Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ৫:০৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের নিয়ে ডা. কামালের সরকারবিরোধী ঐক্য ব্যর্থ হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় শিশুসহ ৩২ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত আগামী নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা আসছে, জাতীয় পার্টির মহাসমাবেশ আজ আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বি, জনগণ হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ মানুষের ভিড়ের ওপর দিয়ে চলে গেল ট্রেন, ৫০ জন নিহত | প্রজন্মকণ্ঠ তরুণী ও কম বয়সী রোহিঙ্গা মেয়েরা পাচারের শিকার হচ্ছে : জাতিসংঘ যারা বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন তারা বিকল্পধারার কেউ নন : মাহী বি চৌধুরী  আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীনতা এখনও পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি : রাষ্ট্রপ্রতি সর্বত্র মানুষের মঙ্গলের সুযোগ করে দিতে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে : অর্থমন্ত্রী  সংস্কৃতি অঙ্গনে কালো ছায়া নেমে এলো | প্রজন্মকণ্ঠ

বাংলা সংবাদপত্রের দুইশ’ বছর


 মামুন রশীদ 

আপডেট সময়: ২৩ মে ২০১৮ ১১:৩০ পিএম:
বাংলা সংবাদপত্রের দুইশ’ বছর

উপ-সম্পাদকীয় : সকালে ঘুম ভেঙে সংবাদপত্রের পাতায় চোখ না রেখে দিন শুরু হলে অপূর্ণতা থেকে যায়। অথচ আজকের ঝলমলে, রঙিন এই সংবাদপত্রের গৌরবের শুরুর দিনগুলো ছিল অনেক কঠিন। সেই কঠিন পথ পেরিয়ে আমাদের সংবাদপত্র আজ দুইশ’ বছরে পা রেখেছে। প্রথম খবরের কাগজের শুরু হয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাত ধরে। মাসিক দেড় টাকা মূল্যের বিনিময়ে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মে (১০ জ্যৈষ্ঠ, ১২২৫) শনিবার প্রথম বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ হয়। পত্রিকাটির নাম ‘সমাচার দর্পণ’। সাপ্তাহিক এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। তিনি সম্পাদক হলেও পত্রিকাটি বাঙালি পণ্ডিতরাই সম্পাদনা করতেন। প্রাথমিকভাবে পত্রিকাটি সাপ্তাহিক হলেও পরবর্তীকালে পত্রিকাটি সপ্তাহে দু’বার প্রকাশিত হতে থাকে। যদিও সমাচার দর্পণের আগে ‘দিগদর্শন’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ হয়েছিল ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে। এই পত্রিকার সম্পাদকও ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। তবে সমাচার দর্পণকেই প্রথম বাংলা সংবাদপত্র হিসেবে ধরা হয়।

সমাচার দর্পণের সম্পাদকীয় বিভাগের পণ্ডিতরা অনুপস্থিত থাকলে পত্রিকাটিতে নতুন সংবাদ প্রকাশ হতো না। প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয় বিভাগে ছিলেন জয়গোপাল তর্কালঙ্কার। ১৮২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজে সাহিত্যের অধ্যাপক পদে যোগদান করলে পণ্ডিত তারিণীচরণ সমাচার দর্পণে যোগ দেন। তিনি ৪ বছর সমাচার দর্পণ সম্পাদনায় সহায়তা করেন। কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠায় ইংরেজি শেখার আগ্রহ বাড়ে এ দেশের মানুষের মাঝে। ফলে ১৮২৯ সালে সমাচার দর্পণকে দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) করা হয়। ৬ মে ১৮২৬ তারিখে শ্রীরামপুর মিশন থেকে সমাচার দর্পণের ফার্সি সংস্করণও বের হয়। কিন্তু তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে পত্রিকাটি কয়েকবার বন্ধ হয়ে গেলেও ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রকাশনা ধরে রাখতে পারে।

সেই বছরের ২৫ ডিসেম্বর সমাচার দর্পণের শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮১৮ সালের ৪ জুলাই থেকে ১৮২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যায় ‘দর্পণে মুখ সৌন্দয্যমির কায্যবিচক্ষণা: বৃত্তান্তানিহ জানমত্ত সমাচারস্য দর্পণে॥’ শ্লোকটি লেখা থাকত। প্রথম পর্যায়ে সমাচার দর্পণের প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে পত্রিকাটি আবার প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮৪২-৪৩ পর্যন্ত পত্রিকাটি ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় ভগবতীচরণ চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে পত্রিকাটি অল্পদিন চলে। তৃতীয় পর্যায় ১৮৫১-৫২ এ পর্যায়ে পত্রিকাটি দেড় বছর চলে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

