Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৮:০৬ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বিএনপির দেয়া তালিকার অধিকাংশ মামলা ২০১৪-১৫’র সহিংসতার : ডিএমপি  সায়মা ওয়াজেদকে অভিনন্দন মন্ত্রিসভার আ'লীগে এত মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন ? শরিকদের জন্য ৭০টি আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের নির্বাচিত না করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান : দুদক চেয়ারম্যান সাজাপ্রাপ্ত খালেদার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ  খাশোগি হত্যা : লাশ টুকরো করার ছবি ফাঁস ! ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ পদকের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন আয়কর মেলার শেষ দিন আজ দুর্নীতিসহ ১১ সূচকে রেড জোনে বাংলাদেশ : এমসিসি 

বাংলাদেশ কল সেন্টার শিল্পের খুবই সম্ভাবনাময় বাজার


প্রজন্মকণ্ঠ বিশেষ প্রতিবেদক

আপডেট সময়: ২৫ মার্চ ২০১৮ ১:১২ পিএম:
বাংলাদেশ কল সেন্টার শিল্পের খুবই সম্ভাবনাময় বাজার

২০১৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কল সেন্টার সেবা দিচ্ছে ডিটিএক্স বিজনেস সলিউশন। কল সেন্টার ব্যবসার ঝুঁকি ও বাংলাদেশে এ খাতের সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি বণিক বার্তাকে বিস্তারিত জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এসএম তানভীর আলম। 

ডিটিএক্স বিজনেস সলিউশনের যাত্রা শুরু কবে?

২০০৮-১২ সাল পর্যন্ত কয়েকটা কল সেন্টারে কাজ করে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করি। ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় অল্প কয়েকজন কর্মী নিয়ে ডিটিএক্স বিজনেস সলিউশনের কার্যক্রম শুরু করি। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির হয়ে আউটবাউন্ড সেলস ও ইনবাউন্ড কাস্টমার সমর্থন দিয়ে আসছি।

বাংলাদেশ কল সেন্টার শিল্পের জন্য কতটুকু সম্ভাবনাময়?

বাংলাদেশ কলসেন্টার শিল্পের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় বাজার। তৈরি পোশাক শিল্পের মতো কল সেন্টার শিল্পও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জনবল অনেক বেশি সহজলভ্য, কর্মঠ, যোগ্য ও সস্তা পারিশ্রমিকে পাওয়া যায়। জেনেশুনে সতর্কভাবে কল সেন্টার ব্যবসার উদ্যোগ নিলে খুব সহজে গার্মেন্টস শিল্পের মতো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পূর্ণাঙ্গ শিল্পের কাতারে দাঁড় করানো সম্ভব।

ডিটিএক্সের কর্মী সংখ্যা কত?

ডিটিএক্সে স্থায়ীভাবে ৩০ জন কাজ করছেন। এর বাইরে কিছু ছেলে-মেয়ে খণ্ডকালীন কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া ইন্ডিয়া ও ফিলিপিনের কয়েকটি কল সেন্টার ডিটিএক্সের হয়ে আউটসোর্সড প্রকল্পে কাজ করছে।

আপনার প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক কারা?

যুক্তরাষ্ট্রের সেবাভিত্তিক কোম্পানি, যেমন- প্রাইভেট লেন্ডারস, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, লেন্ডবেরি, র্যাপিড ক্যাপিটাল ফান্ডিং, এটিঅ্যান্ডটি, মেডিকেয়ার এবং ফ্রন্টলাইনের মতো বেশকিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মিত আমাদের কাছ থেকে কল সেন্টার সেবা নিচ্ছে। এর বাইরে ডিটিএক্স শিগগিরই কিছু ডোমেস্টিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে কল সেন্টার কি পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পেরেছে?

বাংলাদেশে কল সেন্টার ব্যবসা এখনো পূর্ণাঙ্গ শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠেনি। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে একজন কল সেন্টার কর্মীর পেছনে ঘণ্টাপ্রতি ব্যয় হয় ১৫ থেকে ৪০ ডলার। সেখানে বাংলাদেশে একজন অভিজ্ঞ কল সেন্টার কর্মীর পেছনে দৈনিক ব্যয় হয় সর্বোচ্চ ১২ ডলার। অতএব একটু দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারলে প্রচুর বিনিয়োগকারী আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন। কাজেই কল সেন্টার ব্যবসা পূর্ণাঙ্গ শিল্প হয়ে উঠতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

আউটসোর্সিংয়ে কল সেন্টার কেমন ভূমিকা রাখতে পারে?

