Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নির্বাচনি জোটের শরিক জাতীয় পাটি পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আজ  প্রধানমন্ত্রীর হাতে ৩৮টি আসনের তালিকা তুলে দিয়েছেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী হেলমেট পরে হামলার নির্দেশ দিয়েছিল বিএনপি নেতারা সেই তৃতীয় শক্তির নেতারা আজ কে কোথায় ?  বিদ্যুৎ খাতে দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিদেশি টিভি চ্যানেলে দেশিপণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধের নির্দেশ অধিকাংশ ইসলামী দলগুলি ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের সঙ্গে | প্রজন্মকণ্ঠ গত পাঁচ বছরে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছে আ'লীগ সরকার | প্রজন্মকণ্ঠ #মি টু ঝড় এখন বাংলাদেশে 

দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবজির পিরামিড


অনলাইন ডেস্ক

আপডেট সময়: ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ ৪:৫৪ পিএম:
 দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবজির পিরামিড

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বরে জাতীয় সবজি মেলা উপলক্ষে পিরামিড বানানো হয়েছে। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ চত্বরে জাতীয় সবজি মেলা উপলক্ষে বানানো হয়েছে বিভিন্ন রকম সবজিসজ্জিত দৃষ্টিনন্দন পিরামিড -যাযাদিপস্নাই উড দিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি পিরামিড। পিরামিডের গায়ে তাক করে বসানো হয়েছে দেশজ মৌসুমি বিভিন্ন সবজি। একটু দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবজির পিরামিড। সবজির এ পিরামিড নিয়ে অনেকেই সেলফি তুলছেন। শিশুরাও আগ্রহের সঙ্গে দেখছে এ পিরামিড। 

সোমবার জাতীয় সবজি মেলার দ্বিতীয় দিনে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। মেলার প্রবেশমুখেই ডান পাশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্টল। দেশি বিভিন্ন শাকসবজি দিয়ে সজ্জিত এ স্টলের বাইরে টবে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সবজির গাছ। বন্যাকবলিত এলাকায় সবজি চাষের কৌশল প্রদর্শনের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে স্টলের বাম পাশে।

খাদ্যের পুষ্টিমান সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান) তাদের স্টলে নিয়েছে নানা উদ্যোগ। একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ সার্বক্ষণিক স্টলে আসা দর্শনার্থীদের ওজন ও উচ্চতা পরিমাপ করে পুষ্টি ও দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে পরামর্শ দিচ্ছেন।
এ সম্পর্কে বারটানের প্রকল্প পরিচালক ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জ্যোতিলাল বড়ুয়া বলেন, 'প্রতিদিন আমাদের চারশ' গ্রাম ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। অথচ আমরা খাচ্ছি গড়ে ২৫২ গ্রাম। ফলে এসব উৎস থেকে আসা পুষ্টির অভাবে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে রাতকানা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।'

মেলায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) তাদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলমূল প্রদর্শন করছে। হাইড্রোফোনিক (মাটি ছাড়া শুধু পানিতে চাষ) পদ্ধতিতে ফসল ফলানো ও দেশে প্রথমবারের মতো শৈবাল চাষের পদ্ধতি বারি'র স্টলে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

নাসিমা আক্তার লিজা। মধ্যবয়সী গৃহিণী। রাজধানীর মিরপুরে নিজস্ব বাড়ি আছে তার। সবজি মেলায় ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন সব স্টল। এর মধ্যেই পেয়ে যান নিজের পছন্দের স্টলটি। স্টলের কর্মকর্তাদের নিজের সমস্যার কথা বলে সমাধান খুঁজছিলেন তিনি। তার ভাষায়, বাসার ছাদে লাউ গাছ চাষ করেছিলেন। জৈব সার হতে শুরম্ন করে সবই দিয়েছিলেন যত্ন করে। চাষের কোনো ত্রম্নটি করেননি। কিন্তু লাউ গাছ কয়েকটি ফল দিয়েই মারা যায়। প্রায় এক থেকে দেড় মাসের বেশি টেকে না। স্টলের ওই কর্মকর্তা সহজ ভাষায় বাতলে দিলেন সমাধান। তাতেই খুশি তিনি।

