Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , সময়- ২:২৫ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিতর্ক কেন ? বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | প্রজন্মকণ্ঠ পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আবেদন খালেদা জিয়ার | প্রজন্মকণ্ঠ খালেদা জিয়া কারাগারের বাইরে থাকার সময়ও জনগণ তার ডাকে সাড়া দেয়নি : ওবায়দুল কাদের বিএনপি-জামায়াত ক্লিনহার্ট অপারেশন চালিয়ে আ'লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে নির্যাতনের শিকার করেছিল : প্রধানমন্ত্রী  ধর্মমন্ত্রী ও ভূমিমন্ত্রীর  কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল করেছে বিএনপি আ'লীগের প্রতিনিধিদলের উত্তরবঙ্গ সফর শুরু । প্রজন্মকণ্ঠ   বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলন : সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার অঙ্গীকার | প্রজন্মকণ্ঠ  সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে স্বাগতিক বাংলাদেশ, আগামীকাল | প্রজন্মকণ্ঠ

তিন সিটি নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের টানাপড়েন


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ৮ জুলাই ২০১৮ ১:৫০ এএম:
তিন সিটি নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের টানাপড়েন

তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে ১৯ বছর ধরে জোটবদ্ধ বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই নিরসন হয়নি। সিলেটে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পাশাপাশি জামায়াতও প্রার্থী দিয়েছে এহসান মাহবুব জুবায়েরকে। এছাড়াও রাজশাহী ও বরিশালে মেয়র পদে প্রার্থী না দিলেও বিএনপির পাশাপাশি অধিকাংশ কাউন্সিলর প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। বিএনপি জানিয়েছে, অন্য দুই মহানগরের পাশাপাশি সিলেটেও ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী থাকবে। আর জামায়াত জানিয়ে দিয়েছে, জোটের একক প্রার্থী দিতে হলে সিলেটে সরে দাঁড়াতে হবে বিএনপিকেই। এ নিয়ে ২০ দলীয় জোটের প্রধান দুই শরিকের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন সিটিতে প্রার্থী বাছাইয়ের পর থেকেই এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে তিক্ততা শুরু হয়। এমনকি সিলেটে জামায়াত নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে তারা এতটাই অটল যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধও তারা উপেক্ষা করেছেন। ২০ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে বৈঠকের সময় শরিক দলের নেতাদের অনুরোধকেও পাত্তা দেয়নি তারা। আবার গণমাধ্যমে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের বক্তব্য সত্য নয় জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতিও দিয়েছে দলটি। জানিয়ে দিয়েছে, সিলেটে তাদের প্রার্থী জুবায়েরই থাকছে।

সিলেটের দলের প্রার্থীর পক্ষে গতকালও জামায়াতের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. তাসনীম আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে- সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে ২০ দলীয় জোটে ভাঙন সৃষ্টি হোক তা কারও কাম্য নয়। আমরা জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে সব সিটি করপোরেশন নির্বাচনেই বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি। আমরা আশা করছি শুধু সিলেটে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীকে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। আমাদের এ আশা সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে অতএব, আমাদের প্রত্যাশা ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো আমাদের দলের প্রার্থীকেই ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করে বিরাজমান সমস্যার যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত সমাধান করবেন।

এ বিষয়ে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী ও সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল আজকালের খবরকে বলেন, ‘বিএনপির প্রার্থীর সমর্থনে মেয়র পদে নির্বাচন থেকে তার সরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া সিলেটে ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী কে সেটি জোটগতভাবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা আশা করছি সবদিক বিবেচনা করে সমঝোতার মাধ্যমে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের সমর্থন আমরা পাব। এর বাইরে আর কিছু বলা যাচ্ছে না।’
জামায়াতের এই অনড় অবস্থানের বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতারা অবশ্য প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। শুক্রবার এই বিষয়ে জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আজম খান গতকাল আজকালের খবরকে বলেন, ‘৯ তারিখ প্রার্থী প্রত্যাহারের আগেই বিষয়টি নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করি জোটের স্বার্থে সবাই একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিলে এর সমাধান হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জোটে প্রধান দল বিএনপি। সেটি শরিক দলগুলোকে মনে রাখতে হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এক নেতা আজকালের খবরকে বলেন, জামায়াত সিটি নির্বাচন করে জয়লাভ করার মতো শক্তিশালী দল হয়ে ওঠেনি। তারপরেও তারা কেন প্রার্থী হয়েছে সেটি রহস্যজনক। আমার মনে হয় বিএনপির উচিত হবে সিলেটে বিষয়টি ওপেন করে দিয়ে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া। অন্যথায় জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াত আসন ভাগাভাগি নিয়ে অহেতুক ঝামেলা করতে পারে।’

