Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:৩০ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
আ’লীগ নেতা রেজনু ও ছাত্রদল নেতা জিলানির ফোনালাপ ফাঁস প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ইসিকে সহযোগিতার নির্দেশনা | প্রজন্মকণ্ঠ আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে চারজন নিহত | প্রজন্মকণ্ঠ ইয়াঙ্গুন উপকূলে একটি নৌকা থেকে শতাধিক রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার  জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা : এ ডটার’স টেল’ দেখতে উপচেপড়া ভিড় নির্বাচন পেছানোর দাবি ও আগুন সন্ত্রাস একই সূত্রে গাঁথা :  ড. হাছান মাহমুদ  দেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলির সমান সুযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিমত | প্রজন্মকণ্ঠ বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে পরামর্শ ও সহযোগিতা চেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় ও রুমাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত

ভেজাল খাদ্য খেয়ে প্রতিনিয়ত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা


এম আর টিপু

আপডেট সময়: ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১২:২৯ পিএম:
ভেজাল খাদ্য খেয়ে প্রতিনিয়ত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

ভেজাল ও বিষাক্ত খাদ্যের কাছে জিম্মি এখন সারা দেশের মানুষ। মহাখালী পাবলিক হেলথ পরীক্ষাগার সূত্র জানায়, সারা দেশে বাজারজাত হওয়া বেশিরভাগ খাদ্যপণ্যই ভেজাল এবং সেসব খাদ্যপণ্য দেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের তথ্য হচ্ছে, বাজারে ভেজালমুক্ত খাদ্য সামগ্রী পাওয়াটাই কষ্টকর। ভেজালবিরোধী অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রায়ই দেখেন, বাজারজাত করা ৭৮ ভাগ খাদ্যসামগ্রী ভেজাল ও বিষাক্ত কেমিক্যালের সংমিশ্রণে তৈরি।

উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে, ভেজাল খাদ্য খেয়ে প্রতি বছর দেশবাসীর পেটে পড়ছে অন্তত ৪০০ টন ফরমালিন। আর ভেজাল খাদ্যে জীবনঘাতী রোগের বিস্তার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর ফলে ক্যান্সার, চর্মরোগ, আলসার, লিভার ও কিডনি সংশ্লিষ্ট রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি বছর শুধু ভেজাল খাদ্যপণ্যের কারণেই অন্তত ২২ লাখ মানুষ জটিল রোগে আক্রান্ত হন। আর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও খাদ্যে ভেজাল মেশানোকে জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের গবেষণা থেকে জানা যায়, শুধু ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দুই লাখ লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ, কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই লাখ। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা মায়ের শারীরিক জটিলতাসহ গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. বশির আহমেদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ভেজাল খাদ্যপণ্য কিনে আমরা শুধু প্রতারিতই হচ্ছি না, মারাত্দক স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও রয়েছি। ভেজাল পণ্য আমাদের ক্যান্সার, হেপাটাইটিস, কিডনি ও লিভারের জটিল রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী।

ভেজাল পণ্যের কায়কারবার : অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুর, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, চকবাজার, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, বাড্ডা, কেরানীগঞ্জ ও শনির আখড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল শিশু খাদ্যের শত শত কারখানা গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন এসব কারখানায় কয়েক কোটি টাকার ভেজাল খাদ্য বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে রাজধানীর শনির আখড়া, কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে ভেজাল আইসক্রিম তৈরির অসংখ্য কারখানা। এ কারখানায় তৈরি ভেজাল খাদ্য খেয়ে প্রতিনিয়ত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বিএসটিআই-এর এক কর্মকর্তার মতে, বাজারে যেসব পাউরুটি-বিস্কুট পাওয়া যায় তার অধিকাংশেই ছত্রাক থাকে। অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে তৈরি হয় বলে এসব খাদ্যে কৃমি জাতীয় পরজীবীও থাকে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের হোটেলগুলোর তরকারি রং আকর্ষণীয় করতে জর্দার রং ও নানারকম কেমিক্যাল রং মাত্রাতিরিক্তভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ ছাড়া হোটেলের শরবত, ঠাণ্ডা পানি ও লাচ্ছিতে মাছের হিমাগারে ব্যবহৃত দূষিত পানি দিয়ে তৈরি বরফ মেশানো হচ্ছে।

যেভাবে ভেজাল মেশানো হয় : জেল-জরিমানা করেও ভেজাল এবং বিষাক্ত খাদ্যসামগ্রীর আগ্রাসন রোধ করা যাচ্ছে না। এমনকি বেশিরভাগ সয়াবিন তেল তৈরি হচ্ছে সাবান তৈরির পাম অয়েল দিয়ে। বেকারি ও মিষ্টিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত রং। চানাচুর ও জিলাপি ভাজা হয় পোড়া মবিল দিয়ে। মুড়ি ভাজা হয় ইউরিয়া সার দিয়ে। মরা মুরগি দিয়ে তৈরি করা হয় স্যুপ। নানা ধরনের ফলে কেমিক্যাল স্প্রে এখন নিয়মিত ঘটনা। এ ছাড়া বাজারে বিক্রি হওয়া মাছে, দুধে ও ফলমূলে ফরমালিন এবং কার্বাইডসহ নানা বিষাক্ত কেমিক্যাল কৌশলে মেশানোর কাজ চলছেই। 

সবজিতে রাসায়নিক কীটনাশক, বিস্কুট, আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংকস, জুস, সেমাই, আচার, নুডলস এবং মিষ্টিতে টেঙ্টাইল ও লেদার রং মেশানো হচ্ছে নির্দ্বিধায়। এ ছাড়া ক্ষতিকর পদার্থের মধ্যে খাদ্য সামগ্রীতে আরও ব্যবহৃত হচ্ছে স্যাকারিন, মোম, ট্যালকম পাউডার, যানবাহনে ব্যবহৃত মবিল, সোডা, আটা-ময়দা, সুগন্ধি, ট্যালকম পাউডার। ভেজাল মসলা উৎপাদনকারীরা গুঁড়া মরিচের সঙ্গে মেশাচ্ছেন ইটের গুঁড়া। হলুদে দেওয়া হচ্ছে মোটর ডাল, ধনিয়ায় স'মিলের কাঠের গুঁড়া আর পোস্তাদানায় সুজি। ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন বলেন, মহানগরীর কিছু কিছু জায়গায় খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো হয়। মাঝে মধ্যে অভিযান চললে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হয়।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top