কথা হয় নাসিমার সঙ্গে। তিনি জানান, তার বাড়িটিকে ছোট একটি গ্রামও বলা যেতে পারে। ছাদে শাক-সবজি হতে শুরম্ন করে হাঁস-মুরগি সবই চাষ করেন তিনি। শুধু ছাদেই নয়, বারান্দায়ও শাক-সবজির চাষ আছে তার। মাঝে মধ্যে সমস্যায় পড়েন গাছ মরে গেলে।
তিনি বলেন, গাছে শুধু পেয়ারাটাই ভালো হয়। কিন্তু অন্য সবজি চাষে আশানুরূপ ফল
হপান না। মাঝে মধ্যে কৃষিবিদদের পরামর্শ নেন। তখন ভালো ফল পান।

নাসিমার মতো এমন আগ্রহীদের জন্যই মেলায় স্টল দিয়ে বসেছেন 'গ্রীন সেভার্স' নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কথা হয় এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আহসান রনি'র সঙ্গে। তিনি বলেন, দেশে সবুজায়নের লক্ষ্যেই সাত বছর আগে তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় 'গ্রীন সেভার্স'। তাদের দেয়া সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাগান পরিচর্যা, প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, পোকামাকড় দমনে পরামর্শ, অফিসে সবুজায়ন, গার্ডেনার সার্ভিসসহ আরও কয়েকটি সেবা।
প্রতিটি সেবার বিনিময়ে সেবামূল্য ১ হাজার টাকা থেকে শুরম্ন করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত্ম নেন তারা।

মেলায় হাজার প্রজাতির গাছের চারার স্টল দিয়ে বসেছে 'কৃষিবিদ উপকরণ নার্সারী' নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই স্টলেই ভিড় বেশি ক্রেতাদের। বিক্রেতা হারম্ননুর রশিদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, ১৯৮২ সাল থেকেই তিনি নার্সারী ব্যবসা করে আসছেন। হাজার প্রজাতির চারা আছে তার কাছে। এবারের মেলায় তার আকর্ষণীয় চারা হলো, ব্রোকলি চারা (একধরনের কপি)। বারান্দায় চাষ করা যায়। এ ব্রোকলি চারার বৈশিষ্ট্য হলো- একবার ফল কেটে নিলে আবার ফল দিবে। এভাবে পাঁচবার পর্যন্ত্ম ফল দিবে এই চারা। এই চারার মূল্যও সাধ্যের মধ্যে। মাত্র ১০০ টাকা। এ ছাড়া তার কাছে স্কোয়াশ, চেরি টমেটো, ক্যাপসিকাম, নতুন জাতের মরিচের চারাও আছে। ১০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যেই চারা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন তিনি।

মেলায় দেখা গেলো 'কৃষকবাজার' নামের একটি অনলাইন শপের স্টল। এই ব্যস্ত্ম নগরীতে ব্যস্ত্ম মানুষ সব সময় বাজারে গিয়ে সবজি কেনার সময় পান না। তাদের কথা ভেবেই ১২৯টি পণ্যের অনলাইন শপ দিয়ে বসেছেন স্বত্বাধিকারী বদরম্নল আহসান। তিনি জানান, তাদের কাছে প্রায় সব রকমের সবজিই পাওয়া যায়। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে থেকে সরাসরি সবজি সংগ্রহ করেন তারা। অনলাইনে ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছে তার প্রতিষ্ঠান। দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত 'কৃষিবাজার' প্রতি দিন ১৭ থেকে ২০ টাকার পণ্য বিক্রি করেন বলে জানিয়েছেন বদরম্নল আহসান।

