Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ৪:২৩ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে গত বছরের তুলনায় আরও দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পর এবার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা চলতি বছরেই বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট শেষ পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়ে গ্যাসের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত : বিইআরসি নরসিংদীর ‘জঙ্গি আস্তানায়’ যৌথবাহীনির অভিযান সমাপ্ত  এই মুহূর্তে কোনও রাজবন্দি নাই, যারা আছে তারা সবাই অপরাধী : তথ্যমন্ত্রী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ছাড়া দুদক টিকবে না : দুর্নীতি দমন কমিশন নরসিংদীর 'জঙ্গি আস্তানা' থেকে দু'টি লাশ উদ্ধার, জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান ৮ হাজার রোহিঙ্গার প্রথম তালিকা যাচাই করে তথ্য স্বীকার করেছে মায়ানমার জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই : পানি সম্পদ মন্ত্রী

নরসিংদীর গণমানুষের নেতা ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী 


শাহ্ আলমগীর

আপডেট সময়: ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ ৫:৫২ পিএম:
নরসিংদীর গণমানুষের নেতা ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী 

বাংলাদেশ তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শওকত আলী সাহেব সম্পর্কে আংশিক অজানা কথা আমরা জেনেছিলাম ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের বড় মেয়ের করা একটি কমেন্ট থেকে। সেই জনপ্রিয় কমেন্টটির ২য় সংস্করণে আরো অনেক অজানা তথ্য যোগ করে এটিকে আরো মনোমুগ্ধকর করে পূর্ণাঙ্গ স্ট্যাটাসে রুপ দেন জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের মেয়ে শাহনাজ প্রধান। যে নেতা কোনদিন জানতে দেননি উনার জীবনের কথা। ঘটনা প্রবাহে তার মেয়ে শাহনাজ প্রধান তাঁর বাবার কিছু অব্যক্ত কথা একটি কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের সামনে তুলে ধরলেন। বাংলাদেশ তাঁতী লীগের গর্বিত কর্মী হিসেবে প্রিয় দেশবাসীর কাছে শাহনাজ প্রধান এর লিখাটি তুলে ধরলাম।

প্রিয় দেশবাসী, কিছু দিন আগে বাংলাদেশ তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সভাপতি জনাব ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী সাহেবকে নিয়ে আমার করা 'ঢাকা মহানগর উত্তর তাঁতী লীগ' এ একটি কমেন্ট প্রচুর জনপ্রিয়তা লাভ করেছে! একটি কমেন্ট এত জনপ্রিয় হতে পারে যা ভেবে আমি অবাক হয়ে যাই! তখন থেকেই হৃদয়ে তাগিদ অনুভব করেছি জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেব সম্পর্কে আরো একটু বিস্তারিত লিখার, সে মর্মে একটু সাংবাদিকতার ভাব নিয়ে জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে প্রশ্ন করলাম, 'আচ্ছা আপনি ১৯৮৮ সালে আলগী - গদাইচর রোডের খালের উপর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্রীজ তৈরী করেছিলেন, সেখানে সরকারি ফান্ড বা আপনার ফান্ড বা অন্য কারো ফান্ডের বিষয়ে প্লীজ একটু শুনতে ইচ্ছে করছে, আমি জানি এর কাহিনী, তবু প্রশ্ন করলাম ক্লিয়ার হতে'। তখন আমায় খুব সংক্ষিপ্তভাবে উনি বললেন, 'সরকারী ফান্ড ছিল না, আমি নিজে উদ্যোগ নিয়েছিলাম ব্রীজটি করার জন্য, কারন এ খালের উপর দিয়ে মানুষের যাতায়াতে খুব কষ্ট হত, তা দেখে আমি কষ্ট পেতাম, তাই আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে ব্রীজটি করতে চাইলে ঐ সময়ে আমার খুব কাছের বন্ধু নারায়ণগঞ্জের এমদাদ ভাই ব্রীজের ফান্ডটি দেন'। তখন আমি মনটা খুব খারাপ করে প্রশ্ন করলাম, 'আপনি কি ১লাখ টাকাও দেননি'? উনি বললেন, 'না, তবে এমদাদ ভাই না দিলে তো অন্য কারো থেকে কিছু ফান্ড নিয়ে এবং নিজে ফান্ড দিয়ে হলেও করতাম!' তখন মনটা খারাপ করে বললাম, 'ধ্যাৎ, আমার ভাল লাগছে না, আপনার ফান্ড থাকলে তো বলতে পারতাম যে, আমার আব্বাও টাকা দিছে!' আব্বা বললেন, 'তোর আব্বাইতো এটার উদ্যোগ নিল, টাকাতো দরকার লাগলে দিতামই, তোকে খুশী করার জন্য মিথ্যা করে বলতে পারব না যে এখানে আমার টাকাও ছিল! এখন মানুষ নিজ থেকে ব্রীজ করবে তো দূরের কথা, সরকারী টাকায় ব্রীজ বানিয়ে নিজের নাম ফুটিয়ে কত দুই নাম্বারী কাজ করে এবং টাকা খায়, আর উনি কতটা জনদরদী হলে নিজের' একার উদ্যোগে খালের উপর ব্রীজ বানিয়ে ফেলতে পারেন ভাবছি! উনি মাত্র ৩২/৩৩ বছর বয়সে নরসিংদী জেলার মুকুট মাধবদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং টানা তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বাবুরহাট হল বাংলাদেশের ১ নং বিখ্যাত কাপড়ের হাট। মাধবদী এবং শেখেরচর মিলেই বাবুরহাট তৈরী হয়। উল্লেখ্য যে, মাধবদীকে ‘প্রাচ্যের ম্যানচেষ্টার’ বলা হয়। 

