Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ , সময়- ৬:৪৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবস্থা সঙ্কটজনক আলোর গতিতে বাংলার আকাশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নাম গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ সরকার গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে - এইচআরডব্লিউ : বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্র : সেলিম জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে : কামরুল নির্বাচনে বিশ্বাস করি, ভোটের লড়াই করে ক্ষমতায় যেতে চাই : মোহাম্মদ নাসিম কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ৪৮ জন নিহত এখন পর্যন্ত ৪০ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ারকে শেষ বিদায় জানালেন বানারীপাড়াবাসী

ঈদের আগেই ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ২৫ মে ২০১৮ ১২:০৯ এএম:
ঈদের আগেই ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শুধু কেন্দ্রে নয়, সারাদেশের ছাত্রলীগে নতুন সেটআপ দিবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রের পাশাপাশি সারাদেশের সব জেলা কমিটির বিষয়েও খোঁজ নিচ্ছেন তিনি। কেন্দ্রের মতো অনেক জেলা ইউনিটেই অনুপ্রবেশকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নেতা বনে যাওয়ার খোঁজ পাওয়ার পর ‘টোটাল ছাত্রলীগের’ নানাদিক নিয়ে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী। সারাদেশের সব ইউনিটের সারসংক্ষেপ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। ছাত্রলীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সর্বত্র সংস্কার আসতে পারে। 

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে খুঁজে বের কারতেই প্রধানমন্ত্রী সময় নিচ্ছেন। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব কাজের ব্যস্ততায় তিনি সময় বের করতে পারছেন খুব কম। আর ছাত্রলীগ নিয়ে তিনি এবার অন্য কারও ওপর আর ভরসা রাখতেও চাচ্ছেন না। ছাত্রলীগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ ও নীরিক্ষণও প্রায় শেষের দিকে। ভারত সফর শেষে দেশে আসার পর কমিটি ঘোষণা করতে পারেন তিনি। সূত্র জানায়, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই কমিটি ঘোষণা হবে। বিলম্ব হলেও রোজার ঈদের আগেই কমিটি ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্র বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মহানগরের দুই অংশ ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির আংশিক কমিটি করে দিতে পারেন তিনি নিজেই। এছাড়া ঢাকা ও এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটেও যোগ্য ও দক্ষ ছাত্রনেতাদের নেতার নাম দিয়ে দিতে পারেন নতুন নির্বাচিত সভাপতি-সম্পাদকের কাছে। তারা পরবর্তীতে এসব ইউনিটে কমিটি গঠন করবেন। মেয়াদপূর্তি না হলেও সাংগঠনিক গুরুত্ব বিবেচনায় অনেক জেলায় আসতে পারে নতুন কমিটি।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি ‘মাইন্ড সেট’ হয়ে গেছে। আর সে কমিটির বয়স সীমা হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ২৮ বছর। অর্থাৎ ২৯ বছর পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রলীগের বয়সসীমা থাকবে। 

এমন মাইন্ডসেট থাকার পরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট নিয়েও পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্যই কমিটি গঠনে বিলম্ব হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত চলমান সময়ে প্রধানমন্ত্রী দুটি বিষয় দেখতে চেয়েছেন। প্রথমত, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না, অভিযোগগুলো অদৌ সত্য কি না। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কার ব্যাপারে কত উৎসাহী ? বেশ ক’জন নেতা আছেন যারা তাদের পছন্দের ছেলেমেয়েদের কমিটিতে রাখতে চান। ওই কমিটি যেন নিজেদের পকেট কমিটি হিসেবে কাজ করে। এসব বিবেচনায় ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সব সিন্ডিকেট অকার্যকর করতে চান। ছাত্রলীগের দুই/তিনজন শীর্ষনেতার গতিবিধি নজরদারিতে রয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ছাত্রলীগের কমিটি বিলম্বিত হওয়ার কারণ ছাত্রলীগকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত নানামুখী সমস্যার পর্যবেক্ষণ ও নীরিক্ষণ শেষে তার সুষ্ঠু সমাধান বের করা। বিভিন্ন জেলায় শীর্ষ পদে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী। ঢাকা মহানগরের কয়েকটি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদধারী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ঢাকার একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও এ তালিকায়। এসব বিষয় ভাবিয়ে তুলেছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলকে। এজন্য দলের নেতারা এর সমাধানের পুরো দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে। রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি আপাতত যেটুকু সময় বের করতে পারেন তখনই ছাত্রলীগের বিভিন্ন বিষয়ে সমাধান খোঁজেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, এবার সবকিছু চূড়ান্ত হওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব করছেন। এই বিলম্বের মূল কারণ হলো, ছাত্রলীগে যেন আর অনুপ্রবেশকারী না ঢোকে। ছাত্রলীগকে কেউ যেন বিপথে নিয়ে যেতে না পারে। সূত্র জানায়, বাছাইয়ে যাদের নাম সামনে এসেছে, অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো না কোনো অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় সমালোচনা নেই, এমন নেতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্রলীগ নিয়ে গা শিউরে ওঠা তথ্য-উপাত্ত গোয়েন্দাদের হাতে। এসব রিপোর্ট জমা প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বলা হয়েছে, ছাত্রলীগকে পরিকল্পিতভাবে জঙ্গি সংগঠনে পরিণত করার টার্গেট ছিল অনুপ্রবেশকারীদের। ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন পদের পাশাপাশি সারাদেশের বিভিন্ন জেলা ইউনিটে শিবির, ছাত্রদল, শান্তি কমিটির সন্তান-স্বজনসহ স্বাধীনতাবিরোধী মতাদর্শের ছাত্রদের ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি অওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠকে আলোচনাকালে বলেছেন, ‘ছাত্রলীগকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে সেটা হতে দেবো না।’ 

জানা গেছে, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনে পদ প্রত্যাশী সবাইকে প্রধানমন্ত্রী ডেকে কথা বলবেন না। তবে যাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসাবেন সেই ২৫/৩০ জনের সঙ্গে তিনি কথা বলতে পারেন। তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও কর্মপন্থা বলে দিবেন।

সর্বশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিলম্বের বিষয়ে আওয়ামী লীগের এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী জিজ্ঞেস করলে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ৩২৩ জন পদ প্রত্যাশীর অতীত, পারিবারিক পরিচয়সহ জীবনবৃত্তান্ত এবং সাংগঠনিক ও গোয়েন্দা সংস্থার ৫ স্তরের রিপোর্ট মিলিয়ে দেখছেন। এজন্য সময় লাগছে।

জানা যায়, বিগত দুটি কমিটির প্রথম সারির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমা পড়েছে প্রধানমন্ত্রীর হাতে। দেশ-বিদেশে তাদের জাঁকজমকপূর্ণ রাজসিক জীবনযাপনে আয়ের উৎস খোঁজা হচ্ছে। অনেকের আন্তর্জাতিক কানেকশন রয়েছে। এসব বিষয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। এমতাবস্থায় ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণ।

আওয়ামী লীগের এক সম্পাদকমণ্ডলীর নেতা বলেন, অধিকতর যোগ্য প্রার্থীকে খুঁজে বের করতেই সময় নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার কারণে তিনি আগের মতো সময় পাচ্ছেন না। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top