Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
আয়কর মেলার শেষ দিন আজ দুর্নীতিসহ ১১ সূচকে রেড জোনে বাংলাদেশ : এমসিসি  চিকিৎসা বিষয়ে খালেদা জিয়ার রিটের আদেশ আজ  নাজমুল হুদাকে ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ  নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার  একজন শিশুকে পিইসি পরীক্ষার জন্য যেভাবে পরিশ্রম করতে হয়, সত্যিই অমানবিক : সমাজকল্যাণমন্ত্রী নির্বাচনকে সামনে রেখে আদর্শগত নয়, কৌশলগত জোট করছে আওয়ামী লীগ : সাধারণ সম্পাদক থার্টিফার্স্ট উদযাপন নিষিদ্ধ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে সেনাবাহিনী  মহাজোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যাওয়ার শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে 

বিএনপি শেষ পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে না


মো : মাহমুদ হাসান

আপডেট সময়: ৩১ আগস্ট ২০১৮ ৪:৪১ এএম:
বিএনপি শেষ পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাবে না

উপ-সম্পাদকীয় :  ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শেষ পযর্ন্ত যাবে না; শিরোনামের কথাটা কারো কারো কাছে অদ্ভুত মনে হলেও বাস্তবতার নিরিখে সত্য। এ মন্তব্যের সাথে কেউ একমত হতে পারেন, কেউবা বিষয়টা হেসে উড়িয়ে দিতে পারেন। তবে কেউ হয়তোবা আমার এ মন্তব্যের ভিত্তি কি, তা জানতে আগ্রহী হতেও পারেন। তাদের উদ্দেশ্যে আমার মন্তব্যের যুক্তিসমূহ তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

কেন শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে যাবে না ?

চেয়ারপার্সন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের মামলার রায়: ইতমধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান মামলার রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে আছেন। এ সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে তারেক রহমানকে দেশে এসে উচ্চ আদালতে সাজা বাতিলের বা মামলা পূণ:শুনানির আবেদন করতে হবে। এটি করতে গেলে আইনানুযায়ি ওনাকে কারাগারে (হাজতে) কিছু সময়ের জন্য ঢুকতে হবে, এ ঝুঁকিটি তিনি নেবেন না। কারন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলে মামলাগুলি বাতিল বা খারিজ করানোর শক্তি বিএনপি নামক দলটির ২০১৮ সালে এসে আর নেই, এটি তিনি বোঝেন।

তিনি দেশ ও দলের চেয়ে নিজের জীবন ও অর্জিত সম্পদকে বেশি ভালোবাসেন। দ্বিতীয়ত: তিনি দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার দলীয় আইন কর্মকর্তা ও আইনজীবিদের উদাসীনতা ও অবহেলায় শম্বুক গতিতে চলা অপরাপর মামলাসমূহ জনগণের একাংশ তথা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের দ্বারা আইন কর্মকর্তাদের উপর সৃষ্ট চাপে দ্রুত গতি লাভ করবে, এ আশঙ্কাও তাঁর রয়েছে, বিশেষ করে ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তাঁর মৃত্যুদন্ডের সম্ভাবনাও রয়েছে, এটা তিনি ভালোই জানেন। জাতির পিতা হত্যাকান্ডে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের মতো ঐসব দেশসমূহের আইন-কানুনের ফাঁকফোকর গলিয়ে বিদেশে অবস্থান করার চেষ্টাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। দেশে কবে নির্বাচন, দল নির্বাচনে যাবে কিনা, এসব ভাবার সময় নেই ওনার-কথাটা অপ্রিয় হলেও সত্য।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলাসমূহের একটির রায় হয়ে তিনি সাজা ভোগ করছেন, আরো কয়টি মামলার রায় অত্যাসন্ন, সেসব মামলায়ও তিনি সাজাপ্রাপ্ত কারাজীবন দীর্ঘায়িত করবেন, এটি প্রায় নিশ্চিত। উনি সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় নির্বাচনেরও অযোগ্য, দল পরিচালনার সুযোগ হতে বঞ্চিত ও নির্বাচনী কর্মকান্ড পরিচালনার সুযোগ হতেও বঞ্চিত।

