Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ২:১৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
নাজমুল হুদাকে ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ  নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার  একজন শিশুকে পিইসি পরীক্ষার জন্য যেভাবে পরিশ্রম করতে হয়, সত্যিই অমানবিক : সমাজকল্যাণমন্ত্রী নির্বাচনকে সামনে রেখে আদর্শগত নয়, কৌশলগত জোট করছে আওয়ামী লীগ : সাধারণ সম্পাদক থার্টিফার্স্ট উদযাপন নিষিদ্ধ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে সেনাবাহিনী  মহাজোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যাওয়ার শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে  প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু আজ  ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন শেষ তারিখ ২১ নভেম্বর  আ'লীগ যত রকম ১০ নম্বরি করার করুক, ভোট দেবো, ভোটে থাকব : ড. কামাল হোসেন

শরিকদের সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১১:৪৮ এএম:
শরিকদের সঙ্গে নির্বাচনী আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) সঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়েছে। জাপার সঙ্গে আসন সমঝোতা শেষে ১৪ দলের অন্য শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাবে জোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগ।

শরিকদের ৬৫ থেকে ৭০টি আসন দেওয়া হবে- আওয়ামী লীগের এমন বক্তব্যকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মনে করছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৯০টি আসন চেয়েছেন তার দলের জন্য। আর ১৪ দলের শরিকরা নিজেদের প্রস্তাব নিয়ে অপেক্ষা করছেন নির্বাচনী আসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার জন্য।

জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা শুরু
এরশাদ চান ৯০, আওয়ামী লীগ দিতে চায় ৪৫ 
১৪ দলের প্রত্যাশা ১০০, বর্তমানে আছে ১৫

আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টিকে ৪৫ থেকে ৫০টি আসনে এবং ১৪ দলের শরিকদের জন্য ২০ থেকে ২২টি আসনে নির্বাচনী সমঝোতায় ছাড় দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে যেসব আসনে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক দলের সংসদ সদস্য রয়েছেন সেসব আসনে তাদের আবারো জোটের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

নির্বাচনী জোট গঠনের বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ আজকালের খবরকে বলেন, আমাদের ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। এরপর যদি কিছু হয় আমাদের স্যার (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী আসন ও ক্ষমতা ভাগাভাগির আলোচনা শুরু হয়েছে। তফসিল ঘোষণার আগেই তা চূড়ান্ত হতে পারে। 

জানা যায়, আওয়ামী লীগের কাছে জাতীয় পার্টির জন্য এরশাদ সংসদের ৯০টি আসন চেয়েছেন। ক্ষমতায় এলে তাকে সংসদের উপনেতার পদ দিয়ে সম্মানিত করা ও তার পার্টি থেকে ১০ জন নেতাকে মন্ত্রিসভায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দূতাবাসে যেসব রাজনৈতিক নিয়োগ হয় তারও অংশীদারিত্ব চান জাপা চেয়ারম্যান।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেছেন, ‘আমাকে ছাড়া আওয়ামী লীগের এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ নেই। আগামী নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। তাই আওয়ামী লীগ যেমন জাতীয় পার্টিকে মহাজোটে রাখতে চায় তেমন আমরাও ২৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার ক্ষমতার অংশীদারিত্ব চাই। তাই আমার জীবনের এই শেষ ভোটযুদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোট করেই করতে চাই।’ 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বলেছেন, জোটে আলাপ-আলোচনা চলছে, এ মাসের শেষ দিকে চূড়ান্ত আকার নেবে। বেশি দূর গেলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জোটের জন্য ৬৫ থেকে ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা আছে। এখানেও কথা আছে, এটা কোনো ধরাবাঁধা বিষয় না। ভালো প্রার্থী হলে দেওয়া হবে। উইনেবল প্রার্থীকে আমরা মনোনয়ন দেব। অ্যালায়েন্সের যেকোনো দলেরই হোক, আমরা তাদের অ্যাকসেপ্ট করব। প্রার্থী উইনেবল হলে আমরা মনোনয়ন দেব।’

একই বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, জোট শরিকদের আসন বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শরিক দলের নেতারা বিভিন্ন আসনে নির্বাচন করতে চান। সেখানে আমাদের দলীয় প্রার্থীও রয়েছে। তবে কে কোন আসনে নির্বাচন করবেন- এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। নির্বাচনে আগে তিনি জোট শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে এটি চূড়ান্ত করবেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ১৪ দলীয় আদর্শিক জোট ও নির্বাচনী মহাজোটের নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। যোগ্যতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনে জোটের আসন বণ্টন করবেন তিনি। তবে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আলোচনা শুরু হলেও ১৪ দলের সঙ্গে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় শরিকরা আওয়ামী লীগের কাছে ৬০টি আসন দাবি করে। দেওয়া হয় ১৮টি। এবার প্রত্যেকেই দ্বিগুণ আসন দাবি করবে বলে জানা গেছে। 