এদিকে জোটের সিদ্ধান্ত মেনে সিলেটে বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে সমর্থন না দেওয়ার ঘটনায় জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে ২০ দলেও। বিশেষ করে গত বুধবার সন্ধ্যায় জোটের বৈঠকে সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটিতে একক প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর গভীর রাতে সিলেটে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে জামায়াতের বিবৃতি দেওয়ার ঘটনাটিকে মোটেই ভালোভাবে নেয়নি ২০ দলীয় জোট। জোট নেতাদের মতে, ওই বিবৃতির ফলে দেশবাসীর কাছে জোট সম্পর্কে ভুল মেসেজ গেছে, জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এতে করে ২০ দলীয় জোটের মধ্যেও অস্থিরতা-অস্বস্তি বেড়েছে। তবে এরপরও ২০ দলের নেতাদের আশা, জোটের স্বার্থে অন্য সিটির মতো সিলেট থেকেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জামায়াত তাদের প্রার্থীকে সরিয়ে নেবে। তারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন এবং তিন সিটিতে কাউন্সিলর নিয়ে দরকষাকষি করতেই জামায়াত এমনটা করেছে। জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোটের শরিক ও ন্যাশন্যাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, ‘জোটের বৈঠকে তিন সিটি নির্বাচনে একক প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় ২০ দলীয় জোট। তিন সিটিতেই বিএনপির প্রার্থীকেই সমর্থন দেওয়া হয়েছে। যদিও সিলেটে জামায়াত তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সময় চেয়েছিল। কিন্তু বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানোও হয়। আর সংবাদ সম্মেলনের ওই বক্তব্যের ড্রাফট বৈঠকেই শোনানো হয়েছে। ফলে এই বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ থাকা ঠিক নয়। তারপরও যদি জামায়াতের কোনো বক্তব্য থাকতো- সেটা গণমাধ্যমে না বলে জোটের প্রধান শরিক বিএনপির শীর্ষ নেতাদের তারা বলতে পারতেন। সেটাই হতো জোটের জন্য মঙ্গলজনক।’

জোটের আরেক শরিক এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘বিএনপি বড় দল, জোটের প্রধান দল। সিলেটের সদ্য বিদায়ী মেয়রও বিএনপির। তাছাড়া জামায়াতের চেয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থীই বেশি জনপ্রিয়। সেখানে বিএনপির প্রার্থী থাকলে জয়ের সম্ভাবনা বেশি। সেজন্য আমরা জামায়াতের প্রার্থীকে সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছি। আমরা চাই, যেখানে জোটের যে দলের অবস্থান ভালো সেখানে সেই দলের প্রার্থীকেই মনোনয়ন দিতে হবে।’ 

অন্যদিকে বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাদের অভিমত হচ্ছে- কোনো হিসেবেই সিলেটে জামায়াতের মেয়র প্রার্থীকে বিএনপির সমর্থন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাদের মতে, জামায়াতের সঙ্গ ছাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ওপর দেশীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন চাপ রয়েছে। সম্পর্কোন্নয়নে অতি সম্প্রতি বিএনপির প্রতিনিধি দলের ভারত সফরেও জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের ব্যাপারে জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছে সেখানেও জামায়াত একটি বড় বাধা। তাই এই মুহূর্তে জামায়াতকে মেয়র পদে ছাড় দেওয়া হবে রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তাছাড়া ২০১২ সালে জামায়াতের সঙ্গে জোটভুক্ত হওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীনরাসহ দেশি-বিদেশি অনেক সংগঠন বিএনপিকেও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে বিএনপির হাইকমান্ডের ওপর তাদের চাপ অব্যাহত রয়েছে। 

২০ দলীয় জোটের একটি সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের এই টানাপড়েন শুরু গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে। ওই সিটিতে জামায়াত প্রার্থী দিয়েছিল এস এম সানাউল্লাহকে। পরবর্তীতে জোটের নেতৃত্বে থাকা বিএনপিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, গাজীপুরে ছাড় দিতে। তাতে বিএনপি রাজি না হওয়ায় বরিশাল, রাজশাহী বা সিলেটের যেকোনো একটিতে ছাড় দেওয়ার কথা বলে রেখেছিল। ওই পরিস্থিতিতে বিএনপি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনো জবাব দেয়নি। এখন জামায়াত সিলেটে মেয়র পদের পাশাপাশি রাজশাহী ও বরিশাল দুই সিটিতে কাউন্সিলর পদে নিজেদের দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। এসব প্রার্থীর বিষয়ে তারা এখন পর্যন্ত অনড় রয়েছে। যার প্রেক্ষিতে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দ্ব›দ্ব অনেকটাই প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এদিকে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রচারণার জন্য তিনটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে ২০ দলীয় জোট। যাতে জায়গা হয়নি জামায়াতে ইসলামীর।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top