাখল কাপ। ডাইনিংয়ে বিয়ার আছে। নিতে ইচ্ছা করছে কিন্তু ফ্রিজ অবধি যাওয়াই তো বিড়ম্বনা। দু’চুমুক খেলে— ও হাত দিয়ে ক্রাচটা টেনে নিল। আর একটা টানতেই এটা গড়িয়ে পড়ে গেল। যাহ, এটা তোলা আর সম্ভব নয়। একটা পা ভাঙা আর একটা প্যারালাইজড। ভাঙা পা-টা তবু প্রায় সবল কিন্তু অন্যটা! একেবারে পুরনো ন্যাকড়ার মতো। রাগে মাথা গন গন করতে শুরু করেছে। ইচ্ছা করছে হাতে ধরা ক্রাচটা দিয়ে সব ভেঙে চুরমার করে দেয়। কফি পট, টেবিল, টিভি যা যা যতকিছু সব। প্রচণ্ড রাগে তেড়ে উঠতে যায় অংশু কিন্তু সেটাও পারে না। উহ! মুঠো করা হাত বিছানায় ছুঁড়ে মারে। হাতের ঘড়িতে চোখ চলে যায় অজান্তে। মাত্র সাত মিনিট পার করেছে শেষ দেখার পর থেকে। ঘড়ির কাঁটায় মেদ, চলতেই পারে না। কখন ফিরে আসবে পামেলা, কখন ফিরবে বার্বি। মোবাইল অন করল। স্ক্রিনে ভেসে উঠছে সমস্ত পরিচিত লোকদের অফিসের ব্যস্ত মুহূর্তের ছবি। এরকম তো হয় না! সকলে সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেদের অব্যস্ত মুহূর্ত পোস্ট করে, একাকিত্বের নিজস্বী, দল বেঁধে হুল্লোড় অথবা নির্জন কবিতা। কিন্তু আজ সকলেই পোস্ট করেছে কর্মব্যস্ত যাপনচিত্র। প্রথম জন বসের কাছে যেতে যেতে সেলফি। অন্যজন প্রমোশন পেলাম। তৃতীয়জন ভাইটাল মিটিং চলছে। চতুর্থ, পঞ্চম—

মোবাইল ছুঁড়ে ফেলে দেয় অংশুমান। এই তো সেদিনও ভাবছিল, সময়ের সঙ্গে দৌড়ে পারা যাচ্ছে না। আর আজ সকলেই ব্যস্ত শুধু ও ছাড়া। সময় যেন বালির বস্তা পায়ে বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে ওর বন্ধ ঘরে। মাত্র দুই মিনিট পার হয়েছে। প্রতিদিন ভাবে আর ঘড়ি দেখবে না। কিন্তু সেই চলেই যায় চোখ। বারবার দেখতে দেখতে চোখ ব্যথা করে ঘাড় দপ দপ করে। ঘড়ি খুলে রেখে দেয় বালিশের তলে। ছুঁড়ে ফেলে দিতে চায়। আবার তোলে হাতে। মোবাইল, ঘড়ি, রিমোট বুকের উপর রাখে চোখ বন্ধ করে।

একটা শীতল স্পর্শে চমকে ওঠে অংশু। মা! মা! মা কখন এল! মায়ের ঠোঁটে সেই অকৃত্রিম হাসি, ছোটবেলার মতো। দুই হাত বাড়িয়ে ডাকে, আয় বাবা। অংশু অনায়াসে খাট থেকে নামে, মা হাত ধরে থাকে। অংশু হাঁটছে মায়ের হাত ধরে, হাঁটি হাঁটি পা পা। ঘর থেকে ডাইনিং। হিটার বন্ধ করে দিল অংশু। সব কটা জানলা খুলে দিয়েছে ও মায়ের হাত ধরে হেঁটে গিয়ে। বাইরে বরফগুলো গলে যাচ্ছে দ্রুত। 

ঘরময় বাতাস। ওলট পালট পর্দা। রোদ ঝলমল পরিষ্কার নীল আকাশ, মিষ্টি গন্ধ। মায়ের গায়ের গন্ধ। ছোট্ট বাচ্চার মতো মাকে জড়িয়ে ধরে মায়ের বুকে মাথা রাখে ও। মা ওকে খাটে ফিরিয়ে আনে। শুয়ে পড়ে ও। মা গায়ে চাদর ঢাকা দিয়ে তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। বলে, এখন শুয়ে পড়ো। কে বলেছে তোমার পা ঠিক হবে না। আমি প্রতিদিন তোমাকে হাঁটাব আর তুমি খুব শিগগিরি হাঁটবে। এমনকী দৌড়বে। অংশু চোখ বন্ধ করে, মা মাথার কাছে বসে। কতক্ষণ কে জানে, অংশু চোখ খুলতে পারে না। চোখ খুলে যদি মাকে দেখতে না পায়! অনুভব করে মাথায় মায়ের হাত বুলিয়ে দেওয়া। সুদূর থেকে ভেসে আসে পেন্ডুলামের টিক টিক। অংশু জোর করে চেপে রাখে চোখের পাতা। ঘরময় মিষ্টি গন্ধ, মায়ের গন্ধ।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top