উনি যেসব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তা সংক্ষেপে দেওয়া হল:
স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব:

(১) ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের হাত ধরেই মাধবদী পৌরসভা হয় এবং নবগঠিত পৌরসভার উনিই প্রথম প্রশাসক নিযুক্ত হন, উনাকে বলা হয় মাধবদীর পৌরপিতা। তিনবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এবং মাধবদী পৌরসভার প্রশাসক অর্থাৎ মাধবদীর ক্ষমতার কেন্দ্রস্থলে টানা ৪ টার্ম থাকেন! 
(২) চেয়ারম্যান, নরসিংদী ইউসিসিএ লিমিটেড (বিআরডিবি) ১৯৮৬ সাল হতে ৩ বৎসরের জন্য নির্বাচিত হন।
(৩) জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেব নরসিংদী জেলার ৭০ টি ইউনিয়নের সকল চেয়ারম্যানের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন, অর্থাৎ উনি নরসিংদী জেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। 

জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্বঃ
(১) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতি লিমিটেড, ১৯৯০ সাল হইতে ৩ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
(২) বাংলাদেশ তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি: সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল উনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এর স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সভাপতি ছিলেন। উনার কমিটি ভেঙ্গে ২০০৩ সালে বাংলাদেশ তাঁতী লীগকে সহযোগী সংগঠন করে আহবায়ক কমিটি করা হয়। আর তখন ইঞ্জিনিয়ার সাহেব হন বাংলাদেশ তাঁতী লীগের ১ নং সদস্য। দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশরত্ন বিশ্বনেতা যিনি বিশ্বের সৎ নেতাদের মধ্যে ৩য় স্থান লাভ করেন, মাদার অব হিউম্যানিটি শেখ হাসিনা ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী সাহেবকে পূনরায় সভাপতি নির্বাচিত করেন। মানে দেশনেত্রী সাবেক সভাপতিকেই পূণরায় সভাপতির দায়িত্বে নিয়োজিত করেন। অর্থাৎ উনার পর দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অন্য কাউকেই আর সভাপতি করেননি, করেছেন আহবায়ক কমিটির ইঞ্জিনিয়ার শওকত সাহেবকেই পুনরায় সভাপতি বানিয়ে সম্মানিত করেন। ২০০২ এবং ২০০৩ সালের শুরুর দিকে তাঁতী লীগ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছিল না, কিন্তু জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেব তখন তাঁতী লীগকে সংগঠিত করতে নিজের পকেটের টাকা দু’হাতে খরচ করে সংগঠনটিকে দাঁড় করিয়েছেন!
(৩) সদস্য, বাংলাদেশ কৃষক লীগ: তিনি বাংলাদেশ কৃষক লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক দায়িত্বঃ
(১) সহ সভাপতি, নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগ, ১৮/১২/২০০৩ ইং সাল হইতে এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
(২) সাবেক সহ সভাপতিঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, নরসিংদী সদর উপজেলা। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। 
(৩) তিনি ছাত্র রাজনীতি করে এসেছেন। উনার রাজনৈতিক গুরুর নাম বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর নরসিংদী সদর আসনের প্রয়াত এমপি জনাব আলহাজ্ব মোসলেহ উদ্দীন ভূঁইয়া। উনার গুরু সম্পর্কে উনি বলেন, প্রয়াত এমপি জনাব আলহাজ্ব মোসলেহ উদ্দীন ভূঁইয়া একজন কর্মী-বান্ধব নেতা ছিলেন, সকল সময় কর্মীদের খবর রাখতেন, এবং খুব সৎ ছিলেন। তিনি জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।

সামাজিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব:
(১) প্রেসিডেন্ট, মানবাধিকার কাউন্সিল, নরসিংদী জেলা।
(২) সভাপতি, মাধবদী জামেয়া-ই-এমদাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, মাধবদী, নরসিংদী।
(৩) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উপদেষ্টা, মাধবদী প্রেস ক্লাব, মাধবদী, নরসিংদী।
(৪) প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উপদেষ্টা, মাধবদী রিপোর্টার্স ক্লাব, মাধবদী, নরসিংদী।
(৫) দাতা সদস্য, মাধবদী মহাবিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ।
(৬) আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি।
এছাড়া অতীতে আরো অনেক অনেক সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যবসায়ী সংগঠনের দায়িত্ব পালনঃ
(১) প্রেসিডেন্ট, মাধবদী ইয়ার্ণ মার্চেন্ট এসোসিয়েশন, মাধবদী, নরসিংদী। এবং মাধবদীর মার্চেন্ট এসোসিয়েশনে টানা ৩৩ বছর নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে ব্যবসায়ীদের সেবা করে গেছেন। অবশ্য এইবার মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের নির্বাচন তিনি নির্বাচন করেননি, করেছেন ওনার একমাত্র পুত্র জনাব আশরাফুল ইসলাম (বিপ্লব)। তিনিও সম্মানজনক পজিশনে পাশ করে মাধবদী মার্চেন্ট এসোশিয়েশনের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকাঃ
(১) তিনি ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে নরসিংদী ও মাধবধীতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।
(২) ১৯৭০ এর জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের জন্য অত্যন্ত জোরালোভাবে কাজ করেন।
(৩) জনাব ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী সাহেব ছিলেন একজন ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তবে উনি এখনও আক্ষেপ করেন, 'ঐ সময়ে ইন্ডিয়া গিয়ে ট্রেনিং নিতে পারেননি বলে। তিনি ট্রেনিং নিয়েছিলেন দেশেই।' যুদ্ধের আগেই জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের বাবা অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন, ছাত্র হলেও উনি বড় সন্তান হওয়ার কারনে সংসারের ভার ছিল জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের উপরই, এতগুলি ছোট ছোট ভাই বোন সহ প্রায় ১০/১২ জন সদস্যের পরিবার, তারপরও তিনি মুক্তিযোদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের খরচের জন্য কয়েকটি গ্রুপের মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সমন্বয় করে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার জনাব মোঃ মনির সাহেবের কাছে সেই সময়ের ছয় হাজার টাকা দিয়েছিলেন। 
(৪) ১৯৮২-১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
(৫) ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামাত-বিএনপি জোট সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে নিজ এলাকায় এবং ঢাকার রাজপথে হরতাল, অবরোধ, মিছিল, মিটিং করে গেছেন।
(৬) আওয়ামীলীগের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি নিজে শুধু অগ্রণী ভূমিকাই পালন করেননি, টাকা পয়সা প্রদান সহ সকল ধরনের সহযোগীতা করে কর্মীদের আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। 
(৭) আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা যতবার সাংগঠনিক সফরে নরসিংদী এসেছেন বা সিলেট যাওয়ার পথে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব সম্পূর্ণ নিজ খরচে তাদের আপ্যায়ন করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সবসময় আসা যাওয়া ছিল ওনার বাড়িতে আর সেটা আওয়ামীলীগ সরকারী দল এবং বিরোধী দলে থাকা দুই অবস্থায়ই। কেন্দ্রীয় নেতারা যাত্রাপথে রেস্ট নিতেও ওনার বাড়ি এসেছেন এবং জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেব অত্যন্ত ভালবাসায় তাদের আপ্যায়ন করেছেন, এজন্য, আওয়ামী লীগের সকল কেন্দ্রীয় নেতারাই বলেন, জনাব শওকত ইঞ্জিনিয়ার সাহেব হলেন অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ মানুষ। এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনা আমার মনে পড়ছে। একবার আওয়ামীলীগের কিছু মহিলা নেত্রী রাতের বেলায় মাধবদীর অদূরে দুর্ঘটনায় পতিত হন। তাদের দুর্ঘটনার খবর শুনে আব্বা যারপর নাই ঘাবড়ে যান এবং তাদের সম্মানের সাথে আমাদের বাড়ি আনতে লোক পাঠান। ঐ রাতে নেত্রীরা আমাদের বাড়িতেই ছিলেন। আমাদের বাড়িতে সবসময়ই নাইট গার্ড থাকে, সেদিনও ছিল, তারপরও আব্বা তাদের নিরাপত্তা জোরদার করতে তাদের জন্য এক্সট্রা গার্ড নিযুক্ত করেন। সেদিন যারা ছিলেন আমাদের বাড়িতে, তারা হলেন আওয়ামী মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সম্মানিত সভাপতি সাফিয়া খাতুন ম্যাডাম, সম্মানিত এমপি ইন্দিরা ম্যাডাম সহ আরো কয়েক জন।

