Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৮ , সময়- ৪:৫৩ অপরাহ্ন
Total Visitor:
শিরোনাম
বিএনপির জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে : মওদুদ ইজতেমা ময়দানের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত এক বছর পূর্তিতে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে ডোনাণ্ড ট্রাম্প প্রশাসন  নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা নিহিত ১ শিশুমনে নাশকতার বীজ ঢুকিয়ে দিতে পারছে জঙ্গিরা  হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে জিম্বাবুয়ের বিরোধী নেতা ও তার স্ত্রী নিহত কুড়িগ্রাম সহ দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় শনিবার সকালে মৃদু ভূমিকম্পন মার্কিন সামরিক নীতিতে বড় পরিবর্তন আসছে ইজতেমা ময়দানে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪র্থ বর্ষপূর্তি

আজ ৫ জানুয়ারি


নিজস্ব প্রতিনিধি

আপডেট সময়: ৫ জানুয়ারী ২০১৮ ১২:১৫ পিএম:
আজ ৫ জানুয়ারি

আজ ৫ জানুয়ারি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪র্থ বর্ষপূর্তি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ তার মিত্র দলগুলো এদিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে। অপরদিকে এ নির্বাচন বর্জন করা দল বিএনপি ও এর জোটসঙ্গী দলগুলো এ দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে। অন্যবারের মতো এবারো এ উপলক্ষে এ দুই দল ও তাদের জোট রাজধানীসহ সারাদেশে কর্মসূচি দিয়েছে। 

তবে সারাদেশে জেলা উপজেলায় কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি থাকলেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা নয়পল্টনে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় রাজধানী ঢাকায় কোনো কর্মসূচি নেই বিএনপির। দলটির পক্ষ থেকে এ কথাই জানিয়েছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বৃহস্পতিবারজাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বলেন, শুক্রবার সমাবেশের অনুমতির না পাওয়ায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত রাতে গণমাধ্যমকে জানানো হবে জানান।

আওয়ামী লীগ রাজধানীতে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা ৩টায় রাজধানীর গুলশানে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে বিজয় র‌্যালি ও সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া সংগঠনের জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিজয় র‌্যালি ও সমাবেশ করবে তারা।

অপর দিকে বিএনপি এদিনটি উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল। সেই মোতাবেক প্রশাসনের অনুমতিও চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপির আগে আবেদনের কারণ দেখিয়ে ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি নামের অপর একটি অজানা দলকে সোহরাওয়ার্দী বরাদ্দ দিয়েছে। গেল বছরও বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দেয়নি প্রশাসন। প্রতিবাদে দলটি কালো পতাকা উত্তোলনের কর্মসূচি দিয়েছিল। তবে এবার অপর দলকে সোহরাওয়ার্দী বরাদ্দ দেয়াকে সরকারের ইঙ্গিতে হয়েছে দাবি করে নয়াপল্টনে দলীয় অফিসের সামনের সড়কে সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। এ জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে আবেদন করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ডিএমপি নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। বিএনপির এ সমাবেশে দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য রাখার কথা ছিল।

                                                                                                                                                                              

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘একদলীয়’ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে জনসমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় শুক্রবার রাজধানীতে কোনো কর্মসূচি নেই বিএনপির। তবে ঢাকার বাইরে তারা মহানগর-জেলা-উপজেলায় ‘কালো পতাকা’ মিছিল করবে।

পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে দলের সিদ্ধান্ত জানাতে সকাল ১১টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটার দিকে দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জনসমাবেশের অনুমতির বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন কমিশনার কার্যালয়ে গেলে তাদেরকে জনসভা না করার অনুরোধ জানানো হয়।

এ ব্যাপারে দলটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী মানবকণ্ঠকে  বলেন, আজ (৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়ার সঙ্গে তার অফিসে আমরা দেখা করি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, আবেদন আগে থাকায় একটি ইসলামি পার্টিকে ৫ জানুয়ারির সমাবেশ করার অনুমতি দিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে জানুয়ারির শেষ দিকে করতে চাইলে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি দেয়া যাবে বলে কমিশনার সাহেব জানিয়েছেন।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী আরো জানান, সড়ক হওয়ায় নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি দেয়া যাবে না। তবে ‘ইনডোর’-এ সমাবেশ করতে চাইলে সেক্ষেত্রে ৫ জানুয়ারির সমাবেশের অনুমতি তারা দেবে বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভার অনুমতি দিয়েছিল পুলিশ। তারপরও ১৯টি শর্তের বিনিময়ে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছিল তারা। তাদের দাবি, এরপর থেকে আজ পর্যন্ত নয়াপল্টনে জনসভা করতে পারেনি দলটি। এর আগে ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দীতে জনসভার অনুমতি পায় বিএনপি। এর কয়েক মাস আগে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন ‘বর্জন’ করায় জনগণকে ‘অভিনন্দন ও ধন্যবাদ’ জানাতে এ সমাবেশ করেছিল তারা।

দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার দাবি না মানায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি ও জোটসঙ্গী দলগুলো। তবে আওয়ামী লীগসহ তার জোটের দলগুলোর সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবিতে এ নির্বাচন করেছিল। নির্বাচনের আগে দুই দলের অনমনীয়তায় যে রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছিল তা কাটাতে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানাকো বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি তখন শীর্ষ নেতা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াসহ দুই দলের নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠকও করেন। তবে দৃশ্যত একটি গ্রহণযোগ্য ‘সমঝোতা’ ছাড়াই তারানাকো দেশ ছাড়েন। এরপরই আওয়ামী লীগ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকে এগিয়ে যায়। বিএনপি ও তার জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে ভোট বর্জনের ডাক দেয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রজন্মকণ্ঠকে এক সাক্ষাৎকারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন গণতন্ত্রের ইতিহাসে কলঙ্ক। সরকার নির্বাচনের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সব নিবন্ধিত দলগুলোকে উপক্ষো করে সরকারি জোটের শরিক দলকে নির্বাচনে রেখে নিজেদের মাঝে আসন ভাগাভাগি করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ মানবকণ্ঠকে বলেন, দেশ, সংবিধান ও গণতন্ত্রের জন্য ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অপরিহার্য ছিল। নির্বাচন হয় সংবিধান অনুসারে। সংবিধান অনুসারে যথাসময়ে নির্বাচন না হলে দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়। কোনো গণতান্ত্রিক মানুষই এটা চায় না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোট বর্জন করে প্রায় আড়াই দশক পর সংসদের বাইরে চলে আসে বিএনপি। দলটি এবারো নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করলেও তাতে গা করছেন না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। বরং গত নির্বাচনের আগে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের মতৈক্যের সরকার গঠনে বিএনপিকে অংশ নেয়ার প্রস্তাব করা হলেও এবার আর তা হচ্ছে না বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন।

তিনি সেখানে বলেছেন, নির্বাচন সঠিক সময়ে এবং সংবিধান অনুযায়ীই হবে। আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে বিএনপর সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। বিএনপি নিজের প্রয়োজনেই নির্বাচনে আসবে।

এদিকে ২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তার বক্তৃতায় ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশে বলেন, সরকার চাইলেও বিএনপিকে বাদ দিয়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচন করা যাবে না। আমরা নির্বাচনী দল, আমরা নির্বাচন করব। বাইরে রাখতে চাইলেই রাখা যাবে না। বিএনপি সবচেয়ে বড় দল, তাকে (বিএনপি) বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন করব আমরা। তবে সে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, হাসিনার অধীনে নয়। কারণ সারা পৃথিবী বুঝে গেছে যে, হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, হবে না।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top