Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৮:০২ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নির্বাচনি জোটের শরিক জাতীয় পাটি পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আজ  প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৩৮টি আসনের তালিকা তুলে দিয়েছেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী হেলমেট পরে হামলার নির্দেশ দিয়েছিল বিএনপি নেতারা সেই তৃতীয় শক্তির নেতারা আজ কে কোথায় ?  বিদ্যুৎ খাতে দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিদেশি টিভি চ্যানেলে দেশিপণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের নির্দেশ অধিকাংশ ইসলামী দলগুলি ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের সঙ্গে | প্রজন্মকণ্ঠ গত পাঁচ বছরে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে আ'লীগ সরকার | প্রজন্মকণ্ঠ #মি টু ঝড় এখন বাংলাদেশে 

টাঙ্গাইলে সরকারি উচ্চ পদে আসীন ১৫ কর্মকর্তাই নারী


মোস্তফা কামাল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

আপডেট সময়: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ ২:৪১ পিএম:
টাঙ্গাইলে সরকারি উচ্চ পদে আসীন ১৫ কর্মকর্তাই নারী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের অংশীদার যেন আজকের বাংলাদেশের নারীরা। প্রশাসনের শীর্ষপদে থেকে নারীদের সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে অনূকরণীয়। নারীর জাগরণ আমাদের আমাদের সু-শিক্ষা ও সুষম উন্নয়নসহ সকল প্রকার উন্নয়নে ধাবিত হওয়ারই অংশ। মুক্তিযুদ্ধ, রাজনীতি ও সংস্কৃতিসহ নানা কারণেই বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী জেলা টাঙ্গাইল। এই জেলার ১২ উপজেলার ৯টিতেই নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ৬টিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। বিষয়টি নিয়ে টাঙ্গাইলে আছে ইতিবাচক আলোচনা।

এ ছাড়া র‌্যাব-১২ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের কমান্ডার হিসেবে দাপটের সঙ্গে দায়িত্বপালনকারী বীণা রানী দাস নামের এক নারী সম্প্রতি বদলি হয়েছেন। তিনি ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় (পুলিশ) উত্তীর্ণ হন। বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। বীণা রানী দাস টাঙ্গাইলে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছেন।

ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে দায়িত্ব পালন করছেন ৩০তম বিসিএসে উত্তীর্ণ আরিফা সিদ্দিকা। তার বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায়। তিনি ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। মধুপুর উপজেলায় এসিল্যান্ড হিসেবে আছেন ৩১তম বিসিএসে উত্তীর্ণ সিফাত-ই-জাহান। তার বাড়ি দিনাজপুরের কাহারোলে। তিনি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে মে মাস থেকে আছেন ২৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ দিলরুবা শারমীন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ব বিদ্যালয়ে ইংরেজিতে লেখাপড়া করেছেন। ঘাটাইলে এসিল্যান্ড হিসেবে ফেব্রুয়ারি থেকে আছেন পাবনা সদরের মেয়ে আম্বিয়া সুলতানা। তিনি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে লেখাপড়া শেষ করে ৩১তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হন। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন ২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার। তিনি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার উথুরায়। শাহীনা আক্তার ঘাটাইলের এসিল্যান্ড ছিলেন। কালিহাতীর মানুষের অন্তরে স্থান করে নেওয়া সদ্য বিদায়ী ইউএনও আবু নাসারউদ্দিনের স্থলাভিসিক্ত হয়েছেন তিনি। কালিহাতীতে এসিল্যান্ড পদেও দায়িত্ব পালন করছেন নাফিসা আক্তার নামের আরেক নারী। তিনি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগে লেখাপড়া শেষ করে ৩১তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের তারুয়া এলাকায়। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ইউএনও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মেয়ে জিনাত জাহান। তিনি ২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ।

রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী অতীব গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর। এখানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে ইউএনও হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ইশরাত সাদমীন। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করে ২৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকার পৌর এলাকায়। ইশরাত সাদমীন বাল্যবিবাহ বন্ধ ও জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। শিল্প কারখানা নির্ভর বাণিজ্যিক এলাকা মির্জাপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজে তার সাফল্য ঈর্ষণীয়। এজন্য তিনি টাঙ্গাইল জেলার ‘শ্রেষ্ঠ ইউএনও’ নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে কালিহাতীর এসিল্যান্ড থাকাকালীন সময়ে ইশরাত সাদমীন প্রচন্ড ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে গভীর রাতে দুর্গম চরাঞ্চলে এক মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিষয়টি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তিনি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের এনডিসি ও আরডিসি পদে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। জানা যায় ইশরাত সাদমীন কিছুদিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন।