কন্যা হিসেবে আমার চোখে জনাব ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী সাহেবের জীবনের প্রধান ভুলঃ
বিএনপির প্রয়াত এমপি জনাব সামসুদ্দীন আহমেদ এছহাক সাহেব মৃত্যুর পর নরসিংদী সদর আসনটি শূণ্য হয়। তখন বিএনপি থেকে নরসিংদী সদর আসনে মনোনয়ন দেয় ডাকসুর সাবেক জিএস জনাব খায়রুল কবীর খোকনকে, যিনি বর্তমানে বিএনপির জয়েন্ট সেক্রেটারী। ঐ সময় জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেব স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। কিন্তু আওয়ামীলীগ বিএনপির অধীনে সকল প্রকার নির্বাচন বর্জন করেন। তাই আব্বা স্বতন্ত্র থেকেও প্রার্থী হউক তা আওয়ামীলীগ চায়নি, সেজন্য তৎকালীন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী জনাব আব্দুল জলিল সহ প্রায় সকল কেন্দ্রীয় নেতারা এবং নরসিংদী জেলার রায়পুরার এমপি ও আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য জনাব রাজিউদ্দীন রাজু সাহেব আব্বাকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে বলেন। অবশেষে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন তিনি প্রত্যাহার করে নেন। 

'যদি মরার আগে শওকত আলীরে এমপির জন্য একটা ভোট দিয়ে মরতে পারতাম!'

আমি মন থেকে চাইনি আব্বা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করুক, কারন, আমার মনে হয়েছিল এটাই একটা সুযোগ, এই এলাকার মানুষের আশা পুরণের, এই দক্ষিণাঞ্চল থেকে কখনো কেউ এমপি হননি! আমি ছোট থেকেই দেখেছি এই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ চায় আব্বা এমপি হউক। বৃদ্ধ মানুষদের বলতে শুনেছি, 'যদি মরার আগে শওকত আলীরে এমপির জন্য একটা ভোট দিয়ে মরতে পারতাম!' 