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু-শিরিন) ৩০, জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান) ১৫, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ১৫, ন্যাপ ২০, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৬, গণতন্ত্রী পার্টি ১০, জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ২, সাম্যবাদী দল ৪, গণআজাদী লীগ ১০, তরিকত ফেডারেশন ১০, কমিউনিস্ট কেন্দ্র ২টি করে আসন চাইবে আওয়ামী লীগের কাছে। 

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটে বর্তমানে ১৩টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, ন্যাপ, তরিকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি (জেপি)। এর মধ্যে ন্যাপের একজন সংরক্ষিত, ওয়ার্কার্স পার্টির সংরক্ষিতসহ সাতজন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের ছয়জন, তরিকত ফেডারেশনের দুজন, জাতীয় পার্টির (জেপি) দুজন রয়েছেন। 

জানা যায়, মূলত দরকষাকষির জন্যই ১৪ দলের শরিকরা অনেক বেশি করে আসন চাইছেন। শরিক দল অনেকের নিবন্ধনও নেই। অনেকে জোট ক্ষমতায় এলে সরকারি পদে বসার জন্যও এ দরকষাকষিতে নেমেছেন। সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়–য়া বলেন, এখনো এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়নি। তবে জাতীয় পার্টিও অনেক বড় দল। তারপর ১৪ দলের শরিকরা আছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।

শরিক জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে ১৪ দলে এখনো আলোচনা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়েও কোনো কথা হয়নি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের কোনো তালিকাও আদান-প্রদান হয়নি। তবে নির্বাচন জোটবদ্ধ করবো- এই সিদ্ধান্ত আছে। আমি মনে করি, আসন বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করা দরকার, এটা দ্রুত নিষ্পত্তি করা উচিত। যত দ্রুত এটা নিষ্পত্তি হবে, দল ও জোটের সবার জন্যই এটা মঙ্গলকর। তাহলে সবার ভোটের প্রস্তুতিটাও ভালো হবে, আগামীতেও ১৪ দলের বিজয় সহজ হবে। 

১৪ দলের আরেক অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও দ্রুত আসন বণ্টনের সুরাহা চান। তিনি বলেন, ‘আসন বণ্টনের বিষয়টি আগেভাগে সুরাহা করা উচিত। ভোট এলে যা দিলেন তাই পেলাম, আর তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকব, এমনটা হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।’

মেনন বললেন, আমরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছি- ভোটের বাকি তো বেশি দিন নেই। আসন বণ্টনের বিষয়টি ফয়সালা হওয়া দরকার। তবে এনিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনাও হয়নি। এমনিতে ১৪ দলের বিভিন্ন সভায় দু’একবার অনানুষ্ঠানিক কথা হয়েছে। আমি এখনো মনে করি, আওয়ামী লীগের উচিত আগেভাগেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা। যা দিলে খুশি- এরকম মনোভাব থেকে বের হয়ে জোটের ভেতরে আসন নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ একাংশ) সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘আসন কতটি চাইব তা বড় বিষয় নয়, নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা-ই বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘মহাজোট না ১৪-দলীয় জোট, তার ওপর নির্ভর করবে প্রার্থী নিয়ে দরকষাকষি।’

কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক অসীত বরণ রায়ও বলেন, নির্বাচনের আসন বণ্টন নিয়ে আমাদের কোনো আলোচনা এখনো আমাদের যাদের নিবন্ধন নেই, তারাও জোটের কাছে মনোনয়ন চাইব। জোট যদি মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাস দেয়, তখন নিবন্ধন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, বর্তমান সংসদে বিভিন্ন আসনে ক্ষমতাসীন ১৪-দলীয় জোটের শরিকদের ১৫ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৬, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ৫, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ২, জাতীয় পার্টির (জেপি) ২ জন। এর বাইরে জাতীয় পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্য ৩৪ জন। কুড়িগ্রাম-২ আসনে দলের এক সংসদ সদস্য সম্প্রতি মারা যাওয়ায় আসনটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)’র একটি আসন রয়েছে। আর বাকি ২৫১ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ দলীয়।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top