Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ , সময়- ১১:৪৯ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
অটলবিহারী বাজপেয়ীর অবস্থা সঙ্কটজনক আলোর গতিতে বাংলার আকাশ ছাড়িয়ে বহির্বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর নাম গভীর শোক আর শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করলো বঙ্গবন্ধুকে বাংলাদেশ সরকার গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে - এইচআরডব্লিউ : বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ছিল দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্র : সেলিম জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে : কামরুল নির্বাচনে বিশ্বাস করি, ভোটের লড়াই করে ক্ষমতায় যেতে চাই : মোহাম্মদ নাসিম কাবুলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় ৪৮ জন নিহত এখন পর্যন্ত ৪০ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সারওয়ারকে শেষ বিদায় জানালেন বানারীপাড়াবাসী

তিন সিটিতে আ'লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বেশ উৎফুল্ল ভাব, উৎকণ্ঠায় বিএনপি


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ৩ জুন ২০১৮ ২:১৯ পিএম:
তিন সিটিতে আ'লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বেশ উৎফুল্ল ভাব, উৎকণ্ঠায় বিএনপি

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, আগামী ৩০ জুলাই এ তিন সিটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষণার পর এ তিন সিটি নির্বাচন আলোচনায় চলে আসে। তিন সিটির ভোটের আয়োজন একই দিনে করায় জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের এটাই সবচেয়ে বড় আয়োজন।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বেশ উৎফুল্ল ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেননা তাদের দল এখন সরকার ক্ষমতায়। প্রশাসনের কাছ থেকে তারা এক ধরনের বাড়তি সুবিধা পাবেন বলে ধরেই নিয়েছেন। তা ছাড়া এমপিরাও তাদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাবে বলে তারা মনে করছেন। সবকিছু মিলে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বেশ উৎফুল্ল।

অন্যদিকে খুলনার সিটি নির্বাচনের পর নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে চিন্তিত বিএনপি। কেননা খুলনায় যেভাবে ভোট হয়েছে সেই একইভাবে এ তিন সিটিতে ভোট হলে তারা নির্বাচনে জয়লাভ করবে এমনটা নিশ্চিত হতে পারছেন না।

বিএনপি বর্তমানে তারা সরকারে নেই, সংসদেও নেই। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা যদি সিটি নির্বাচনে প্রচারণা চালায় তাহলে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে সমান সুবিধা পাবেন কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায়। এ ছাড়া দীর্ঘদিন তাদের দল ক্ষমতায় না থাকার কারণে নেতাকর্মীরা অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। অনেকের নামে রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। সেসব মামলায় অনেকে আত্মগোপনেও রয়েছেন।

তারা যদি দলের প্রার্থীর প্রচারণায় প্রকাশ্যে আসেন তাহলে গ্রেপ্তার হতে পারেন। এমন আশঙ্কা থেকে অনেক নেতাই দলীয় প্রার্থী পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। এসব কারণে বিএনপির মধ্যে এক ধরনের উৎকণ্ঠা লক্ষ করা গেছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন : রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আগেই চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে। তিনি হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

দলীয় সভানেত্রীর সবুজ সংকেত পেয়ে চলতি বছরের শুরু থেকেই তিনি শুরু করেছেন নির্বাচনী প্রচার। এ ছাড়া দলে তার বিকল্প কোনো প্রার্থী না থাকায় ফুরফুরে মেজাজে থেকে তিনি গত জানুয়ারি থেকেই মেয়র পদে নগরবাসীর সমর্থন চেয়ে প্রচার কাজ শুরু করেছেন।

মহাজোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাও তাকে সমর্থন দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেয়র পদে লিটনকে বিজয়ী করার আহ্বান জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, আসন্ন সিটি নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি অভিযোগ করেছেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই।

এ অবস্থার উত্তরণ না ঘটলে তিনি হয়তো নির্বাচনই করবেন না। ৬০ মাসের জন্য নগরবাসীর ভোটে মেয়র নির্বাচিত হলেও বুলবুল সব মিলে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন মাত্র ২৭ মাস। দায়িত্ব পালনকালে এ সময়ের মধ্যে বেশিরভাগ সময় তার কাটাতে হয়েছে আদালতের বারান্দায়। এ ছাড়া সরকারের কাক্সিক্ষত বরাদ্দ না পাওয়ায় নগরীর উন্নয়নে প্রত্যাশিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাতে পারেননি বুলবুল।

ফলে, খুলনা সিটির মতো রাজশাহীতে মেয়র পদপ্রার্থী পরিবর্তনও করতে পারে বিএনপি। জানা গেছে, সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু কিংবা দলের রাজশাহী মহানগর সম্পাদক শফিকুল হক মিলনকেও মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে পারে বিএনপি। পাশাপাশি জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও ভাবাচ্ছে বিএনপিকে।

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানো জামায়াত এরই মধ্যে রাজশাহীর মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে। মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি সিদ্দিক হোসেন স্বতন্ত্র হিসেবে মেয়র পদে লড়ার ইঙ্গিত দিয়ে নগরীতে ফেস্টুনও লাগিয়েছেন। আর রাজশাহীতে জামায়াতের যে ভোটব্যাংক রয়েছে, নির্বাচনে তা বিএনপির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও গত ১২ মার্চ দলটির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সিদ্দিক হোসেনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তবে সেটাকে সমস্যা হিসেবে দেখছেন না জামায়াত নেতারা। তারা বলছেন, কারাগার থেকে ভোট করার ইতিহাস আছে। বরং জেলে বন্দি থেকে নির্বাচন করলে ভোটারদের বাড়তি সহানুভূতিও পাওয়া যায়।

বরিশাল সিটি করপোরেশন : নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই বরিশালের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসেছেন। শাসক দল আওয়ামী লীগের নেতারা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়রপ্রার্থী করতে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশপত্র পাঠিয়েছে।

এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও মহানগর যুবলীগ যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন মেয়রপ্রার্থী পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী। বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল জানান, তৃণমূল আওয়ামী লীগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র পদে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

বিএনপিতেও একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের দিকেই তাকিয়ে আছেন নেতারা। কেন্দ্র থেকে যে কেউ মনোনয়ন পেলেও মজিবর রহমান সরোয়ারের আর্শীবাদ পাওয়া ছাড়া বরিশালে বিএনপির প্রার্থীর মেয়র হওয়া কঠিন।

এ ছাড়া অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন- জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বর্তমান মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন। এ ছাড়াও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনও মেয়র পদে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে কর্মিসমর্থকরা জানিয়েছেন।

সর্বশেষ ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল ৮৩ হাজার ৭৫১ ভোট পেয়ে বরিশালের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন পেয়েছিলেন ৬৬ হাজার ৭৪১ ভোট।

সিলেট সিটি করপোরেশন : সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এটা অনেক আগ থেকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল। কামরান ছাড়াও আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। এ দুইজন ছাড়াও আরও কিছু প্রার্থী রয়েছেন।

তারা হলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মাহী উদ্দিন আহমদ সেলিম। মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, বদরুজ্জামান সেলিম, জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর শাখার আমির অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top