বিকল্প নেতৃত্বের অভাব: বিএনপির কখনোই কালেকটিভ লিডারশীপ ছিলো না, এখনো নেই, তাই চেয়ারপার্সন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে সশরীরে না পেলে, প্রার্থী মনোনয়নে সরাসরি এ দুজন না থাকলে এ দলটির পক্ষে কোন প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াই সম্ভব হবে না। কথাটি একটি বড় রাজনৈতিক দলের জন্য বেদনাদায়ক হলেও সত্য। এ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখেই আমি মন্তব্য করতে পারছি যে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি শেষ পযর্ন্ত্য যাবে না”।

বিকল্প উপায় কি আছে, যারা নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে যেতে পারে ? এ প্রশ্নের উত্তরে আমি এক শব্দে বলবো “না”।

প্রথমত: এখন যাঁরা খালেদা জিয়ার পরবর্তী সারিতে বিএনপিকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁরা একেতো বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত হয়ে প্রকৃতপক্ষে নিজেরাই চরম ঝুঁকিতে আছেন, কোন সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো মনোবল এদের কারোরই নেই।

দ্বিতীয়ত : বর্তমানে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি ছাড়া যৌথ সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো ঐক্যবদ্ধ কোন মনোভাব ও ত্যাগের মানসিকতা এদের কারো মধ্যে ক্ষমতা হতে বিদায়ের পর গত ১২ বছরে (২০০৬-১৮) কোন বিষয়ে দেখা যায়নি। আগামী নির্বাচনে কোন আলাদীনের চেরাগ ঘষে দৈত্য এসে বলবে, “আপনারা এক হোন”, -এমন অবাস্তব কোন কিছু ঘটার সম্ভাবনা নাই।

তৃতীয়ত : আরেকটি নষ্ট খেলা চলছে, পর্দার অন্তরালে, এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সদস্যরা মন্ত্রীসভা হতে বেরিয়ে প্রকৃত সংসদীয় বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন বলে আভাস দিচ্ছেন, এটি ঘটলে বারবার “ঘরের ছেলে ঘরে ফেরা” কর্মসূচির আওতায় “আওয়ামী লীগের জনগণ কর্তৃক পরিত্যাজ্য বর্তমান এমপিদের আসনসমূহে” বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্য হতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরশাদের কাছ থেকে ‘লাঙ্গল’ কিনবেন। কেননা, এরা বিএনপি হতে এরশাদের দলে আগেও গিয়েছিলো, এখন বিএনপি হতে আবার “এরশাদের দোয়া নিয়ে মরতে চাই” বলে ফিরে আসতেই পারে-জামাতের কাছে আষ্ঠে-পৃষ্ঠে বাধা পড়া বিএনপি ছেড়ে।

চতুর্থত : অতীতে বিএনপির সঙ্কটকালে এ দলটির মতো করে যারা সঙ্কট হতে উত্তরণ ঘটিয়েছিলো, দলটি তাদের শুধু দূরেই সরায়নি, রীতিমতো আস্তাকুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। আইএসআই এর নির্দেশনায় গোলাম আজমের ১৯৭২ সালে লন্ডনে গঠিত “পূর্ব পাকিস্তান পূণ:রুদ্ধার কমিটি” এর ধারাবাহিকতায় সৃষ্ট এ দলটি শুধু দেশের সাথেই নয়, বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে দলটির সঙ্কটকালের কান্ডারীদের সাথেও। আসুন একটু জেনে নেই, বিএনপির সঙ্কটকালের কান্ডারীরা কারা ছিলো? কাদের সাথে গাদ্দারি করেছে এ দলটির কর্ণধারেরা ?

(ক) মাহবুবুর রহমান : ১৯৭৭ সালে ১৮ দফা বাস্তবায়ন পরিষদ ও জাতীয়বাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠনে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জিয়াকে প্রকাশ্যে সহযোগিতা করেছিলেন, নোয়াখালীর চাটখিলের মাহবুবুর রহমান। ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠনের পর তিনি ছিটকে পড়েন, ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠনের পর তিনি একেবারেই অচেনা হয়ে যান জিয়া ও তার দোসরদের কাছে। এই লোকটি কিন্তু কোন নৈতিক স্খলন, ফৌজদারি অপরাধ বা দূর্নীতি জনিত কারনে রাজনীতিতে অযোগ্য হন নাই। নিছক রস চুষে খাওয়ার পর ছোবড়াটা ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিলো।