ইঞ্জিনিয়ার ভাই এমপি ইলেকশনের কাগজ উডাইয়া লইছে, এই শোকে বুরজু কাকার হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু:
কোতালী চরের বুরজু কাকাকে ছোট থেকে দেখেছি আব্বার খুব ভক্ত! আব্বার সাথে ছায়ার মতো লেগে থাকতেন। উনার ভাই মানে আব্বা এমপি হবে, তাই প্রার্থী হওয়ার পেপার্স সাবমিটের দিন খুব খুশীতে উনি আব্বার সাথে গিয়েছিলেন। যেদিন আব্বা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন সেদিন উনার ওয়াইফকে খুবই মন খারাপ করে উনি বললেন, 'ভাই নাকি ইলেকশন করত না, ইলেকশনের কাগজ উডাইয়া লাইছে, ভাই নির্বাচন করলে হাসিনা আপায় রাগ করবো, তাই ভাই বইয়া গেল!' এরপর তেমন কোন কথাই নাকি আর বলেননি। সেদিনই উনি হার্ট এ্যাটাকে মারা গেলেন! আমি খুব কেঁদেছিলাম, কারণ আমার কেন যেন মনে হয়েছিল আব্বাকে এমপি হিসাবে দেখতে পাবেন না, এটা উনি মানতে পারেননি তাই হার্ট এ্যাটাক করেছেন, এ কথাটা লিখার সময়ও আমার চোখে পানি চলে আসছে। আসলে ঐ সময়ে উপনির্বাচন না করাটা আমার চোখে ভুল হলেও, জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেব মনে করেন তিনি সঠিক কাজ করেছেন কারণ তিনি নেত্রীর অবাধ্য হননি।

ইঞ্জিনিয়ার সাহেব নরসিংদীতে জনপ্রিয়তার শীর্ষে:
ছোটবেলা থেকে দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়নগুলোতে আমরা বেড়াতে গেলে দেখেছি যে, ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের সন্তান হওয়ার কারণে আমাদের দেখতে শত শত লোকের ভীড় জমে যেত। এবং ইঞ্জিনিয়ার সাহেব সকল সময় নরসিংদী জেলায় স্বনামধন্য ব্যক্তি। এবং ছোট সময় থেকেই দেখেছি যে, উনি শুধু নরসিংদী জেলায় নয়, নরসিংদী জেলার আশেপাশের জেলাগুলোতেও খুব জনপ্রিয়। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব টানা চারবার এমপি প্রার্থীতার জন্য নমিনেশন চেয়েছেন, প্রতিবারই জনপ্রিয়তায় তিনিই ছিলেন শীর্ষে। লাস্ট চেয়েছিলেন ২০০৮ সালে। তখন দলীয় মনোনয়নে তৃণমূল পর্যায়ে ৫ জনের তালিকায় ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের নাম ২য় ছিল, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নমিনেশন চাননি। কেন চাননি প্রশ্ন করায় বললেন, 'কাউকে নাকি কথা দিয়েছেন উনি নমিনেশন চাইবেন না, তাই চাননি!”'আমি আবারো বললাম, 'আপনার কি কথা রাখা শেষ হয়েছে? নাকি আজীবনের জন্য কথা দিছেন যে, আর নমিনেশন চাইবেন না? এটা বলেন' উনি বললেন! 'এই মেয়ে এত কথা বলছো কেন? ইলেকশন করা বড়, নাকি দলের জন্য দেশের জন্য কাজ করাটা বড়?' আমি বললাম, 'আমাদের হৃদয়ের চাওয়া হল আপনি নমিনেশন চান, আর আপনি যদি আপনার সন্তানদের মনের ইচ্ছা ভাঙ্গেন, তবে ভাঙ্গেন, আপনি দেশ ও মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ, আপনি এমপি হলে নরসিংদীর মানুষ অনেক উপকৃত হবে, এই দেশ উপকৃত হবে।' উনি বলেন, 'উনি দলের জন্য, দেশের জন্য কাজ করতে চান, উনি নির্বাচন নিয়ে ভাবতে রাজী না, আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবই জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বাহিরে উনার কোন ইচ্ছা নাই।' নরসিংদী উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে নরসিংদী সদর আসন। দক্ষিণাঞ্চলে মানে জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের এলাকায়ই ভোট বেশী আর স্বাধীনতার পর থেকে এই দক্ষিণাঞ্চলের সব চেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিটি হলেন জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেব। এখানকার মানুষ ভালবেসে উনাকে 'নরসিংদীর সিংহপুরুষ' বলেন। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব বলতে গেলে বহু বছর ধরে এই দক্ষিণাঞ্চলের একক নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। 

