Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ , সময়- ১১:২১ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
মুসল্লিরা জায়নামাজ ও ছাতা ছাড়া অন্য কিছু নিতে পারবেন না : ডিএমপি কমিশনার দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে জামাতের সময়সূচী  ব্রাজিলের সাপোর্টার প্রধানমন্ত্রী, একই দলের সমর্থক জয় মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি করতেই ইসরাইলের সৃষ্টি নূর চৌধুরী'কে দেশে ফেরাতে কানাডার আদালতে মামলা করেছে সরকার নির্বাচনী কৌশলগত কারনেই জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ছে বিএনপি বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচে ৫-০ ব্যবধানে জয় পেল স্বাগতিক রাশিয়া বাগেরহাট ৩ আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত এমপি'র শপথগ্রহণ ঘরমুখো মানুষ, চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ট্রেনের যাত্রীরা

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং জাতির আরাধ্য কাজটি 


দেলোয়ার হোসেন

আপডেট সময়: ১৮ মে ২০১৮ ২:২১ এএম:
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং জাতির আরাধ্য কাজটি 

ফেসবুক স্ট্যাটাস : শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ফেসবুকের এক প্রিয় বন্ধু একটা লেখা চেয়েছেন। প্রবাসে অহর্নিশি কর্মব্যস্ত জীবনে সময়ের অভাবে তথ্য-উপাত্তসহ রেফারেন্স সমৃদ্ধ বিশ্লেষণ মূলক বিষয় ভিত্তিক বড় কোন লেখা সব সময় আমার পক্ষে লেখা সম্ভব হয়ে ওঠে না । তাই বন্ধুটির অনুরোধের সম্মান কখনই রাখতে পারিনি ।

তবে দেশে ফিরে আসা প্রসঙ্গে সাদা মাটা কথায় স্বল্প পরিসরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সম্পর্কে আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যা বলা যায়, তা হলো - তিনি দেশে ফিরে না এলে বর্তমানের শক্তিশালী ও তিনবারে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগকে আজ খুঁজে পাওয়া যেত না ।

৭৫ এ স্বপরিবারে নিহত বঙ্গবন্ধুর তীব্র শূন্যতা ও দুর্বহ শোকের আবহে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার মধ্যেই যেন জাতি অকস্মাৎ ফিরে পেয়েছে এক জীবিত মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি । কন্যা হিসেবে শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি যেন ছিল এমনই এক বঙ্গবন্ধুর রিপ্লেসমেন্ট । ছিল বঙ্গবন্ধুর বিকল্প নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার এক বাতি ঘরের আলো ।

বঙ্গবন্ধুর খুনী , স্বৈরাচার ও মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের গুপ্তচর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সীমাহীন জুলুম ও নিপীড়নের কারণে যে আওয়ামীগ হয়ে পড়েছিল প্রায় অস্তিত্বহীন এবং বহুধাবিভক্ত, সেই ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় আওয়ামীলীগকে ঘিরে ঘরে-বাইরে গড়ে ওঠে বিশাল গণজাগরণ। উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে গোটা জাতি।

তার শুরুতেই কাকতলীয়ভাবে শাসক জিয়া ৮১ সালের ৩০ মে ঘাতকের হাতে নিহত হলে শাসক দলে তৈরি হয় সংকট ও শূন্যতা । এই নির্মম পরিণতির জন্যে শেখ হাসিনার দিকে করা হয় অঙ্গুলি নির্দেশ । বিএনপি সুযোগ পেলেই শেখ হাসিনার দিকে এই সন্দেহের তীর আজ পর্যন্ত ছুড়তে মোটেও ভূল করেন না ।

তবে মূল কথা হলো - এমনি এক জটিল ও অতি সংকটময় সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামীলীগেরই নয়, তিনি স্বৈরশাসনের যাতাকলে পিষ্ট জাতির কাছেও হয়ে ওঠেন আশা আকাঙ্ক্ষা, পরম ভরসা ও ঐক্যের প্রতীক ।

একই সাথে তিনি হয়েছেন- ৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশে শক্তভাবে ঘাটি গেড়ে বসা এবং প্রবল ভাবে সদা তৎপর স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির হাতে ধ্বংস মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস প্রচেস্টা থেকে জাতি্কে উদ্ধারের মুক্তিদূত ।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন করে উদ্ভাসিত ও আলোড়িত হয়েছে গোটা দেশ । উদ্দীপ্ত হয়েছে জাতি । সেই উদ্দীপনা এবং প্রবল রোষে জাতি দাবি তুলেছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার । সেই কাজটিও শুরু করে শেখ হাসিনা জাতির তীব্র ঘৃণা ও গণরোষকে করেছেন প্রশমিত । এভাবেই একে একে প্রত্যাশার মালা গেঁথে গণ মানুষের আশা আকাঙ্খা ও দাবি পূরণের জন্যে তিনি হয়ে উঠেছেন রাস্ট্র ও জাতির এক নির্ভরযোগ্য প্লাটফর্ম ।