(খ) বি. চৌধুরি: এরশাদের ক্ষমতা দখলের পর সারা দেশে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের ৯৯% এরও উপরে নেতা-কর্মী দলে দলে এরশাদের সাথে যোগ দেয়, কেউ দুদিন আগে আর কেউবা দুদিন পরে। ১৯৭৭ হতে ১৯৮১ পর্যন্ত্য জিয়ার ১৮ দফা বাস্তবায়ন পরিষদ হতে শুরু করে বিএনপিতে জড়িত হওয়া সরাসরি জেনে বুঝে যুদ্ধাপরাধে জড়িতদের অধিকাংশ এরশাদের শাষণকালে দ্রুত জায়গা করে নেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে। আর পাতি রাজাকার ও মুক্তিযুদ্ধকালে নীরব থাকা “শাকেরও না ভর্তারও না”, যারা সময়ের পরিক্রমায় ১৯৭৭-৮১তে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে রাজনীতির ময়দানে আসেন, তারা সদলবলে এরশাদের সাথে ১৯৮২ এর ১৮ দফা বাস্তবায়ন পরিষদ, ১৯৮৩ এর জনদল, ১৯৮৫ এর জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট ও ১৯৮৫ এর জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন; এরাই আবার ১৯৯০ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাত্র ১৫ হতে ২০ দিনের মধ্যে তৎকালীন সময়ের ডিসি ও ইউএনওদের পরামর্শে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে “ঘরের ছেলে ঘরে ফেরা কর্মসূচি” বাস্তবায়ন করেন “হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে”। ১৯৯০ এর ডিসেম্বরের ডিসি ও ইউএনও সহ সরকারি কর্মকর্তারা এ অপ-রাজনৈতিক খেলাটি খেলেছিলেন, দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের চেয়েও নিজেদের চামড়া বাঁচানোর উপায় হিসেবে, সে সময়ে আওয়ামী লীগের অতি উৎসাহী ও টাউটদের দ্বারা “এরশাদের সহযোগীদের কালো তালিকা তৈরি”র ফলে। এদেশে বহু পন্ডিত ব্যক্তি বলেছেন, “১৯৯১ সালের নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে”।

কিন্তু, “ত্রিশ সীট পাবে কিনা সন্দেহ” দলটি (বিএনপি) কিভাবে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় গেলো, তা কেউ সঠিকভাবে উদঘাটন করেননি, বা করার চেষ্টাও করেননি, গত ২৭ বছরে। ১৯৮২-৮৩তে জিয়ার প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজ (১৯৭১ সালে জতিসংঘে ইয়াহিয়া প্রেরিত প্রতিনিধি দলের নেতা) আলাদা বিএনপি (শাহ আজিজ) গঠন করলেন, জিয়ার মন্ত্রীসভার প্রভাবশালী মন্ত্রী সিরাজগঞ্জের ডা: এম. এ. মতিন ও মুক্তাগাছার শামছুল হুদা চৌধুরি সহ অধিকাংশ মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতা এরশাদের সাথে হাত মেলালেন। আরেক প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী হালুয়াঘাটের টিএইচ খান (বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সবচেয়ে সিনিয়র আইনজীবি, বিএনপির স্থায়ি কমিটি হতে পদাবনতি হয়ে ভাইস চেয়ারম্যান) ১৯৮২-৯০ সময়কালে নেপথ্যে এরশাদের সাথেই ছিলেন, কাগজে বিএনপি (হুদা-মতিন) এর যুগ্ম-সম্পাদক হয়েও। সেই দু:সময়ে বিএনপি ও খালেদাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন বিক্রমপুরের ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরি (বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রীসভার সদস্য কফিলউদ্দিন চৌধুরির ছেলে ও পরবর্তীতে বিএনপির শাষণামলে রাষ্ট্রপতি)। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর “স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি” আখ্যা দিয়ে জাতির পিতার মাজার জিয়ারত করার অপরাধে ডা: বদরুদ্দোজা চৌধুরির সাথে বিএনপি কি ন্যাক্কারজনক আচরণ করেছে, শুধু প্রবীণরাই নন, ডিজিটাল যুগের কল্যাণে ২০১৮এর নবীনরাও তা অবগত।

