Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ , সময়- ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
মুসল্লিরা জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া অন্য কিছু নিতে পারবেন না : ডিএমপি কমিশনার দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে জামাতের সময়সূচী  ব্রাজিলের সাপোর্টার প্রধানমন্ত্রী, একই দলের সমর্থক জয় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করতেই ইসরাইলের সৃষ্টি নূর চৌধুরী'কে দেশে ফেরাতে কানাডার আদালতে মামলা করেছে সরকার নির্বাচনী কৌশলগত কারনেই জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ছে বিএনপি বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে জয় পেল স্বাগতিক রাশিয়া বাগেরহাট ৩ আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত এমপি'র শপথগ্রহণ ঘরমুখো মানুষ, চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা

নির্বাচনকালীন সরকার বিতর্ক : আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি


অনলাইন ডেস্ক

আপডেট সময়: ১৪ জানুয়ারী ২০১৮ ১০:৩৭ এএম:
নির্বাচনকালীন সরকার বিতর্ক : আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের পর নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিএনপি তাদের প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছে। বিএনপি বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা কঠোর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তারা আরও একধাপ এগিয়ে বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হবে না। নির্বাচনকালীন সরকারেও জায়গাও হবে না বিএনপির। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এই চরম বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, দুই দলের অনমনীয়তার কারণে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি-না তা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতি হলো সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা। 

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, ‘কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।’

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বড় দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপি চায় এমন একটি সরকার, যারা রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। তাহলে প্রধানমন্ত্রী যে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলছেন, সেটার রূপ আসলে কী হবে? এ নিয়েও শুরু হয়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিতর্ক।

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সৃষ্ট সংকটের বাস্তবতা মেনে নিয়ে জনগণের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। একইসঙ্গে দলটি মনে করে, একটি সুন্দর পরিবেশে সংলাপ অনুষ্ঠিত হলে জাতির মনে যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। শনিবার রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী যদি সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। কারণ সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় নির্বাচনকালীন সরকারও হবে বিদ্যমান সরকারের অনুরূপ।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি আন্তরিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে তার উচিত হবে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া। কারণ আমরা মনে করি, একটি আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব।’

বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। তার কথায় গত (৫ জানুয়ারি) নির্বাচনের মতোই আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ পেয়েছে।’

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে একটি প্রস্তাবনা দেওয়ার ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কেমন হতে পারে তা নিয়ে আমাদের দলের একটি চিন্তাভাবনা আছে।’ 

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ জাতিকে হতাশ ও উদ্বিগ্ন করেছে এমন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তার এই ভাষণে বিদ্যমান জাতীয় সংকট নিরসনে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই। আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি যা বলেছেন তা খুব অস্পষ্ট, ধোঁয়াশাপূর্ণ এবং বিভ্রান্তিকর। তার কাছ থেকে জাতি বিভ্রান্তির বেড়াজালমুক্ত কর্মপদক্ষেপ আশা করেছিল। প্রত্যাশা ছিল তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।’ 

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমদও। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচন নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। মওদুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেছেন, নির্বাচনকালীন একটি সরকার গঠন করা হবে। কিন্তু নির্বাচনকালীন কোনো সরকার গঠনের কোনো ব্যবস্থা এই সংবিধানে নেই। ’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে শনিবার কথা বলেছেন। মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির দেওয়া প্রতিক্রিয়ার জবাব দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজন নেই। নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির অধিকার, এটা সুযোগ নয়। সরকারের দয়া দাক্ষিণ্যের ওপর বিএনপি নির্বাচন করবে? তাহলে সংলাপে বসাবসির কী প্রয়োজন?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে সংলাপের প্রয়োজনীয়তা দেখছি না। নির্বাচনের জন্য সংবিধানে যে পথ রয়েছে, সেই অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সেই পথ নিয়ে সংলাপ করতে হবে কেন? ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপের জন্য খালেদা জিয়াকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যাননি। খালেদা জিয়ার ছেলে কোকো মারা যাওয়ায় তাদের বাড়ির সামনে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু দরজা বন্ধ রেখে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, ‘সংলাপের পরিবেশ বিএনপিই রাখেনি। সেদিন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের জবাবে নোংরা ভাষায় অসৌজন্যমূলক কথা বলেছেন খালেদা জিয়া, মনে আছে? সেদিন প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে খালেদা জিয়া গণভবনে এলে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চেহারাটা অন্যরকম হতো। সংলাপের পরিবেশ তারাই নষ্ট করলেন। পুত্রহারা মাকে দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী যাওয়ার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সংলাপের দরজা বন্ধ করে দিলেন খালেদা জিয়া। তাই বিএনপি সংলাপের কথা যতই বলে, এটা তাদের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি। সংলাপের মানসিকতা তাদের মধ্যে নেই। তারা সংলাপ চায় না। সংলাপের ইচ্ছা থাকলে নোংরা ভাষায় সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করত না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আন্দোলনের নামে এবার কোনো আগুন-সন্ত্রাস হলে জনগণ বিএনপিকে মাঠেই প্রতিরোধ করবে। এজন্য কোনো সংলাপের প্রয়োজন হবে না। এবার আর কোনো অচলাবস্থা জনগণকে দিয়ে তৈরি করতে পারবে না তারা। আগুন-সন্ত্রাস করে তারা যে ভুল করেছে, সেই ভুলের মাশুল তাদের আরও অনেকদিন দিতে হবে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। তখন নির্বাচনকালীন সরকার থাকবে, এটা সংবিধানেই আছে। ওই ক্যাবিনেটের কাজ ও আকার কমে আসে। তারা সরকারের রুটিন কাজ পালন করবে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ইসির অধীনে চলে যায়। নির্বাচন কমিশনের যে যে সহযোগিতা দরকার, নির্বাচনকালীন সরকার তাই করবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার টিভি ভাষণে যে ‘নির্বাচনকালীন’ সরকারের কথা বলেছেন- তার ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারই হবে নির্বাচনকালীন সরকার। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, অন্য কিছু না। অন্য দল থেকে লোক নিয়ে সরকার গঠন করতে হবে এমন কথা প্রধানমন্ত্রী বলেননি।’


