Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:২৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
আ’লীগ নেতা রেজনু ও ছাত্রদল নেতা জিলানির ফোনালাপ ফাঁস প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ইসিকে সহযোগিতার নির্দেশনা | প্রজন্মকণ্ঠ আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে চারজন নিহত | প্রজন্মকণ্ঠ ইয়াঙ্গুন উপকূলে একটি নৌকা থেকে শতাধিক রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার  জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা : এ ডটার’স টেল’ দেখতে উপচেপড়া ভিড় নির্বাচন পেছানোর দাবি ও আগুন সন্ত্রাস একই সূত্রে গাঁথা :  ড. হাছান মাহমুদ  দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলির সমান সুযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিমত | প্রজন্মকণ্ঠ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে পরামর্শ ও সহযোগিতা চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় ও রুমাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত

ট্রাফিকের ‘বিশেষ সপ্তাহ’ উদযাপন বিশেষ তাৎপর্যবহ


ডেস্ক রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৯ আগস্ট ২০১৮ ১২:১০ পিএম:
ট্রাফিকের ‘বিশেষ সপ্তাহ’ উদযাপন বিশেষ তাৎপর্যবহ

সম্পাদকীয় : ‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করুন; ট্রাফিক শৃঙ্খলা একটি জাতির সভ্যতার প্রতীক’ স্লোগান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫ আগস্ট থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এই বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহে নতুন কোনও পরিকল্পনা পুলিশের নেই। ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা বাড়াতে যা করা দরকার, তা–ই কেবল নিশ্চিত করা হচ্ছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে শুরু করা ট্রাফিকের ‘বিশেষ সপ্তাহ’ উদযাপন বিশেষ তাৎপর্যবহ। কেননা, কিশোরদের এই আন্দোলন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে আমাদের কোথায় গলদ! ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের র‌্যালি থেকে নগরীর যানজট নিরসন এবং পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। গত সোমবার র‌্যালির উদ্বোধনকালে সিএমপি কমিশনার মো: মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘কোমলমতি শিশুরা আমাদের করণীয় কী তা বুঝিয়ে দিয়েছে নিজেরা রাস্তায় নেমে। তাদের প্রতি অভিবাদন জানাই।’

এখানে উল্লেখ্য, ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর পর সারাদেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয় ৯ দফা দাবি। শিক্ষার্থীদের সেই দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীরা। কিন্তু তাতেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ প্রশমিত হয়নি, বরং আরও জোরদার হয়। এক পর্যায়ে সরকার বৃহস্পতিবার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেও শিক্ষার্থীদের সড়কে নামা আটকাতে পারেনি। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের ৯টি দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

সিএমপি কমিশনার শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে অভিনন্দিত করে আন্দোলনের ইতিবাচক দিকগুলোর প্রতিফলন ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর এ বক্তব্যকে সাধুবাদ জানাই।

শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের পরে দেশ জুড়ে অবৈধ যানবাহন ও লাইসেন্সবিহীন চালকের বিষয়টি সামনে আসে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন চালকের কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞদের। এ অবস্থায় যানবাহন চলাচলে সরকারের পক্ষে কড়াকড়ি আরোপ করার পর লাইসেন্স নেয়া ও ফিটনেস সম্পন্ন করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্টরা। বলা যেতে পারে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলেই বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), চট্টগ্রাম–এ বেড়ে গেছে ব্যস্ততা। এ অবস্থায় বিআরটিএ থেকে দিনে ১২ ঘণ্টা (৮ঘণ্টার জায়গায়) দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য নির্দেশ এসেছে। শনিবারের সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিও কাটছাট হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এটা চলবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাফিক সপ্তাহে কোনও শিথিলতা ছাড়াই ট্রাফিকের বিদ্যমান আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্তে পুলিশ অনড় থাকছে বলে জানা গেছে। এবারই প্রথম ট্রাফিক সপ্তাহে পুলিশের রিজার্ভ ফোর্স থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে সারাদেশে। পুলিশ জানায়, ট্রাফিক আইন অমান্য ছাড়াও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলে সরকারি–বেসরকারি সবধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘ফিটনেস, রুট পারমিট, গাড়ি ও চালকের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাদের নেই, মোটরসাইকেলে তিনজন ও হেলমেট ছাড়া যারা সড়কে নামেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান শক্তভাবে শুরু করেছি। আমরা আইনের কঠোর প্রয়োগ করছি। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার জন্য লিফলেট দিচ্ছি।’

আমাদের দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি যেমন চালু আছে, তেমনি আমাদের মধ্যে আইন মানার সংস্কৃতিও নেই। কেউ যেন আইন মানতে চাই না। ট্রাফিক সপ্তাহের মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হবে, আইন মানার সংস্কৃতি বাড়বে। ট্রাফিক সপ্তাহ সফল হওয়া মানে রাস্তায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হওয়া। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনমানুষের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি প্রত্যেক শ্রেণির লোকজনের অংশগ্রহণ জরুরি।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top