Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৭:০৭ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বিএনপির দেয়া তালিকার অধিকাংশ মামলা ২০১৪-১৫’র সহিংসতার : ডিএমপি  সায়মা ওয়াজেদকে অভিনন্দন মন্ত্রিসভার আ'লীগে এত মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন ? শরিকদের জন্য ৭০টি আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের নির্বাচিত না করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান : দুদক চেয়ারম্যান সাজাপ্রাপ্ত খালেদার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ  খাশোগি হত্যা : লাশ টুকরো করার ছবি ফাঁস ! ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ পদকের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন আয়কর মেলার শেষ দিন আজ দুর্নীতিসহ ১১ সূচকে রেড জোনে বাংলাদেশ : এমসিসি 

মুজিবনগর সরকার গঠন কেন দরকার ছিল?


ফাহিম ইবনে সারওয়ার 

আপডেট সময়: ১০ এপ্রিল ২০১৮ ২:৩৬ পিএম:
মুজিবনগর সরকার গঠন কেন দরকার ছিল?

শোষণহীন, অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠিত হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। এটা শুধু সামরিকভাবেই একটি যুদ্ধ ছিলো না। এই যুদ্ধের শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিকও ছিল। আর ১৯৪৭ সাল থেকে আন্দোলন সংগ্রামের ধারা পেরিয়ে জন্ম নিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর ভাষণে। তবে সেই স্বাধীনতা পেতে প্রয়োজন ছিল একটি কাঠামো। বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করা বা নিজেদের দাবিগুলো বিশ্বের কাছে তুলে ধরা সম্ভব নয়। 

২৫ শে মার্চের গণহত্যার পর ২৬ শে মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য দরকার ছিল একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন। 

২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পরেই ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন দেন। পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে পালিয়ে বাঁচতে নিরীহ বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের সীমান্ত খুলে দেয়া হয় এবং শরণার্থী শিবির খোলা হয়। ৩ এপ্রিল ভারতে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন তাজউদ্দীন আহমদ । এর পরিপ্রেক্ষিতেই ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়। আর তার আলোকেই গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। এরপর থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুজিবনগর সরকারই বাংলাদেশের সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনা করেছে। আর ভারতের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়া হয় মুজিবনগর সরকারকে।  

১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ১৬২ টি আসনের মধ্যে ১৬০ টি আসনে জয়লাভ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। প্রাদেশিক নির্বাচনে ৩০০ টি আসনের মধ্যে ২৮৮ টি আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান মিলিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে দেয়া হয়নি।

১৯৭০ এর নির্বাচনে জনগনের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়েই গঠন করা হয় এই সরকার। অর্থাৎ বৈধ এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার ছিল মুজিবনগর সরকার। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে কাঠামো প্রয়োজন সেভাবেই সাজানো হলো মুজিবনগর সরকারকে। আর মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমেই পাকিস্তানি বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপকারী বাহিনী হয়ে উঠলো। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যা আলোচনার জন্ম দেয়। 

তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত মুজিনগর সরকার ছিল সম্পূর্ণভাবে বৈধ। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবিকে আরো জোরালো করেছে। 

মুজিবনগর সরকার গঠনের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণ আরও বেড়ে যায়। ২১ ও ২৩ শে এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুর দখলে নেয়ার জন্য আক্রমণ চালায় হানাদার বাহিনী। আর তাই বাধ্য হয়েই ভারত থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করে মুজিবনগর সরকার।  

মুজিবনগর সরকারের কারণেই ভারতসহ অন্যান্য বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহায্য করেছে। মুজিনগর সরকারের প্রতিনিধি/রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছেন বাংলাদেশি কূটনীতিকসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা। 

মুজিবনগর সরকারের অধীনেই বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশি বাহিনীকে সহায়তা করার জন্যই গঠন করা হয় মিত্রবাহিনী। বাংলাদেশ ও ভারতের মিত্রবাহিনীর কাছেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top