আউটসোর্সিংয়ে কল সেন্টার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভারত, ফিলিপিনের মতো আমাদের দেশেও কলেজ-ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি কল সেন্টারে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ কল সেন্টারগুলোতে নিজের পছন্দমতো সময় কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ১২-১৪ ঘণ্টা হওয়ায়, সে দেশের সময়ের সঙ্গে মিল রেখে কাজ করতে হয় বাংলাদেশের কল সেন্টারগুলোতে। একটা কল সেন্টার ৩টি শিফটে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই অনায়াসে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

আপনারা কী ধরনের সেবা দিচ্ছেন?

আউটসোর্সিংয়ে কল সেন্টার ইন্ডাস্ট্রি অনেক বড় একটা জায়গা দখল করে আছে। যে কোনো ব্যবসায়ের আউটবাউন্ড টেলিমার্কেটিং থেকে শুরু করে কাস্টমার সার্ভে, কাস্টমার সাপোর্ট, টেকনিক্যাল সার্ভিস সব ধরনের সেবাই দিয়ে থাকে একটা কল সেন্টার। গ্রাহক চাহিদার আলোকে ডিটিএক্স বিজনেস সলিউশন এসব সেবার সবগুলো দিচ্ছে।

কল সেন্টার শিল্পের বিকাশে কী ধরনের বাধা রয়েছে?

শুধু কল সেন্টার শিল্পের বিকাশে নয়, সব ধরনের ইন্টারন্যাশনাল আউটসোর্সিং কাজের জন্য বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার বা বিপিও কোম্পানিগুলোর সবচেয়ে বড় বাধা হলো কাজের পারিশ্রমিক দেশে নিয়ে আসা। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নিরলস চেষ্টায় দেশে পেপালের ইনবাউন্ড সার্ভিস চালু হয়েছে। এর ফলে ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত টাকা দেশে আনা অনেক সহজ হয়েছে। কিন্তু কল সেন্টার বা বিপিও কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ট্রানজেকশনের অংক বড় হওয়ায় বেশিরভাগ সময় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করতে হয়। বিপত্তিটা ঘটে সেখানেই। ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতিবার লেনদেনের ক্ষেত্রে ‘ফরম সি’ এবং ‘ইনভয়েস’ জমা করতে হয়। এমনকি সব পেমেন্ট একই বায়ারের কাছ থেকে এলেও একই পদ্ধতি বারবার অনুসরণ করতে হয়। 

এ ছাড়া প্রত্যেক নতুন বায়ারের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবার বায়ারের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট পেপার ছাড়াও সব ধরনের ব্যবসায়িক কাগজপত্র, যেমন- ট্রেড লাইসেন্স, কল সেন্টার লাইসেন্স নতুন করে জমা দিতে হয়, যা কল সেন্টার শিল্পের বিকাশে একটি বাড়তি ঝামেলা। দেশে অনেক কল সেন্টার বা বিপিও প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে প্রায় প্রতিদিনই নতুন বায়ার যোগ হচ্ছে। যে কারণে প্রতিদিনই একটা কল সেন্টার বা বিপিও প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকের পেছনে যথেষ্ট ধকল পোহাতে হয়।

কল সেন্টার ব্যবসার চ্যালেঞ্জগুলো কী?

কল সেন্টারের জন্য দক্ষ জনবল জোগান দেয়াটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষাব্যবস্থা গতানুগতিক ধারায় চলার কারণে দেশের বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইংরেজি এবং কম্পিউটার শিক্ষা এখনো পাঠ্যপুস্তকের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। দেখা যায়, মাস্টার্স ডিগ্রিধারী অনেকে ভুলভাল গ্র্যামারে ইংরেজিতে লিখতে পারলেও বলতে পারেন না। এ ধরনের কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।

কল সেন্টার ব্যবসায় আগ্রহীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

কল সেন্টার ব্যবসায় লাভের পাশাপাশি ঝুঁকি খুবই বেশি। সুতরাং পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে বসলে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি। অভিজ্ঞতা নিয়ে এ ব্যবসা ভালোভাবে বুঝে বিনিয়োগ করলে ঝুঁকির আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যায়। তবে ভারতীয় এবং পাকিস্তানের বায়ারদের সঙ্গে খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সরাসরি যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ারের সঙ্গে কাজ করার ঝুঁকি কম।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top