প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে উল্লেখ করা নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার বলতে বর্তমান সরকারকেই বোঝায়। এই সরকার হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার- যারা শুধু দৈনন্দিন কাজগুলো করবে।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এ নির্বাচন হবে। ২০১৪ সালের আগেও সরকার পরিবর্তন হয়েছিল, আমি নিজে আগে মন্ত্রী ছিলাম না, তখন হয়েছিলাম। অনেকে আগে মন্ত্রী ছিলেন কিন্তু তখন বাদ পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী হয়তো এ ধরনের সরকারের কথাই উল্লেখ করেছেন।’

নির্বাচনের সময় কি তাহলে এই মন্ত্রিসভাই থাকবে? এ প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এই ক্যাবিনেটই থাকবে, হয়তো বড়-ছোট হতে পারে- এই। নির্বাচনকালীন সরকার বলার অর্থ হলো, সংবিধান অনুসারে যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তার অধীনেই সাধারণত নির্বাচন হয়ে থাকে। সেটা ভারত বলেন, যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র বলেন- সব জায়গাতেই ক্ষমতাসীন দলের অধীনেই নির্বাচন হয়।’ এই সরকারই হবে নির্বাচনকালীন সরকার, প্রধানমন্ত্রী এটাই ‘মিন করেছেন’- বলেন তোফায়েল আহমেদ।

বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি যখন নির্বাচনে যোগ দিচ্ছিল না, তখন এক পর্যায়ে বিএনপিসহ অন্যদের মন্ত্রী নিয়ে একটা ক্যাবিনেট হতে পারে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘তখন একটা সংলাপের আহ্বান জানিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। কিন্তু সেই আহ্বান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ওই চিন্তাভাবনা এখন আর আমাদের সরকারের নেই। এখন নির্বাচনকালীন সরকার হবে বর্তমান সরকারই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক শনিবার রাতে আজকালের খবরকে বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক তো সাংবিধানিক বিষয়। আওয়ামী লীগ এটিকে সাংবিধানিক অবস্থান থেকে দেখছে। আর এ নিয়ে সংলাপের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে যে আহ্বান জানানো হচ্ছে সেটি আওয়ামী লীগ নাকচ করছে। কারণ সংলাপের জন্য অতীতে আওয়ামী লীগ আহ্বান জানালেও বিএনপি তাতে সাড়া দেয়নি। বরং বিএনপি সেই সময় নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে অরাজকতা ও সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর বিএনপি এখন পর্যন্ত নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনাও দেয়নি। বিদ্যমান সংবিধানের মধ্য থেকে বিএনপি এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাবনা দিলে আলোচনার সুযোগ থাকবে।’

তবে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে হতাশাজনক বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমদ। তিনি শনিবার রাতে আজকালের খবরকে বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলছেন তা অপ্রত্যাশিত ও চরম হতাশাজনক। বিদ্যমান সংবিধানের আলোকে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হলে ২০১৪ সালের মতোই আরেকটি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচন তো গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাহলে কী আওয়ামী লীগ আরেকটি একতরফা নির্বাচনের দিকে যাবে? সেটি দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি হলো সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা। এখন সংবিধানের দোহাই দেওয়া হলে জাতি সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কোনো নির্দেশনা পাবে না।’

রাজনীতি বিশ্লেষক সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, এবারও একটি একতরফা নির্বাচনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এবার প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে যে কথা বলেছেন, ২০০৬ সালেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণে খালেদা জিয়াও একই কথা বলেছিলেন। ২০১৩ সালেও শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একই কথা বলেছিলেন। তারা বলেছিলেন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। এতে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে নির্বাচন হলো না, অন্য সরকার এলো। ২০১৪ সালেও একতরফা নির্বাচন হলো, যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এবারও প্রধানমন্ত্রী একই কথা বললেন। যার ফলে যদি একতরফা একটা নির্বাচন হয়ে যায়, তা আমাদের বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাবে। ’


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top