Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ভারতের সেনার অস্ত্র ভাণ্ডারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৬ আহত অনেক স্কাইপি বন্ধ করে সরকার ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল : রিজভী টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২ : ইয়াবা ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার নৌকা থেকে যারা ধানের শীষে তারা ‘ভণ্ড’ ও ‘প্রতারক’’ | প্রজন্মকণ্ঠ আস্থার প্রতীক নৌকা আর ধানের শীষ | প্রজন্মকণ্ঠ ভারতের ‘সাহায্য প্রয়োজন’ ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচন সম্ভব নয় !  চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ | প্রজন্মকণ্ঠ খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন | প্রজন্মকণ্ঠ অবশেষে আটক সেই হেলমেটধারী | প্রজন্মকণ্ঠ আমেরিকার চাপের কাছে স্বাধীনচেতা দেশ ইরান নতি স্বীকার করবে না

সংলাপ হবে, সংলাপ হবে না : জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কি চলছে অন্তরালে


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ১২ আগস্ট ২০১৮ ১২:৪৯ পিএম:
সংলাপ হবে, সংলাপ হবে না : জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কি চলছে অন্তরালে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপের বিষয়টি অনেকটা সামনে চলে এসেছে। সংকট নিরসনে সরকার বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা এতোদিন নাকচ করে দিলেও এখন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা নমনীয়। কিসের সংলাপ, কার সঙ্গে সংলাপ? এমন প্রশ্ন কর্তাও এখন নমনীয়। ১১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঢাকায় সাংবাদিকদের কাছে বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। সম্প্রতি একই কথা তিনি কয়েকবার উল্লেখ করেছেন। ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার সকালে রাজধানীর কাওলায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের সঙ্গে  কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ফোন করলে আলোচনা হবে, এমন শর্ত দিয়ে আলোচনা হতে পারে না। শর্ত দিয়ে নয়, বিএনপির সঙ্গে শর্তহীন আলোচনা হতে পারে। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে স্বচ্ছ মন নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। 

রিজভী বলেন, শুন্য টেবিলে তো আর আলোচনা হয় না। আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু থাকতে হবে। একটা সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত হওয়ার জন্য যে আলোচনা হওয়া দরকার সেই আলোচনার জন্য বিএনপি সব সময় প্রস্তুত। আর এ ধরনের সংলাপের ডাক তো বিএনপি সব সময়ই দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা যদি বলে এটা হবে না, ওটা হবে না তাহলে তো বুঝতে হবে তাদের মন সাদা নয়। তাদের মন অফ হোয়াইট টাইপের। এখানে আমি কোনো স্বচ্ছতা দেখছি না। স্বচ্ছ মন নিয়ে আলোচনার জন্য আসুক তাহলে আমরা সেই আলোচনার জন্য সব সময় প্রস্তুত। 

চাপ সামলে নিচ্ছে সরকার 

হঠাৎ ঘরে-বাইরে চাপ অনুভব করছে সরকার। সামলানোর চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছেন শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা। কিন্তু এখনো সঠিক গতিসীমায় পৌঁছাতে পারেননি ক্ষমতাসীনরা। গত কয়েক দিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের তৎপরতায় এমন চিত্র দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নানা মেরুকরণ হয়, এবারও তার ব্যত্যয় ঘটছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় দলগুলো জোট-মহাজোটে আবদ্ধ। যারা জোটের বাইরে আছে তারাও নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও শক্তি বাড়াতে ব্যস্ত। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের শাসনামলের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা সব সময় মাঠে সক্রিয় ভ‚মিকায় ছিল তাদের নিয়ে মহা টেনশনে সরকার। এদিকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে যেসব দল অংশ নেয়নি, তারাও মাঠে তৎপর সরকারের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে। ঠিক এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা শঙ্কিত দুই জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো আসলে কোন পথে হাঁটে, তা নিয়ে। অন্যদিকে সরকার শুধু অভ্যন্তরীণই নয়, বাইরের চাপও অনুভব করছে। একটি অংশগ্রহণমূক নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার চাপে রয়েছে বিশে^র প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে। এসব কারণে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দৌড়ের ওপর রয়েছেন। তারা এক মিনিটও বসে নেই। ঘরে-বাইরে দৌড়াচ্ছেন। 

সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রকাশ্যে ও গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের। ছোট দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টার পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটে থাকা একাধিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে সরকার। এমনকি বিএনপির সঙ্গেও একটি গোপন সংলাপের দিনক্ষণ ঠিক হয়, যেটি পরবর্তীতে বাস্তবায়ন হয়নি। অবশ্য বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট মনে করছে, সরকারের সঙ্গে সংলাপ হতেই পারে। কিন্তু তা হতে হবে প্রকাশ্যে, গোপনে নয়। তবে পরিস্থিতি যাই হোক সরকার তা সামলে নেয়ার চেষ্টায় রয়েছে। 

পর্দার অন্তরালে যা ঘটছে 

সম্প্রতি এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাক্ষাৎ ও আলোচনা দৃশ্যমান। সচিবালয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। এসব সাক্ষাতে আলোচনার বিষয়বস্তু প্রকাশ করা না হলেও আলোচনা যে হয়েছে, তা সকলেরই জানা, কিন্তু নেপথ্যে আরো দৌড়ঝাঁপ চলছে। গত ২৬ জুলাই দুপুরে হঠাৎ রাজনৈতিক সংকট সমাধানে যেকোনো দলের সঙ্গে আলোচনায় সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। ঠিক ওই দিন রাতে বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে একটি বৈঠকের দিনক্ষণ ঠিক হয় অভ্যন্তরীণ সংলাপের। রাজধানীর গুলাশান-২ এ ৯৬ নম্বরে রোডের ১৯ নম্বর বাড়িতে ‘হোটেল সিক্স সিজন’ এ দুই দলের মহাসচিব পর্যায়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। রাতে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের ফাঁকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বাধীন পৃথক দুটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হওয়ার সময় নির্ধারণ হয় রাত আটটায়। ঠিক আটটায়ই যথাস্থানে উপস্থিত হন ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলটি। অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব ছাড়া অন্য নেতারাও রাত ৮টার আগেই হোটেল সিক্স সিজনে উপস্থিত হন। কিন্তু সোয়া ৮টায় বিএনপি মহাসচিব ফোনে জানান, তিনি অসুস্থ, তাই আজকের এই সভায় অংশ নিচ্ছেন না। ফলে সবাই হতাশ হন। রাত পৌনে ৯টায় বের হয়ে যান ওবায়দুল কাদের। যাওয়ার সময় বলে যান আজকের (২৬ জুলাই) বৈঠকটি হলো না, যদি আবার সময় সুযোগ আসে তাহলে হবে। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এতথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনার পরদিন ২৭ জুলাই শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার সঙ্গে এ প্রতিবেদকের আলাপ হয়। তার কাছে এই বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকায় ছিলেন না, তাই এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। 

এ বিষয়ে জানতে বিরোধী দলের সাবেক চিফ হুইপ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুকের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, এ বৈঠকের বিষয়ে জানতে অনলাইন নিউজ পোর্টালের ১৩ ও পত্রিকার ৪ জন সাংবাদিক তাকে ফোন করেছেন। তাদের তিনি বলেছেন, এ ধরনের কোনো বৈঠকের খবর তিনি জানেন না। এ প্রতিবেদককে তিনি আরো বলেন, তার দল সংলাপের ব্যাপারে ইতিবাচক। সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হলেই বেশি ভালো।
  
হঠাৎ আলোচনায় আগ্রহী আওয়ামী লীগ 

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে আলোচনার টেবিলে বসে সমস্যাগুলো সমাধানের আহ্বান  জানানো হয়েছে সরকারকে। বক্তৃতা ও বিবৃতিতেও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে বলা হয়েছে সরকারকে। বিরোধী দলগুলো সরকারকে বলে এসেছে, সকল সমস্যা আলোচনার টেবিলেই সমাধান হতে পারে। সেই আলোচনার উদ্যোগটা নিতে হবে সরকারকে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলগুলোর সেই আহ্বানে কোনো পাত্তাই এতোদিন দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ দায়িত্বশীল বেশ কয়েকজন মন্ত্রী উল্টো বলেছেন, কীসের সংলাপ, কার সঙ্গে সংলাপ, সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু হঠাৎ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কণ্ঠে নরম সুর বেজে উঠলো। উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠে শীতল হাওয়া বইতে শুরু করলো। যেকোনো দলের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী হয়ে উঠলো আওয়ামী লীগ। গত ২৬ জুলাই দুপুরে রাজধানীর এলেনবাড়ীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে ঈদুল আজহার সময় ঘরমুখী যাত্রা নির্বিগ্নে করতে আয়োজিত সভায় ওবায়দুল কাদের বললেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি আলোচনা করতে চাইলে তাতে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত রয়েছে। দলটির এতে কোনো আপত্তি নেই। গত ২৯ জুলাই রোববার দুপুরে সচিবালয়ের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। 