কিংবদন্তীতুল্য সততার জীবন্ত প্রতীক শওকত ইঞ্জিনিয়ার:
জনাব ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী উনার জীবনে কোন দিন একটাকা ঘুষ খাননি, আর এ কথা উনি জনসভায় দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ করে বলেন। এমনকি উনি কারো জন্য কোন কাজ করে দেওয়ার পর ঐ লোক যদি খুশী হয়ে এক প্যাকেট মিষ্টিও আনে, তখন উনি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে যান। এতে করে দেখা যায় উনার উপকার পেয়েও লোকটি পরবর্তীতে উনার শত্রু হয়ে গেছে এমন নজির আছে! আমরা আব্বাকে বলি যে, 'আপনাকে কেউ টাকা বা দামী জিনিস দেয়নি, খুশী হয়ে কেউ সামান্য মিষ্টি দিলেও এমন করতে হয়!' আব্বার কথা হল, 'কাজ করার আগে বা পরে কেউ খাবার দিলে নিবে না, অন্য সময় ভালবেসে কেউ কিছু খাওয়ালে খাবে।' তিনি অত্যন্ত ধর্মভীরু মানুষ এবং সাতবার হজ্ব করেছেন।

মিডিয়াবিমূখ ও প্রচারবিমূখ শওকত ইঞ্জিনিয়ার:
তিনি সকল সময় মিডিয়াবিমূখ মানুষ। সাংবাদিক ভাইরা ম্যাসেজে আমাকে বলেন, 'আপনার বাবা আমাদের সাথে বসতে চান না! খালি বলেন, পরে পরে।' আসলে এটা ওনার আজীবনের রোগ! আমি সেটা আগেও বলেছি যে, উনি কাজ করেন ঠিকই, কিন্তু নামের পিছনে ছুটেন না। মাধবদীর ক্ষমতায় সবচেয়ে বেশী সময় তিনিই ছিলেন এবং এলাকার উন্নয়নের সিংহভাগই উনিই করে গেছেন। কিন্তু একটা রাস্তার নামও নিজের নামে করেননি। নিজ উদ্যোগে কত রাস্তা ঘাটের মেরামতের কাজ করেছেন, দুস্থ ছাত্রছাত্রীদের জন্য শওকত আলী ফাউন্ডেশন থেকে থেকে বিনামূল্যে বই দিয়েছেন। কত স্কুলে মেধাবীদের জন্য বৃত্তি প্রদান করেছেন! এলাকার মাদকাসক্ত যুবকদের নিজ খরচে চিকিৎসা করিয়েছেন। মসজিদ, মাদ্রাসায় রেগুলার অনুদান দিয়েই গেছেন ও যাচ্ছেন। আমাদের গ্রামের ঈদগাহ্ ছোট হওয়ার কারণে ঈদের নামাজ পড়তে সমস্যা হত, এ সমস্যা লাঘবে জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেব ১৫ শতাংশ জায়গা দিয়েছেন, বলাবাহুল্য এই ঈদগাহটি মাধবদী পৌরসভার ব্যবসায়িক এলাকায় অবস্থিত।