(গ) দেলোয়ার হোসেন : ১৯৯১ এর নির্বাচনে বিএনপি ক্ষতাসীন হওয়ার পর এ দেশের পাকিস্তান পন্থী সুশীল ও গণ-মাধ্যমকর্মীরা এ বিজয়ের ব্যাখ্যা দেন, “বিএনপি ছাত্রদের শক্তিতে ক্ষমতাসীন হয়েছে, যেভাবে ১৯৭০ এ ছাত্রদের শক্তিতে শেখ মুজিব নির্বাচনে জিতেছিলো” (এরা আবার জাতির পিতাকে ‘শেখ মুজিব’ এর বেশি কিছু বলতে রাজী নয়)। কিন্তু, বাস্তব ইতিহাস হলো, ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ সামরিক শাষন জারির পর ৯৯% জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মী সামরিক-বেসামরিক আমলাদের সহায়তায় এরশাদ সমর্থক বনে যায় ও “নতুন বাংলা ছাত্র সমাজ” গঠন করে; ৯৯% এরও বেশি জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতাকর্মী “নতুন বাংলা যুব সংহতি” গঠন করে। সে সময়ে ছাত্রদলের কেন্ত্রীয় নেতাদের মধ্যে একমাত্র দেলোয়ার হোসেন (জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক অথবা সহ-দপ্তর সম্পাদক) এরশাদের বিরুদ্ধে মিটিং-মিছিল করতো। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এর পাশাপাশি ১৯৮৩ এর শুরু হতে কাগজে কলমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ৭-দলীয় জোটের শরিক দলগুলির ছাত্র সংগঠনসমূহের একটি ছাত্রজোট ছিলো। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত্য “সংগ্রামী ছাত্র জোট” নামের এ জোটটির ঢাকায় মিছিল পরবর্তী মধুর ক্যান্টিন বা ডাকসু ভবনের সামনের সভাগুলিতে বকতৃতা দিতো মাত্র তিনজন-ছাত্রদলের দেলোয়ার হোসেন, গণতান্ত্রিক ছাত্রলীগের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি (ভাষা আন্দোলনের নেতা অলি আহাদ এর সমর্থক) এবং মিরাজুল ইসলাম আল-মাজী (ওনার সংগঠনটির নাম এ মূহুর্তে মনে আসছে না)।

“খুনী এরশাদের গদিতে, আগুন জালো এক সাথে” এর পাশাপাশি “খালেদা জিয়া জিন্দাবাদ” স্লোগান দেলোয়ার হোসেন ছাড়া আর কোন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ১৯৮৩-৮৬তে রাজপথে দিয়েছেন বলে কোন প্রমান নেই। সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় যে দু’চারজন ছাত্রদল করতেন, তারাও ঢাকায় এলে মধুর ক্যান্টিনে বা ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে (অবশ্য বিএনপি কর্মীরা জিয়ার ৩২ নম্বর ধানমন্ডি মানুষের মন হতে মুছে ফেলার চেষ্টা হিসেবে বলতো-ধানমন্ডি ১৬/এ তে) বিএনপির কেন্দ্র্রীয় অফিসে কোন নির্দেশনা পেতেন এ দেলোয়ার হোসেন এর কাছ থেকেই। কিন্তু, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এর আন্দোলনের চাপে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের বিলুপ্তি ঘোষণার পর হঠাৎ গজিয়ে যাওয়া বিশাল ছাত্রদল সৃষ্টি হয়ে যাওয়ার পর ছিটকে পড়লেন সংগ্রামী, সাহসী ও তিনজন হলেও মিছিলটি করবো-এই দৃঢ় প্রত্যয়ী দেলোয়ার হোসেন। জানি না, তিনি এখনো বেঁচে আছেন কি না?

(ঘ) সানাউল হক নীরু : মনোহরদীর অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান ও মেধাবী ছাত্র সানাউল হক নীরুকেও নষ্ট করে ফেলেছিলো জিয়া “হিজবুল বাহার” এর অন্যান্য যাত্রীদের মতোই। ১৯৮১-৮৪তে অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত হওয়া নীরু হঠাৎ করেই ১৯৮৫ সালে হয়ে গেলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (যে কমিটির সাধারন সম্পাদক তারই সহোদর মাহবুবুল হক বাবলু এবং সভাপতি হয়েছিলেন জালাল আহমেদ)। ১৯৮২-৮৪তে নীরব থাকা জালাল আহমেদ হঠাৎ করেই এরশাদ-বিরোধী মহা-বিপ্লবী হয়ে গেলেন, ঢুকে গেলেন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের পেটের ভেতরেও।