মেলায় বিশেষ নজর কেড়েছে মাশরম্নমের কয়েকটি স্টল। কথা হয় 'ওরিয়ন মাশরম্নম' স্টলের বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে। আবু বকর সিদ্দিক নামের ওই বিক্রয়কর্মী জানান, তাদের কোম্পানি হল্যান্ড থেকে কাঁচামাল ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে হোয়াইট বাটন মাশরম্নম ও বাটন মাশরম্নম নামের দুই ধরনের মাশরম্নম বিক্রি করেন।
আবু বকর জানান, উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, হাড় গঠন, ক্যান্সারের প্রতিষেধক কিংবা হাইপার টেনশন কমাতে কাজে দেবে বিশেষভাবে তৈরি এই মাশরম্নম। উৎপাদনে কোনো রকমের কীটনাশকের ব্যবহার হয় না বলে তাদের এই পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

মেলায় শুধু চারা কিংবা কাঁচামালই নয়। আছে তৈরি করা ভেষজ খাবারের স্টলও। মুন্না প্রায় আট রকমের আচারের পসরা সাজিয়েছেন তার স্টলে। তার এই আয়োজনে কাঁচা মরিচ, বরই, রসুন, চালতা, হরতকি, আমলকির আচারসহ মাশরম্নমের সু্যপ আছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সর্বনিম্ন ১৫০ থেকে ২৮০ টাকার মধ্যেই তার এই আচারগুলো পাওয়া যাবে।

বীজ বিক্রির জন্য প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠান লাল তীরের স্টলও আছে মেলায়। বিশেষ করে কৃষকদের জন্য হাইব্রিড জাতের সবজির বীজ সরবরাহের পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি। এবারের আয়োজনে তাদের পার্পল কিং নামের বিশেষ জাতের বেগুন, আত্রিয়া ও সিভান জাতের ফুলকপির বীজ নতুনত্ব এনেছে। কথা হয় লাল তীরের মার্কেটিং এজিএম মুনির হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, পার্পল কিং নামের এই বেগুন প্রতি হেক্টরে ১০০ মেট্রিক টন পর্যন্ত্ম ফলতে পারে। আত্রিয়া নামের নতুন দেশীয় ফুলকপির এই জাতটি ফলবে আগস্ট মাসের দিকে। প্রতি হেক্টরে ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন ফল পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি। সিভান নামের ফুলকপির নতুন এই জাতও প্রতি হেক্টরে ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন ফল দেবে।

শুধু যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই মানুষ ভিড় করছেন তা নয়। পরামর্শ নিচ্ছেন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও। কথা হয় বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বার্টান) সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার এএইচএম জালাল উদ্দিন আকবরের সঙ্গে। তিনি জানান, তারা সাধারণত কৃষিভিত্তিক পুষ্টি নিয়ে কাজ করেন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ন্যাচারাল সবজি জাতীয় খাবার বেশি খেতে পরামর্শ দেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে মোট সবজি উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার মেট্রিক টন। দেশের প্রচলিত ও অপ্রচলিত চাষকৃত সবজির সংখ্যা প্রায় ৯০টি। চাষকৃত সবজিগুলো মানুষের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ গ্রাম সবজি সরবরাহ করতে পারছে। অথচ একজন সুস্থ সবল মানুষের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন ২২০ গ্রাম সবজি।

কৃষিমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় উপমহাদেশে সবজি নির্ভর খাদ্যের একটি ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু দ্রম্নত শিল্পায়নের পাশাপাশি ধীরে ধীরে কৃষিবিমুখ হচ্ছে সাধারণ মানুষ। কৃষকদের কৃষিতে উদ্বুদ্ধ করতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি উন্নত পুষ্টি নিশ্চিত করার দিকেও নজর সরকারের। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে তাই ২০১৬ সাল থেকে জাতীয় সবজি মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনই এমন আয়োজনের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মেলার আয়োজকরা।
 
 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top