সেবাসংঘ ও মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠায় ইঞ্জিনিয়ার শওকত সাহেবের অবদান:
জনাব ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী সাহেবের নেতৃত্বেই মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটি প্রতিষ্ঠা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশকে নতুন ভাবে গড়ার জন্য মাধবদীর দেশপ্রেমিক তরুণরাও উদ্যোগী হন। সে লক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ার সাহেব মাধবদীতে প্রথম একটি সংগঠন করেন। সেটির নাম ছিল সেবাসংঘ, এবং এটি অল্প সময়ে খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে। সেবাসংঘের সভাপতি ছিলেন জনাব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শওকত আলী সাহেব। এই সেবাসংঘের উদ্যোগেই মাধবদীর প্রথম কলেজটি তৈরী হয়। হঠাৎ করেই ইঞ্জিনিয়ার সাহেব কলেজের ব্যাপারে সেবাসংঘের তরুণদের সাথে আলোচনা করেই তখনকার এমপি জনাব মোসলেহ উদ্দীন ভূঁইয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। মোসলেহ উদ্দীন ভূঁইয়া আশ্বস্ত করার পর ইঞ্জিনিয়ার সাহেবেরা তরিঘড়ি করে কয়েকজন ছাত্র জোগাড় করে, একটি চেয়ার ও একটি টেবিল রেখে হঠাৎ করেই জনাব জয়নাল প্রিন্সিপাল স্যারকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে চেয়ার টেবিলে বসিয়ে বলেন, আপনি হলেন আমাদের স্যার, আর এটা হল কলেজ! এভাবেই হয় কলেজটির প্রতিষ্ঠা। আর জনাব আলহাজ্ব মোসলেহ উদ্দীন ভূঁইয়া এমপি সাহেব হয়েছিলেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। কলেজটি ঐ সময়ে আরো যেসব যুবকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তৈরী হয় তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে যার নাম তিনি হলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, জনাব সফিউদ্দীন (সাফি) তিনিও পরে মাধবদীর চেয়ারম্যান এবং মেয়রও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারপর বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মৃত জনাব মোঃ আতাউল্লা (তিনি মেম্বার ও কমিশনার হয়েছিলেন)। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মৃত জনাব মোঃ মোসলেম উদ্দীন, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মৃত জনাব মোঃ সিরাজ উদ্দীন (বাড়ি নওপাড়া), বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোঃ আবু সাঈদ মিয়া (চৌড়াবাড়ি), বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মৃত জনাব আহমেদ, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মৃত জনাব মোঃ মোখলেস উদ্দীন। আরো সহযোগিতায় ছিলেন, মৃত জনাব আলহাজ্ব লোকমান হোসেন প্রধান সাহেব এবং জনাব আলহাজ্ব সফর আলী ভূঁইয়া সাহেব। উনারা দুজন বড় ভাই হিসেবে উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন। পরবর্তীতে জনাব ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শওকত আলী সাহেবের নেতৃত্বে মাধবদী কলেজটি ডিগ্রী কলেজে উন্নীত হয়। আর এ বিষয়ে সব চেয়ে বেশী যিনি সহযোগিতা করেন তিনি হলেন নরসিংদীর তৎকালীন ডিসি জনাব রেজা-ই-রাব্বী সাহেব। জনাব জয়নাল প্রিন্সিপাল স্যার কলেজটিকে ডিগ্রী কলেজ করতে সম্মতি দেননি, আর এ বিষয়টি মিমাংসা হয় ডিসি সাহেবের হস্তক্ষেপে। পরবর্তীতে মাধবদী কলেজ পাঠাগারটির নামকরণ করা হয়েছিল, ‘রেজা-ই-রাব্বী পাঠাগার’ অর্থাৎ ডিসি সাহেবের নাম অনুসারে। এখন মাধবদী মহাবিদ্যালয় কলেজটি মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রুপান্তরিত হয়েছে এবং লেখাপড়ার মান বেড়েছে। এখন কলেজটির বর্তমান সভাপতি হলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব নজরুল ইসলাম হিরু এমপি (বীর প্রতীক) সাহেব।