সখীপুরের ইউএনও এবং এসিল্যান্ড দুজনই নারী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন পাবনা ভাঙ্গুড়ার মেয়ে মৌসুমী সরকার রাখী। তিনি রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ে ইংরেজিতে লেখাপড়া করেছেন। ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সখীপুরের এসিল্যান্ডের নাম আয়েশা জান্নাত তাহেরা। তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষা পাস করেন। বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায়।

বাসাইল উপজেলার ইউএনও হচ্ছেন জামালপুর সদরের পাথালিয়ার মেয়ে শামছুন নাহান স্বপ্না। তিনি ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই নারী এর আগে ধনবাড়ীর এসিল্যান্ড ছিলেন।

বাসাইলে এসিল্যান্ড হিসেবে অক্টোবর মাসে যোগদান করেছেন ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ উম্মে কুলসুম সম্পা। ময়মনসিংহ সদরের এই মেয়ে ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। দেলদুয়ার উপজেলায় গত ৬ ডিসেম্বর ইউএনও হিসেবে যোগদান করেছেন ৩০তম বিসিএসে উত্তীর্ণ সাবিনা ইয়াসমনি। তার বাড়ি ভোলা জেলায়। দেলদুয়ারের এসিল্যান্ড হিসেবে সেপ্টেম্বর থেকে আছেন ৩১তম বিসিএস ক্যাডার আখতারুন্নেসা। বাড়ি নাটোরের সদর উপজেলায়। লেখাপড়া করেছেন রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে। নাগরপুরের ইউএনও হচ্ছেন ২৭তম বিসিএ ক্যাডার আসমা শাহীন। ঢাকার উত্তরার এই মেয়ে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

টাঙ্গাইলের এই নারী কর্মকর্তারা সফলতার সঙ্গে উপজেলার সব বিভাগের কাজকর্মের সমন্বয় ও তদারকি, জেলার সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়নমূলক কর্মকা-তদারকি-বাস্তবায়ন, মাদক নির্মূল, ইভটিজিং প্রতিরোধ, শিক্ষার উন্নতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ তৃণমূলের নানা কাজ দক্ষতার সঙ্গে প্রতিনিয়তই সম্পন্ন করছেন।
এ প্রসঙ্গে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত সাদমীন আমাদের সময়কে বলেন, আমি নারী না পুরুষ সেটা বড় কথা নয়। আমার পদের দায়িত্ব এবং দেশের প্রতি মমত্ববোধই কাজ করতে আমাকে তাগিদ দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন নারী হয়ে যদি সুন্দরভাবে দেশ চালাতে পারেন, তা হলে আমরা নারী হয়ে অবশ্যই এই দায়িত্ব পালন করতে পারব।

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী সরকার রাখী বলেন, প্রশাসনে তৃণমূল পর্যায়ে এখন নারীদের কর্মক্ষেত্র ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। কাজের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছা ও মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কাজ করলে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা পাওয়া যায়।

কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম অঙ্গীকার নারীর ক্ষমতায়ন। জেলার গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদে নারীরা রয়েছেন এটা আমাদের অহংকার। আমার উপজেলায় ইউএনও এবং এসিল্যান্ড দুজনই নারী। তৃণমূলে অনেক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে আমি কাজ করেছি এবং করছি। নারীরা পুরুষের চেয়ে কোনো অংশেই কম নন, তার প্রমাণ তারাই দিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমীন বলেন, আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাই তাদের বাদ দিয়ে জাতি ও সমাজের উন্নয়ন কখনই সম্ভব নয়। টাঙ্গাইলের ১২ উপজেলায় ৯ জন নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ৬ জন এসিল্যান্ড নারী সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এটা নারীর জাগরণ ও দেশের উন্নতিরই প্রমাণ। পুরুষদের তুলনায় নারীদের সাফল্য অর্জনে একটু বেশিই পরিশ্রম করতে হয়। কারণ তাদের স্ত্রী, মা-বোনের দায়িত্বও পালন করতে হয়। তাই আমাদের উচিত নারীদের ইতিবাচক চোখে দেখা এবং সহায়তা করা।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top