এ সময় তিনি রাজনৈতিক সংকট সমাধানে ফোনালাপের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, টেলিফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে কঠিন সম্পর্কেরও বরফ গলে। তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেন, বিএনপির সঙ্গে টেলিফোনে কথা হতে পারে। ফোনে যোগাযোগ করেও অনেক কঠিন সম্পর্কের বরফ গলে। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কেউ আলোচনার ইচ্ছে প্রকাশ করলে সরকার তা বিবেচনা করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চাপ অনুভব না করলে আওয়ামী লীগ সংলাপের জন্য ইচ্ছা পোষণ করার কথা নয়। ভেতর ও বাইরের চাপেই সরকার এখন আলোচনায় আগ্রহী হয়েছে। 

কাদেরকে নাজিম উদ্দীন রোডে যেতে বললেন দুদু 

এখানে-সেখানে ঘোরাঘুরি না করে নাজিম উদ্দীন রোডের কারাগারে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, এখানে-সেখানে এত ঘোরাঘুরির দরকার কি? গাড়ি নিয়ে নাজিম উদ্দীন রোডের কারাগারে যান। সেখানে মিথ্যা মামলায় বন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসুন। সমস্যা আপনারা সৃষ্টি করেছেন, মীমাংসা তিনি (খালেদা জিয়া) করবেন। ৩১ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ পরামর্শ দেন। দুদু বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যা শুরু করেছেন আমি তাতে বলবো, যদি দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আলোচনায় বসেন। 

সিপিবি ও বাসদের সঙ্গে বসেছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। কর্নেল অলি আহমদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন, তার জন্যও ধন্যবাদ। তবে এক নম্বরের সঙ্গে আলোচনা না করে ১০-২০ নম্বরের সঙ্গে আলোচনা করে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের মীমাংসা হবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যাংক লুট, সোনা লুট, কয়লা লুট, গণতন্ত্র লুট, ক্ষমতা লুটসহ নির্বাচনও লুট করেছেন। এসব লুট চিরস্থায়ী করতে খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটকে রেখেছেন। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিন। মুক্তি না দিলে আমরা তাদের মুক্ত করবো। এখন আন্দোলনের কথা বলছি, এক সময় জেল ভেঙে তাদের মুক্ত করে আনবো।

খন্দকার মোশাররফ যা বললেন

গত ২৯ জুলাই রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সেখানে তিনি বলেছেন, বিপদে আছেন বুঝতে পেরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছেন। ওবায়দুল কাদেরের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির এই অন্যতম নীতিনির্ধারক বলেন, ‘তিনি (কাদের) যদি টেলিফোন করেন আমাদের মহাসচিবকে, তাহলে আমাদের মহাসচিব বলবেন, আগামী নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সামরিক বাহিনীকে নির্বাচনের সময় আনতে হবে। এটা তিনি টেলিফোনেও বলবেন। আবার যদি মহাসচিবের সাথে দেখা করেন, সেখানেও তিনি একই কথা বলবেন।’ এসময় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বুঝতে পেরেছেন বিপদে আছেন তারা। কীভাবে দৌড়াদৌড়ি করছেন অনেকের বাড়ি পর্যন্ত যাচ্ছেন। বাড়িতেও যদি আসেন আমাদের মহাসচিবের এর বাইরে বলার কিছু নেই।’ তিনি আরও বলেন, এদেশের সকল মানুষ অংশগ্রহণমূলক ভোট চায়। ৫ জানুয়ারিসহ এই সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনকে সরকার ভয় পায় বলেই বেগম জিয়া এখনও বন্দি।

প্রসঙ্গত, চাপে হোক বা সময়ের প্রয়োজনেই হোক, বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার। কিন্তু বিএনপির সমর্থকরা মনে করছেন, কোনো গোপন সংলাপে যাওয়া ঠিক হবে না। কারণ এর আগেও আওয়ামী লীগ অনেক কথা দিয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কথা রাখেনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটের আগে তারা বলেছিল এটা (দশম জাতীয় সংসদ) নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। কিছু দিন পরই আলাপ-আলোচনা করে বিকল্প একটি নির্বাচন দেয়া হবে এবং সেই নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই কথাও রাখেনি। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top