১৯৮৫ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মাইকের নিয়ন্ত্রণ সকাল ১০টায় চলে গেলো ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের হাত হতে এক সময়ের সর্বহারা পার্টির কর্মী জালাল আহমেদ এর হাতে। এর তিনদিন পর তিনি চলে গেলেন এরশাদের অনুকম্পায় অষ্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে, বিশেষ বিবেচনায় চাকরি নিয়ে। মোহসীন হলে বোমা বানানো দেখতে গিয়ে মারা গেলেন বাবলু। ফলে, নীরু হয়ে গেলেন ছাত্রদলের একচ্ছত্র নেতা। এরশাদের “বি টিম” ছিলেন নীরুরা, বিশ্বাস করানো যায়নি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের, যেমন বিশ্বাস করানো যায়নি এরশাদের “সি টিম” ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আওতাভূক্ত “গিরিঙ্গিদের কথা”। যা প্রমাণিত ও চিহ্নিত হয়েছিলো ১৯৯০ এর নভেম্বর মাসে। কিন্তু, ১৯৮৫ হতে ১৯৮৯ পর্যন্ত্য “কোন আদর্শ নয়, শুধুই অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ করি” এ শক্তিসমূহের একান্ত আরাধ্য ও ভরসাস্থল ছিলো “সানাউল হক নীরু”; এটা ঐতিহাসিক সত্য। কি ছাত্র, কি সুশীল, একান্ত বিগলিত হয়ে বলতো, “ম্যাডামের তো লেখাপড়া নেই, নীরু ভাই বিএনপির সেক্রেটারী হয়ে হাল ধরলেই বিএনপি দাঁড়িয়ে যাবে”। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলিতে ছাত্রদলের কোন মিছিল হলেই, শুরুতে একবার “জ্বালো…… জ্বালো, আগুন… জ্বালো”, খুনী এরশাদের গদিতে, আগুন জালো এক সাথে” উচ্চারণের পরই মহররমের মার্সিয়ার “হায় হোসেন, হায় হোসেন” এর মতো উচ্চারিত হতো “নীরু ভাই, নীরু ভাই”। এসব মিছিলে যারা এই স্লোগানটি দিতো, তারা কেন এই স্লোগানটি দিতো, বহু জিজ্ঞাসাবাদ করেও বের করতে পারিনি। উল্লেখ্য যে, নীরু ভাই আমার এক বছর সিনিয়র হলেও আমি ওনাকে কোনদিন সালাম দেয়ার কোন সুযোগ পাইনি, সবসময় উনিই আগে সালাম দিতেন, ছাত্রদল কর্মী সহ অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ শক্তিসমূহের এ পাগলামোর পাশাপাশি নীরু ভাইয়ের অন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি এ শ্রদ্ধাবোধ তাকে এক অনন্য উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করে তুলেছিলো।

যদিও, নীরু যাদের শত্রু মনে করতেন, তাদের প্রতি তার নিষ্ঠূরতা সীমার ও হিটলারকেও ছাড়িয়েছিলো-যা তিনি শিখেছিলেন জিয়ার জীবদ্দশায় ইংলিশ রোডে বিএনপি অফিসে এক সময়ের সর্বহারা পার্টির কর্মী গোলাম কিবরিয়া টিপুর কাছে। কিন্তু, এই সানাউল হক নীরুর সাথেও বিএনপি গাদ্দারি করে। ১৯৮২-৯০ পুরো সময়টিই এরশাদের অনুগত থাকা ইলিয়াস আলী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীম উদ্দিন হলে যেসব ন্যাক্কারজনক অপকর্মগুলি করেছে হাতিরপুলের বি-সেলিমের নেতৃত্বে, ইতিহাসে সেসব কোনদিন প্রকাশ হলে তা পাকিস্তানী হানাদারদের বর্বরতাকেও ম্লান করবে। সেই ইলিয়াস হয়ে গেলো খালেদার আপনজন; আর নীরু- যে ১৯৮২-৮৪ মাঝে মাঝে এবং ১৯৮৫ হতে নভেম্বর, ১৯৯০ পর্যন্ত্য খালেদার সাথে সম্ভাব্য বিএনপির সেক্রেটারি হিসেবে আলোচনায় ছিলো, সে চিরতরে আউট নেতৃত্ব হতে !