সেই প্লাটফর্ম এখন হয়েছে জনকল্যাণের একটি মূর্ত প্রতীকে পরিণত ।আর তাই জনরায় তার এবং দলের পক্ষেই প্রতিফলিত হচ্ছে বার বার অভূতপূর্ব ভাবে ।

এই সাফল্যকে যদি শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেববেও দেখা হয়, সেক্ষেত্রে তার অবর্তমানে আওয়ামীলীগ এবং তার অন্যান্য অংগ সংগঠণ এবং দেশের তৎকালীন বিদ্যমান পরিস্থিতির চিত্রটি সামনে নেয়া হয় তাহলে সেই বাস্তবতায় ব্যক্তি হাসিনার নেতৃত্বে সন্দেহ প্রকাশের কোন সূযোগ থাকে না ।

৭৫ পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলিগ হয়েছে বিভক্ত । মিজান চৌধুরীর আওয়ামীলীগ, মালেক উকিলের আওয়ামীলীগ, ফরিদ গাজীর আওয়ামীলীগ এবং মহীউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত বাকশালের কথা কার না মনে আছে ? অপরদিকে ছাত্রলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠণের চিত্রও ছিল অভিন্ন । নুরুল ফজল বুলবুল এর নেতৃত্বে বাকশাল পন্থী জাতীয় ছাত্রলীগ গঠণ এবং আর অন্যান্যের কথা নাই বা উল্লেখ করলাম ।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের হাল ধরার পর তার সংগঠণগুলো আর সেই পূর্বের দুরাবস্থায় ফিরে যায়নি । ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছেন তিনি । তাই যতদিন তিনি জীবিত আছেন ততোদিন সংগঠণগুলোর বেহাল অবস্থা হওয়ার কোন সুযোগ নেই ।

যদিও বিভিন্ন কারণে সরকার , দল , ছাত্র ও তার অন্যান্য সংগঠনগুলো নিয়ে যে বদনাম , বিতর্ক ও গণ অসন্তোষ বিরাজ করছে, সেসব ক্ষেত্রে তার সজাগ দৃষ্টি দান , সৎ ও যোগ্য লোক বা নেতৃত্বের পদায়নে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হন, তাহলে এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠা কোন দুরূহ ব্যাপার না ।

শেষ কথাটিই হলো - হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির স্বপ্নের যাদুকর বঙ্গবন্ধু প্রয়াত হয়েছেন ৩৩ বছর আগে । এরই মধ্যে জন্ম এবং তৈরি হয়েছে একটি প্রাপ্ত বয়স্ক প্রজন্ম । এরা বঙ্গবন্ধুকে দেখেনি । দেখেনি তার পৃথিবীর অতুলনীয় ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব । বঙ্গবন্ধুকে যারা দেখেছেন এবং যে মহানায়কের মত তারা তাকে অনুভন করেছেন সীমাহীন ভালবাসায়, তার সেই রেশ গিয়ে পড়েছে এই নতুন প্রজন্মের ভেতর ।

বঙ্গবন্ধু নেই । কিন্তু তার প্রতি জাতির অকুন্ঠ ভালবাসা কমে যায়নি এতটুকু । তার প্রতি মানুষের ভালবাসা বেড়েছে বহুগুণ যেন জাতির মাঝে বঙ্গবন্ধুর প্রেতাত্মা হয়ে আসা শেখ হাসিনার কারণে । শেখ হাসিনা তাই জাতির হৃদয় নিংড়ানো পরম ভালবাসায় হয়ে উঠেছেন দেশের অমূল্য আমানত । জাতির সম্পদ । তিনি বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার । তিনি বাঙালি জাতির রক্ষাকবচ।

তিনি ছুয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধুর মত জাতির অন্তহীন ভালবাসা ও জনপ্রিয়তার উচ্চতাকে । আর এটাকে রক্ষা করতে হলে শেখ হাসিনাকে মনোযোগ দিতে হবে দুর্নীতি ও শোষণ মূক্ত এবং সুশাসন নির্ভর টেকসই শাসন ব্যবস্থায়। যেটা ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও স্বাধীনতার অন্যতম লক্ষ্য।

বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য এই কাজটি বাস্তবায়ন করার জন্যে শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হোন, এ আমার প্রার্থনা ।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : দেলোয়ার হোসেন

লেখক, সাংবাদিক, কলামিস্ট
স্টকহোল্ম, ২০১৮,০৫,১৭


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top