সমাচার দর্পণ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে মিশনারিদের মাঝে মতভেদ ছিল। বিশেষ করে উইলিয়াম কেরি পত্রিকা প্রকাশ করে সরকারের বিরাগভাজন হতে চাননি। পরে স্থির হয় যে, প্রথম সংখ্যাটির ইংরাজি অনুবাদসহ একটি কপি সরকারকে পাঠানো হবে এবং অনুমতি পেলে তবেই পত্রিকা প্রকাশ হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে জন ক্লার্ক মার্শম্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডমনস্টোন, চিফ সেক্রেটারি ও গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস- এদের প্রত্যেককে অনুবাদসহ পত্রিকার প্রথম সংখ্যা পৌঁছে দেয়ার জন্য কলকাতায় গেলে লর্ড ওয়ারেন হেস্টিংস স্বহস্তে চিঠি লিখে মার্শম্যানকে পত্রিকা প্রকাশের জন্য প্রশংসা করেন। এরপরে পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রকাশের অল্প দিনের মধ্যেই জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

প্রগতিশীল পত্রিকা হিসেবে সমাচার দর্পণের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। ধর্ম প্রচারের উদ্দেশে প্রকাশিত হলেও সমাচার দর্পণ ধর্মীয় বির্তকে না জড়িয়েও, পত্রিকাটি খ্রিস্ট ধর্মের বাণী প্রচার করত। পত্রিকা প্রকাশের উদ্দেশ ব্যাখ্যা করে প্রথম সংখ্যার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সমাচার দর্পণ। কথক মাস হইল শ্রীরামপুরের ছাপাখানা হইতে এই ক্ষদ্র পুস্তক প্রকাশ হইয়াছিল ও সেই পুস্তক মাস ২ ছাপাইবার কল্পও ছিল তাহার অভিপ্রায় এই যে এতদ্দেশীয় লোকেরদের নিকটে সকল প্রকার বিদ্যা প্রকাশ হয় কিন্তু সে পুস্তকে সকলের সম্মতি হইল না এই প্রযুক্ত যদি সে পুস্তক মাস ২ ছাপা যাইত তবে কাহারও উপকার হইত না অতএব তাহার পরিবর্ত্তে এই সমাচারের পত্র ছাপাইতে আরম্ভ করা গিয়াছে। ইহার নাম সমাচার দর্পণ।’

এ ছাড়াও পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় ৭টি উদ্দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। যদিও এই উদ্দেশের ভেতরে সমাজ-নিয়মের কোনো পরিবর্তনের কথা ছিল না। পত্রিকায় সরকারি আদেশ প্রচার, বাণিজ্যের বিবরণ, নতুন প্রকাশিত বইয়ের বিবরণ, নতুন কলকারখানা স্থাপনের সংবাদ প্রচারকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও সমাচার দর্পণের পাতায় জজ, কালেক্টর ও অন্য রাজকর্মচারীদের নিয়োগ, ইংল্যান্ড ও ইউরোপ থেকে আগত সংবাদ এবং দেশের নানা সমাচার, বাণিজ্য বিষয়ক নতুন সংবাদ, জন্ম, বিবাহ ও মৃত্যু বিষয়ক সংবাদ, ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাস, পণ্ডিতলোক এবং বইয়ের বিবরণ, গভর্নর কর্তৃক জারিকৃত আইন ও হুকুম প্রভৃতির বিবরণ, ইউরোপীয়দের রচিত বই থেকে এবং ইংল্যান্ড হতে আসা বইয়ের শিল্প ও কলকারখানার বিবরণ প্রকাশিত হতো। ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বিষয়ের বিবরণও স্থান পেত। পত্রিকাটির পরিচিতির প্রথম ৩ সপ্তাহ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

সমাচার দর্পণের মতো সাময়িকপত্রের মাধ্যমেই বাঙালির হাতে গদ্য রচনার শুরু। সামায়িকপত্রের মধ্য দিয়েই বাংলা গদ্য সাহিত্যের ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ খুলে যায়। অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে এ দেশে যে সংবাদপত্রের ঐতিহ্য সৃষ্টি হয়েছিল তার প্রধান দিক ছিল সংগ্রামের। ব্যবসায়িক দিকটি এসেছে অনেক পরে। সংবাদপত্র প্রকাশের সময় থেকেই এ দেশে ব্রিটিশ শাসকরা সংবাদপত্রের ওপর নিজেদের দমননীতির মাধ্যমে সংবাদপত্রকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। সেই প্রক্রিয়া আজো থেমে যায়নি।

যুগে যুগে শাসক বদলেছে, কিন্তু সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধের উদ্যম থামেনি। তার পরও প্রথম সংবাদপত্র সমাচার দর্পণের ঐতিহ্যের পথ ধরে বাংলা সংবাদপত্রের যে পথ চলা, সে ধারা তা অক্ষুণ্ন রাখার মধ্য দিয়েই সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নির্ভীক এবং সত্য প্রকাশের ধারা অব্যাহত রাখার সংগ্রাম প্রয়োজন। অন্যথায় থমকে যাবে প্রগতির বিকাশ। আজ থেকে দুইশ’ বছর আগে সমাচার দর্পণের জনপ্রিয়তার পথ ধরেই বাংলা সংবাদপত্রের বিকাশ ও পালাবদলের ধারা অব্যাহত থাকুক।

 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top