Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ৩:১২ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
বাংলাদেশে ইংরেজি বর্ষবরণে হামলার ছক বানচাল : পরিকল্পনা ফাঁস  নির্বাচনের মাঠে জামাত, ৪৭ জনের প্রার্থীপদে আপত্তি আমেরিকার  টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আ.লীগের নির্বাচনী প্রচার : এইচটি ইমাম নৌকার পক্ষে ভোট দেওয়ার ওয়াদা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী  ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় গণসংযোগে মির্জা ফখরুল  বিতর্কিত সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ ও তাঁর রাজনীতি  প্রমাণিত হলো বিএনপি সন্ত্রাসী দল : কাদের  বিবাহবার্ষিকীতে দোয়া চাইলেন ক্রিকেট সুপারস্টার সাকিব টুঙ্গিপাড়া থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা 

নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট : ভেস্তে যেতে বসেছে যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগ


প্রজন্মকণ্ঠ রিপোর্ট

আপডেট সময়: ২১ জুলাই ২০১৮ ২:১৫ এএম:
নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট : ভেস্তে যেতে বসেছে যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগ

দুই প্রধান দলের বাইরে গিয়ে চার রাজনীতিকের তৃতীয় শক্তি হওয়ার বাসনায় যুক্তফ্রন্ট গঠনের শুরুতেই শুরু হয়েছে নেতৃত্বের কোন্দল। ফলে রাজনীতির মাঠে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগ কি তাহলে ভেস্তে যাচ্ছে ? গত বছর ডিসেম্বরে ঘোষিত এই জোটের আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি দৃশ্যমান নয়। উপরন্তু জোটের নেতৃত্ব নির্বাচন ও জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে নিজেদের ভিতরকার দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে ড. কামালকে যুক্তফ্রন্টের যুক্ত করা নিয়ে তীব্র মতানৈক্য বিরাজ করছে।

শুক্রবার যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত দলগুলোর আলাদা দুটি সংবাদ সম্মেলন ও বক্তব্য সেই ইঙ্গিতই বহন করে। যদিও উদ্যোক্তাদের দাবি আগামী দিনে একটি অর্থবহ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তারা কাজ করছেন। এই প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের মধ্য কিছুটা মতবিরোধ তৈরি হলেও খুব সহসাই সেটি কেটে যাবে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে আলোচিত পাঁচ রাজনীতিক গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিকল্পধারার সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না একটি বিকল্প জোট গঠনের চেষ্টা চালান। জোট গঠনের বিষয়ে বেশ কয়েকবার তারা গণমাধ্যমে কথাও বলেছেন।

সবশেষ গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুর দিকে আ স ম রবের বাসায় ড. কামাল হোসেনকে বাইরে রেখে জোটের ঘোষণা দেন বাকি চার নেতা। নাম দেওয়া হয় যুক্তফ্রন্ট। ওই বৈঠকে জোটের চেয়ারম্যান করা হয় বি চৌধুরীকে আর সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয় মান্নাকে। সে সময় কামাল হোসেন দেশের বাইরে থাকায় তিনি এই জোটে আসেননি বলে জানানো হয়। তবে দেশে ফিরে কামাল হোসেন জোটে যোগ দেননি। তার বদলে তিনি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ডাক দেন। যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে তার সঙ্গে আগ বাড়িয়ে যোগাযোগ করা হয়নি। সেদিন বি চৌধুরী বলেছিলেন আমরা সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করব নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে। এটাই আমাদের প্রথম কাজ হবে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতের বৈঠকে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে যুক্তফ্রন্টে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। বৈঠকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর এ সংক্রান্ত প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে মতদ্বৈধতা শুরু হয়েছে। কাদের সিদ্দিকীর প্রস্তাব ড. কামাল হোসেনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। বি চৌধুরীর বাসায় প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে ড. কামাল হোসেনের যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া দেয়নি জোটের বাকি দলগুলোর নেতারা। আর এ নিয়ে গতকাল বিকালে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন কাদের সিদ্দিকী।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা যে জাতীয় ঐক্য করতে যাচ্ছি সেই ঐক্য জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে ঐক্যজোটের প্রধান থাকবেন অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী আর রাষ্ট্রপ্রধান হবেন সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন।’

আগামীতে দেশ পরিচালনা সম্পর্কে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা চাই সরকারি প্রভাবমুক্ত অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচিতরা সরকার চালাবে। আর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল-জোট-মোর্চা-ফ্রন্ট-নীতি-নির্ধারণ এবং সরকার পরিচালনা করবে। কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে সরকার বা দলীয় পদে থাকতে পারবেন না। তাছাড়া কেউ একনাগাড়ে দুইবারের বেশি মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না।’

কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশে সুস্থ রাজনীতি এবং সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি থেকে সমদূরত্বে অন্য সবাইকে নিয়ে একটি অর্থবহ জাতীয় ঐক্যের চেষ্টা করছি। সে জাতীয় ঐক্য বিএনপির জোটে ভিড়ে অথবা বিএনপির নেতৃত্বে নয়। এই ঐক্যে জামায়াতের স্থান হবে না। জাতীয় ঐক্য হবে প্রবীণ নাগরিক খ্যাতিমান চিকিৎসক অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তফ্রন্ট এখনও প্রস্তাবিত। শুধু ঘরোয়াভাবে আলোচনা হয়েছে। দুই প্রবীণ নেতাকে (বি চৌধুরী ও ড. কামাল) নিয়ে দেশে জনগণের কাক্সিক্ষত জাতীয় ঐক্য হবে।

অন্যদিকে শুক্রবার সকালে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও মাহি বি চৌধুরী। রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মান্না বলেন, আগামী নির্বাচনে দেশ বাঁচাতে নৌকা থেকে বিরত থাকতে হবে। এটাই আমাদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন। আমরা ভারসাম্যের ভিত্তিতে আলাদা জোট অথবা ঐক্য করতে চাই। 

এক প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, আমরা জামায়াতের সঙ্গেও যাচ্ছি না, আবার বিএনপির সঙ্গেও যাচ্ছি না। আমরা বলছি না আমাদের প্রধানমন্ত্রিত্ব বা মন্ত্রিত্ব দিতে হবে। একইভাবে বলি, মালয়েশিয়ায় কোনো দল যদি ১৫ জন সংসদ সদস্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেতে পারে, তাহলে আমরা তো ৫০ বা ৬০টি আসন পেতে পারি। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা পরিবারকে ক্ষমতায় বসানো গণতন্ত্র হতে পারে না। এজন্য আমরা ভারসাম্যের ভিত্তিতে আলাদা জোট অথবা ঐক্য করতে চাই। এ জোটে সরকারবিরোধী বিএনপিসহ সব দলই থাকতে পারবে।

জাতীয় ঐক্যে জামায়াতকে নেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মান্না বলেন, জামায়াত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসতে পারবে না। কারণ, তাদের নিবন্ধন নেই। জামায়াত হয়তো বিএনপি থেকে ১০টা আসন পেতে পারে। আওয়ামী লীগ থেকেও পেতে পারে। কারণ তারা তো দাঁড়িপাল্লা নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না। জামায়াত সাংগঠনিক বা রাজনৈতিকভাবে নেই। আর এখনই জামায়াত-জামায়াত করে ঐক্য বাধাগ্রস্ত করতে চাই না।

তবে যুক্তফ্রন্টের শরিক কাদের সিদ্দিকীর দাবি ফ্রন্ট, জাতীয় ঐক্য বা মোর্চা যাই হোক সেটি হতে হবে বি চৌধুরী ও ড. কামালের নেতৃত্বে। এ বিষয়ে মান্নার বক্তব্য জানতে চাইলে গতকাল রাতে আজকালের খবরকে তিনি বলেন, উনি (কাদের সিদ্দিকী) উনার মতামত দিয়েছেন। আমরাও চাই উনি (ড. কামাল হোসেন) আসুক। প্রাথমিক দিকের সময় তো তিনি ছিলেন। কিন্তু জোট গঠনের সময় তিনি আসলেন না। সেটি নিয়ে জোটের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। কিছু প্রক্রিয়াগত সমস্যা আছে যা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক হয়ে যাবে।

ড. কামাল হোসেনকে যুক্ত করা নিয়ে বা তার নেতৃত্ব নিয়ে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে কিনা? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন সফল করার জন্য সবাইকে ছাড় দিতে হবে। এখানে নেতৃত্ব কোনো বিষয় নয়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

অন্যদিকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী শুক্রবার রাতে আজকালের খবরকে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। জোট বা জাতীয় ঐক্য যাই হোক, সেখানে বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনকে রাখতে হবে।

এদিকে যুক্তফ্রন্ট গঠনের ছয় মাসের বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত  দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি নেই। দু-একটি ইস্যুতে বিবৃতি ও রমজানে ঘরোয়াভাবে কয়েকটি ইফতার আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। যদিও রোজার সময় বলা হয়েছিল ঈদের পরেই সমন্বিত কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামা হবে। তবে সেটি ঘোষণাতেই আটকে আছে। আর এজন্য রাজনীতিতেও সেভাবে কোনো প্রভাব রাখতে পারছে না। এ নিয়ে জানতে চাইলে জে এসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন বলেন, যুক্তফ্রন্টের কার্যক্রম নিয়ে আমরা হোম ওয়ার্ক করছি। কিন্তু সারা দেশের গণতন্ত্রের যে পরিবেশ, গণতন্ত্রহীনতার যে পরিবেশ তাতে কিছুতেই আমরা ভালো করে কাজ করতে পারছি না। তার আরও দাবি, আমরা দেশের বহু জায়গায় কমিটি করেছি, তারা প্রকাশ্য হতে পারছে না। বের হলেই তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাজটা অনেক দূর এগিয়েছে।

জোটের এই নেতা আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আগামী আন্দোলনে যুক্তফ্রন্ট সক্রিয়ভাবে থাকবে। সেটা রাজপথের আন্দোলন হোক, নির্বাচনী আন্দোলন হোক, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন হোক আমরা ভালো ভূমিকা রাখতে পারব।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top