Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৯ , সময়- ১০:৪৪ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন সালমান আরেকটি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা : কারণ এবং প্রতিকার কী ? পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর ভারত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেলেন জয়  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৫ আমি কখনও সংলাপের কথা বলিনি : ওবায়দুল কাদের কাদের'কে স্টেডিয়ামে প্রকাশ্যে মাফ চাওয়ার আহ্বান  বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান সংরক্ষিত নারী আসনে আ'লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু  পদ্মা সেতুর পাশেই হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

প্রশ্ন হলো - প্রকৃত মানুষ কে ?


মো: মাহমুদ হাছান

আপডেট সময়: ২৭ এপ্রিল ২০১৮ ১:৫০ এএম:
প্রশ্ন হলো - প্রকৃত মানুষ কে ?

দুই সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে এক সিএনজি উল্টে গেলে সেটির ধাক্কা খেয়ে এক স্কুল ছাত্রী মারাত্মক আহত হয়ে রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়ে আছে, উপস্থিত বয়ষ্ক পাবলিক রাস্তায় দুইদিক হতেই আসা অন্য সিএনজিগুলি ভাঙচুরে উদ্ধত ! অথচ স্কুলের শিশুরা আহত স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা করছিলো, শেষ পর্যন্ত্য অন্য এলাকার একজন অচেনা লোক মাস্তানের মতো (নাকি নেতার মতো?) ভুমিকা নিয়ে ঔদ্ধত্য প্রদর্শনকারিদের কড়া ধমক দিয়ে ও নিজের সিএনজির অন্য ৪ জন যাত্রীকে নামিয়ে তিনজন এলাকাবাসী সহ ছাত্রীটিকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে আহত ছাত্রীটিকে তার মা ও অন্য আত্মীয়দের দায়িত্বে বুঝিয়ে দিয়ে নিজ কর্মস্থলে ২০ মিনিট লেইটে উপস্থিত হয়। 

বিরাট টেনশনে ছিলো যে, শিশু ছাত্রীটি মারা গেছে নাকি বেঁচে আছে? ইমারজেন্সীতে বেডে শোয়ানোর পর যখন ছাত্রীটি কান্না করে ও জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলে, তখন টেনশনমুক্ত হলো, অচেনা লোকটি; যদিও তখনো চোখ খুলেনি ও কথা বলেনি। উনি জানেন না, শেষ পর্যন্ত্য শিশুটির অবস্থা কি? নিজের কাজের চাপে আর খোঁজ নেয়া হয়নি, দ্বিতীয়বার হাসপাতালে গিয়ে। 

ঘটনাস্থল: হবিগঞ্জ শহরের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে তেতৈয়া ফেরীঘাট ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বে। 

ঘটনার তারিখ: ২৬শেএপ্রিল ২০১৮, আনুমানিক সকাল সাড়ে নয়টা ।

(হাসপাতালে আনার পথে উদ্ধারকারি তিন যুবকের একজন বলে শিশুটি পুলিশ লাইন এলাকা হতে স্কুলে আসে, পুলিশ পরিবারের সদস্য হতে পারে, সিএনজি থামিয়ে বিষয়টি পুলিশ লাইনের গেটে জানানোও হয়, কিন্তু বিধি বাম ! কয়েক সেকেন্ড পরই শিশুটির মা যে কোনভাবে জেনে রাস্তায় চিৎকার করতে থাকলে চলন্ত সিএনজি থামিয়ে তাকে শিশুটি দেখালে রক্তাক্ত মুখেও তার সন্তান নিশ্চিত চিনতে পারলে ওনাকেও সিএনজিতে উঠিয়ে হাসপাতালে আনা হয়।)

প্রশ্ন হলো- প্রকৃত মানুষ কে ?

(১) যে শিশুরা দুর্ঘটনার সাথে সাথে আহত ছাত্রীটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলো,- তারা ? 
(২) বাহুবলের সাহসী সিএনজি চালক ? --যিনি দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে ভাঙচুরের চেষ্টার মুখেও নিজের জীবনের ও সিএনজির ঝুঁকি নিয়ে নিজের যাত্রীদের অনুরোধ করে নামিয়ে দিয়ে আহত ছাত্রীটিকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলো, অথচ তার দিনের প্রথম ট্রিপের ১৬০ টাকা ভাড়া সে পায়নি।
(৩) যে তিনজন স্থানীয় যুবক এলাকাবাসী যারা দুর্ঘটনায় আহত শিশু মরে গিয়ে থাকলে বা রাস্তায় মারা গেলে নিজেরা প্রাথমিকভাবে দোষী চিহ্নিত হয়ে হয়রাণী হতে পারে, এ ভয় না পেয়ে অন্য সিএনজি চালকের ও একজন অচেনা যাত্রীর কথায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছে?
(৪) দুর্ঘটনাস্থলে বীরত্ব (নাকি অসভ্যতা?) প্রদর্শনের চেষ্টায় সকল সিএনজি ভাংচুরের উদ্যোগটি যারা নিয়েছিলো, তারা ?
(৫) ঘটনাস্থলে নীরব দর্শকের ভুমিকা নিয়ে তামাশা দেখছিলো যারা- তারা ?
(৬) দুর্ঘটনা ঘটার পরেও পালিয়ে না গিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে অবস্থান করে অসভ্য পাবলিকের মার খাচ্ছিলো যে দুই সিএনজি চালক,- তারা ?
(৭) বাইরের অচেনা মানুষটি, যে কড়া ধমক দিয়ে অন্তত: একটি সিএনজিকে সেইফ করে আহত শিশুটিকে হাসপাতালে পৌঁছাতে পেরেছিলো, সে ?

ভাবুন, এবং, ভবিষ্যতে আপনার চোখের সামনে এমন দুর্ঘটনা ঘটলে করণীয় নির্ধারন করুন । মনে রাখবেন, এমন দুর্ঘটনার শিকার আপনিও হতে পারেন। তখন অন্যরা কি ভুমিকা নিলে আপনি উপকৃত হবেন, ভাবুন তো !

প্রত্যক্ষদর্শী : মো: মাহমুদ হাছান (ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষণা কর্মী), তারিখ-২৬শে এপ্রিল ২০১৮।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top