(ঙ) ডাকসুর ভিপি-জিএস আমান-খোকন : ১৯৯১ এর বিএনপির রহস্যজনক বিজয়ের নেপথ্য কারনগুলি চাপা দিতে পাকি-পেয়ারা সুশীলদের মাধ্যমে আলোচনায় তুলে আনা হয়েছিলো, ১৯৯১এ পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে ডাকসুতে গদীনশীন কেরানীগঞ্জের আমান উল্লাহ আমান ও নরসিংদীর খায়রুল কবীর খোকন এর নাম- এদের প্রভাবেই নাকি বিএনপি জিতেছে। কিন্তু, সেই আমান-খোকনকেও বিএনপি আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলে। খোকনের উপর বসানো হয় তার অনেক জুনিয়র এক বিতর্কিতকে; আমান হন কোনঠাসা।

(চ) শাহিদা ওবায়েদ: মাইনাস-টু ফর্মুলার সময়ে ও ২০০৮ এ শ্রমিক-কৃষকের ব্যালট বিপ্লব এর পর টকশোতে বিএনপিকে রক্ষার স্বেচ্ছা-দায়িত্ব নিয়েছিলেন জাতির পিতা ও জেলখানায় চার জাতীয় হত্যার ষড়যন্ত্রে জনমানসে সন্দেহভাজন প্রয়াত কে.এম. ওবায়দুর রহমানের সহধর্মিনী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শাহেদা ওবায়েদ। কিন্তু, তার কন্যা শ্যামা ওবায়েদ বিএনপিতে থাকলেও বিএনপি ও খালেদা শাহিদা ওবায়েদকে আমড়ার ছোবড়ার মতোই ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।

(ছ) ভিসি মনিরুজ্জামান ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে অপমান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়াকে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর চেয়ারম্যান করে গঠন হয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক); দুই বছর চার মাসে ওনার অর্জন শূন্য, দুদকের অর্গানোগ্রাম ঠিক হয়নি সোয়া চার বছরে, তাই সে সময়ে হাওয়া ভবনের দূর্নীতির কোন অভিযোগ নেই দুদকে। দোর্দন্ড প্রতাপশালী শিক্ষক ও ভিসি মনিরুজ্জামান মিয়া স্যার চরমভাবে অপমানিত হলেন সোয়া দুইটি বছর দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মহীন থেকে। ১৯৯০ এ গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি ও এরশাদের পতনে অন্যতম নিয়ামক ছিলো সে সময়কার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাহসী ভূমিকা, সে সময়ে যেটির সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদ। তাঁকে কেন বিএনপি রাষ্ট্রপতি করলো, এটাও বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রহস্য। রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থাকা অবস্থায় তাঁকে চরমভাবে অপমান করা হলো, তাঁর স্ত্রী অধ্যাপক আমেনা আহমেদ এর নামে মোহাম্মদপুর থানাধীন রামচন্দ্রপুর খালে (আদাবর নবোদয় হাউজিংয়ের পূর্ব পাশে ওয়াসার নর্দমায়) এক খন্ড জমি বরাদ্দ দিয়ে। যা তিনি জানার পর ফেরৎ দিয়েছিলেন সরকারকে। তাঁকে আরো চরমভাবে অপমান করা হয়েছিলো, ‘মোখলেছ’ নামে এক অখ্যাত ব্যক্তিকে প্রেস সচিব বা সহকারি প্রেস সচিব করে, যে, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বেআইনীভাবে বসে থাকতো মোবাইল অন করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের আলোচ্য বিষয় “ভাইয়া”কে শোনাতে। এসব অপমানের কথা এই দেশের সুশীলেরা ভুলেন নাই। সুতরাং, গুলশান হামলার জঙ্গিদেরকে “ওরা নিরীহ ছেলে” বলা জাফরুল্লাহ অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়াদের কতদূর টেনে নিয়ে যেতে পারবেন, তাতে যথেষ্ট সন্দেহ থেকেই যায়, যা চোখা মিয়া রাজাকারের পুত্র মির্জা ফখরুল সাহেব শেষ চেষ্টা হিসেবে করছেন।

উপরোক্ত ঘটনাগুলি বিএনপির সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই জানেন। তাই কেউ ঝুঁকি নেবেন না, খালেদা ও তারেক বিহীন নির্বাচনে অংশ নেয়ার। পরিশেষে, এটা আবারো বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, বিএনপি কোন অবস্থাতেই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

লেখক:  মো: মাহমুদ হাসান, (ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ ও সমাজ গবেষক), ঢাকা, তারিখ-৫ই মে, ২০১৭, সময়-প্রথম প্রহর-০২.০৫ মিনিট।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top