Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ২:৫২ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
নাজমুল হুদাকে ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ  নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার  একজন শিশুকে পিইসি পরীক্ষার জন্য যেভাবে পরিশ্রম করতে হয়, সত্যিই অমানবিক : সমাজকল্যাণমন্ত্রী নির্বাচনকে সামনে রেখে আদর্শগত নয়, কৌশলগত জোট করছে আওয়ামী লীগ : সাধারণ সম্পাদক থার্টিফার্স্ট উদযাপন নিষিদ্ধ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে সেনাবাহিনী  মহাজোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যাওয়ার শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে  প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু আজ  ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন শেষ তারিখ ২১ নভেম্বর  আ'লীগ যত রকম ১০ নম্বরি করার করুক, ভোট দেবো, ভোটে থাকব : ড. কামাল হোসেন

বাংলাদেশ সরকার গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে - এইচআরডব্লিউ : বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রজন্মকণ্ঠ

আপডেট সময়: ১৬ আগস্ট ২০১৮ ১:৪২ এএম:
বাংলাদেশ সরকার গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে - এইচআরডব্লিউ : বিশ্লেষক প্রতিক্রিয়া

সরকার ভিন্নমত দমন করতে মরিয়া হয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘিরেও গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বুধবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বাংলাদেশে নির্বিচারে গ্রেপ্তার বন্ধ, ভিন্নমত প্রকাশের দায়ে আটককৃতদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংস হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। 

বিবৃতিতে সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, বাংলাদেশে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের মুখ বন্ধ করার জন্য একটি অস্পষ্ট আইনের ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করে এরইমধ্যেই কর্তৃপক্ষ সরকারের সমালোচনা করার দায়ে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে আটক করেছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর আওয়ামী লীগ সমর্থকরা রামদা, লাঠি-সোটা ও রডের পাইপ দিয়ে হামলা চালানোর ঘটনায় শেখ হাসিনা সরকার কোনো সমালোচনা সহ্য করছে না। 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর চালানো সাম্প্রতিক গণগ্রেপ্তারে আতঙ্কজনক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যা বাক-স্বাধীনতাকে ব্যাপকভাবে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


মানবাধিকার নেত্রী খুশী কবির

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট মানবাধিকার নেত্রী খুশী কবির রেডিও তেহরানকে বলেন, সরকারকে আবশ্যই দমন-পীড়নের পথ পরিহার করে নাগরিকদের প্রতি মানবিক আচরণ করতে হবে। বিশেষ করে আজ ১৫ আগষ্টের শোকাবহ দিনে দাঁড়িয়ে  ছাত্রদের  বিষয়গুলিকে  সমবেদনা ও সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করা দরকার। তাছাড়া, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা নিয়েও সবমহল বিরোধীতা করে আসছে।  সরকার এটা বাতিলের কথা বললেও তার পরিবর্তে  একটা  ৩৮ ধারা নিয়ে আসছে যা অরো বেশি নিবর্তনমূলক হবে।  

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর  এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত এটা মেনে নেয়া যে, সমালোচনা হলো ক্রিয়াশীল ও সুষ্ঠু গণতন্ত্রের একটি অংশ। সরকারের উচিত আইসিটি আইনের পরিবর্তে এমন আইনের প্রচলন করা যাতে বাকস্বাধীনতা সমুন্নত থাকে।

বিবৃতিতে ঊল্লেখ করা হয়, ২৯শে জুলাই দ্রুত গতির একটি বাসের ধাক্কায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসে। প্রতিবাদী তরুণরা নিরাপদ সড়ক, প্রশাসনের জবাবদিহীতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার দাবি জানায়। পরে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেটের শিকার হন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাদের ওপর সহিংসতা চালায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সরকার সমর্থকদের হামলার সময় পুলিশ পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। পরে এই সহিংসতার বিষয়ে যে কোনো ধরণের সমালোচনা বন্ধ করতে উদ্যোগী হয় প্রশাসন। বিপুল সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী থাকেন, শহরের এমন একটি অঞ্চলে অভিযান চালায় ঢাকার পুলিশ। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, পুলিশ সব বাসা-বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা খুঁজতে তারা দ্বারে-দ্বারে গিয়ে মোবাইল ফোন চেক করেছে। আটককৃতদের একজন বিখ্যাত আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলমকে ৯ দিন ধরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুলিশ কাস্টডিতে তাকে মারধর করা হয়েছে। ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর দায়ে গত ৪ই আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের জামিন নামঞ্জুর করে কাস্টডিতে রাখা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস

মানবাধিকার সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, সাম্প্রতিক প্রায় সব গ্রেপ্তারই হয়েছে আইসিটি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারায়। এই অস্পষ্ট ও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত আইন সরকারবিরোধী সমালোচনা দমন করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর আগে  বাংলাদেশ সরকার স্বীকার করেছে যে, ওই আইনের অপব্যবহার হচ্ছে। বলেছিল, বাক-স্বাধীনতার লাগাম টেনে ধরার কোন ইচ্ছা তাদের নেই। এর পরেও তারা এমন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের বিবৃতিতে সাইবার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম শামীমের করা মন্তব্য উল্লেখ করেছে। গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন,আইসিটি আইননের  ৫৭ ধারা খুবই অস্পষ্টভাবে বর্ণিত একটি বিধান যা বর্তমানে সরকারের বিরূদ্ধে সমালোচনা বন্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। ওই আইনে দায়ের করা মামলাগুলোর অর্ধেকেরও কম সংখ্যক মামলায় চুড়ান্ত রায় দেয়া হয়। কিছু মামলা পুরোপুরি সাজানো যা নাগরিকদের হয়রানি করতে দায়ের করা হয়।

তাসনিম আফরোজ ইমি

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয়কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী তাসনিম আফরোজ ইমিকে গতকাল (মঙ্গলবার)  সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে মুচলেকা রেখে তাকে রাত ১২টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ ছাড়া, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে “উসকানিমূলক মিথ্যা তথ্য অপপ্রচারের”  দায়ে  আহমাদ হোসাইন (১৯) ও নাজমুস সাকিব (২৪) নামক দু’জন  তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।

মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top