Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৯ , সময়- ৪:০৬ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন ফেরদৌস ও শাহ ফরহাদ নেতাজি'কে কেন রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদা দেওয়া হল না, ক্ষুব্ধ মমতা সাংবাদিকদের একটা করে ফ্ল্যাট দেবে সরকার আ'লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর জনগণ শান্তিতে : কাদের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ব ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত ডাকসু নির্বাচন, আগামী ১১ মার্চ বিশ্ব চিন্তাবিদের তালিকায় এবার শেখ হাসিনা  যুবলীগ ও আ'লীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ১০ গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একসঙ্গে চলবে : প্রধানমন্ত্রী দুদকের পরিচালক সাময়িক বরখাস্ত

সারা দেশের ভুঁইফোড় ২০২টি মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ৩১ মে ২০১৮ ২:২৫ পিএম:
সারা দেশের ভুঁইফোড় ২০২টি মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লেমুয়া চন্দ্রকান্দা আলিম মাদ্রাসা। গত ১৩ বছর এ মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণির জেডিসি (জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট) ও আলিম পরীক্ষায়  অংশ নিয়ে পাস করতে পারেনি। তারপরেও মাদ্রাসাটি টিকে ছিল। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ ছিল, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মাদ্রাসাটি চালাতো কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ব্যবস্থা নিতে দুই দফা চিঠি দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের চাপে সম্প্রতি মাদ্রাসার পাঠদানের অনুমতি বাতিল করেছে বোর্ড। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার আরও ২০২টি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া হলো।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, লেমুয়া চন্দ্রকান্দা আলিম মাদ্রাসার চিত্র দেখে মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা শাখার কয়েক জন দক্ষ কর্মকর্তা চমকে যান। তারা ধারণা করেন, সারা দেশে এ ধরণের আরও মাদ্রাসা আছে। খতিয়ে দেখতে মাদ্রাসা শাখার অতিরিক্ত সচিবকে অনুরোধ করেন। অতিরিক্ত সচিব রাজি হয়ে প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে বোর্ডের কাছে দুই দফা চিঠি দেওয়া হয়। 

এরপরই নড়েচড়ে বসে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। সারা দেশের ভুঁইফোড় ২০২টি মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সংখ্যক শিক্ষার্থী না থাকা ও পাবলিক পরীক্ষায় পাস না করায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর থেকে এসব মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যাবেনা। অধ্যয়ণরত শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী স্বীকৃত মাদ্রাসায় রেজিস্ট্রেশন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি স্বীকার করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ কে এম সাইফুল্লাহ বলেন, এসব মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ ছিল। পাবলিক পরীক্ষা থেকে শুরু করে কোন পরীক্ষায় তারা অংশ গ্রহণ করেনি। কেন শিক্ষার্থী নেই তার কারণ জানতে চেয়ে প্রথমে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। অনেকেই জবাব পর্যন্ত দেয়নি। যারা দিয়েছে তাদের জবাব সন্তোষজনক নয়। এজন্য এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। সহকারী সচিব (মাদ্রাসা-২) আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীন কোন কোন মাদ্রাসায় কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বা কাম্য ফলাফলের ঘাটতি রয়েছে বা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে-তা পরীক্ষা করে একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে ২৭ মার্চ নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অদ্যাবদি প্রতিবেদন পাঠানো হয়নি। ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠাতে ফের নির্দেশ দেওয়া হলো।

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, মাদ্রাসা বোর্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এসব প্রতিষ্ঠান শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যানকে দুই দফা চিঠি দেওয়ার পরেও তিনি ব্যবস্থা নিতে সময় ক্ষেপণ করেছেন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ২০২টি মাদ্রাসার শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বুধবার এ সংক্রান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দাখিল স্তরের শিক্ষার্থীদের পার্শ্ববর্তী বা কেন্দ্রস্থিত মাদ্রসায় রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়েছে। বন্ধের কারণ ব্যাখ্যা করে বোর্ড বলেছে, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের দাখিল পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেনি। এর কারণ জানতে চেয়ে মাদ্রাসা প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। অনেকেই এর জবাব দেয়নি। যারা জবাব দিয়েছে তাতে বোর্ড সন্তোষ্ট হতে পারেনি। এ কারণে এসব মাদ্রাসার অনুমতি ও একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিলসহ অনলাইনে পাসওয়ার্ড, মাদ্রাসার কোড নম্বর ও ইআইআইএন নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হলো। 

বোর্ড সূত্র জানিয়েছে বন্ধ তালিকায়-বাগেরহাট জেলার চারটি, বরগুনার পাঁচটি,  বরিশালের দুইটি, ভোলা জেলার ছয়টি, বগুড়ার চারটি, বাহ্মণবাড়িয়া একটি, চাদঁপুরে একটি, চাপাঁইনাববগঞ্জে দুইটি, চট্টগ্রামের একটি, কুমিল্লার তিনটি, দিনাজপুর জেলার ১৯টি, গাইবান্ধার ১২টি, যশোরের পাঁচটি, ঝিনাইদহে একটি, জয়পুরহাটে দুইটি, খাগড়াছড়ির একটি, খুলনা জেলায় চারটি, কিশোরগঞ্জের একটি, কুড়িগ্রামে একটি, কুষ্টিয়ার তিনটি, লালমনিরহাটে পাঁচটি, মেহেরপুরের একটি, ময়মনসিংহের চারটি, নওঁগা জেলার একটি, নাটোরে ১১টি, নড়াইলের একটি, নেত্রকোনার একটি, নীলফামারির তিনটি, নোয়াখালী জেলার একটি, পাবনা জেলায় পাঁচটি, পঞ্চগড়ের সাতটি, পটুয়াখালীতে সাতটি, রাজবাড়িতে দুইটি, রাজশাহীতে ১১টি, রংপুরের নয়টি, সাতক্ষীরা জেলার পাঁচটি, সিরাজগঞ্জের ১০টি, সিলেটের একটি ও ঠাকুরগাঁও জেলার ২৬টি।  

বন্ধ হওয়া মাদ্রাসার তালিকা


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top