ইরাক হতে আসা ধর্মপ্রচারক বংশের ইঞ্জিনিয়ার সাহেব হয়ে রইলেন তাঁতীর ঘরের তাঁতী:
ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের বাবা হাজ্বী আশ্রব আলী প্রধান ছিলেন একজন অবস্থাসম্পন্ন তাঁতী এবং গ্রামের মোড়ল। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব ছোটবেলায় পড়া ফাঁকি দিলে শাস্তি হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের বাবা ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে তাঁতে বসাতেন। উনি তখন এতই ছোট যে, তাঁতে বসলে উনি উপরে হাত দিয়ে নাগাল পেতেন না, তাই বসার নীচে বালিশ দিয়ে বসতেন, এবং তিনি একজন শ্রমিকের চেয়েও দক্ষতার সাথে তাঁত বুনতে পারতেন! মানে উনি হলেন তাঁতীর ঘরের তাঁতী! ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের বাবারও কাপড়ের ইন্ডাস্ট্রিজ ছিল, এবং অলওয়েজ উনারা কাপড় ব্যবসার সাথে জড়িত। বংশ পরম্পরায় উনারা প্রধান বংশ, সাথে শেখ। যা কেউ লিখে না, জনাব ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের পূর্বপুরুষ শত শত বছর আগে ধর্ম প্রচারের জন্য ইরাক থেকে এদেশে এসেছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের দাদার মোঃ ছাহাদ আলী প্রধান, উনার বড় বাবার নাম শেখ ধঞ্জি প্রধান, শেখ ধঞ্জি প্রধানের বাবার নাম শেখ স্যারে মামুন, শেখ স্যারে মামুনের বাবার নাম সম্ভবত (শেখ স্যারে মাসুদ, এই নামটির ব্যাপারে আমি পুরা সিওর না)। উনারা সকলেই বংশ পরম্পরায় গ্রাম পঞ্চায়েতের বিচারক ছিলেন। সাত পুরুষ ধরে উনাদের বংশ মোড়ল। উনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ৫ম স্ট্যান্ড করেছেন। অল্প সময়ের জন্য সরকারী চাকরীও করেছেন, ঘুষ এর অফার আসে বলে চাকরী ছেড়ে দিয়েছিলেন, উনার জীবনে কোন দিন ইনশাআল্লাহ্  একটাকাও ঘুষ খাননি, উনি সেটা জনসভায় দাঁড়িয়ে অলওয়েজ বলেন এবং চ্যালেঞ্জ করেন। উনার হাতেই মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রথম গেইটটি তৈরী করা হয়েছে। এত কথা এজন্য বললাম যে, 'উনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে বাংলাদেশ তাঁতী লীগের সভাপতি হয়েছেন', এমন একটি বিরূপ সমালোচনা আছে, দেশের অন্যান্য অংশে, সঠিক তথ্য না জানার কারনে। উনি চেয়ারম্যান হতে তাঁতী লীগের সভাপতি হননি, চেয়ারম্যান পদটি হল উনার খুব কম বয়সের একটা পদ! একজন প্রকৃত তাঁতী, তাঁতী লীগের প্রথম সভাপতিই পূণরায় বাংলাদেশ তাঁতীলীগের সভাপতি হয়েছেন।

অসহায় মানুষেরা ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের কাছে হলেন, 'আল্লাহর মেহমান':
ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের দানের হাত অতুলনীয় যা সকলে জানেন, নিজে কষ্ট করে মানুষকে দেন। কোন অসহায় মানুষ এলে যদি বলা হয়, “আব্বা বাড়ি নেই, তবে আমরা শেষ! আব্বা বলেন, এই অসহায় মানুষ আমার জন্য আল্লাহর মেহমান।“ আমার জানা মতে আব্বা প্রায় ৬০টি পরিবার দেখাশোনা করছেন রেগুলার। সম্ভবত: 'মাফ করো' কথাটা কাউকে বলা উনি শিখেননি। আমি দেখিনি খালি হাতে কোন অসহায় মানুষ আব্বার কাছ থেকে ফিরে গেছেন। আব্বা কখনোই বিলাসী জীবন যাপন করেননি, যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই করেছেন।

নোট: এই লেখাটির মূল তথ্যগুলি যার টাইমলাইন হতে সংগ্রহ করা তিনি ‘প্রিন্সেস অব মাধবদী’ হিসেবে কিশোর বয়স হতে পরিচিত বর্তমানে এটাকে প্রমোশন দিয়ে এখন লোকে ডাকে 'প্রিন্সেস অব নরসিংদী', যিনি ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের অন্যান্য সকল সন্তানের মতোই উচ্চশিক্ষিত, রাজনীতি সচেতন ও সাহিত্য-সংস্কৃতিসেবী!

 

শাহ্ আলমগীর, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৭, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top