Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
নাজমুল হুদাকে ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ  নির্বাচনকালীন সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার  একজন শিশুকে পিইসি পরীক্ষার জন্য যেভাবে পরিশ্রম করতে হয়, সত্যিই অমানবিক : সমাজকল্যাণমন্ত্রী নির্বাচনকে সামনে রেখে আদর্শগত নয়, কৌশলগত জোট করছে আওয়ামী লীগ : সাধারণ সম্পাদক থার্টিফার্স্ট উদযাপন নিষিদ্ধ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে সেনাবাহিনী  মহাজোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে যাওয়ার শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে  প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু আজ  ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন শেষ তারিখ ২১ নভেম্বর  আ'লীগ যত রকম ১০ নম্বরি করার করুক, ভোট দেবো, ভোটে থাকব : ড. কামাল হোসেন

আকাশে পাখি বা পানিতে মাছের ঝাঁক বেঁধে চলে কেন ?


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৫:০০ পিএম:
আকাশে পাখি বা পানিতে মাছের ঝাঁক বেঁধে চলে কেন ?

আকাশে পাখি বা পানিতে মাছের ঝাঁক দেখলে অসাধারণ বিন্যাস চোখে পড়ে৷ তাদের এই আচরণের কারণ এতকাল অজানা ছিল৷ এবার আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে গবেষণার মাধ্যমে সেই রহস্যমোচনের চেষ্টা শুরু হয়েছে৷

একঝাঁক স্টার পাখি, দেখলে মনে হবে কেউ যেন জাদুকাঠি দিয়ে তাদের সুন্দর এক নক্সা অনুযায়ী সাজিয়ে তুলছে৷ হাজার হাজার পাখি আকাশে যেন নাচছে৷ পানিতেও এমন নক্সা দেখা যায়৷ প্রাণীরা দলবদ্ধভাবে নিখুঁত কারুকার্য সৃষ্টি করে, যা মানুষের ক্ষমতার বাইরে৷

কিন্তু প্রাণীরা কীভাবে এবং কেন এমনটা করে? জার্মানির কনস্টানৎস শহরে মাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউটের জীববিজ্ঞানী অ্যালেক্স জর্ডান সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন৷ তিনি মাছের ঝাঁক নিয়ে গবেষণা করছেন৷ তাদের মাঝে সাঁতার কাটার জাদুময় অভিজ্ঞতা সত্যি ভোলার নয়৷ অ্যালেক্স স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘‘তারা ছন্দময় এক প্যাটার্নে আমার চারিপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল৷ সাঁতার কাটতে কাটতে আমি তার শব্দ শুনতে পেলাম৷ চোখের সামনে শুধু মাছেদের প্রাচীর দেখতে পেলাম৷ নাটকীয় ও অসাধারণ সেই অভিজ্ঞতা৷''

এ যেন নৃত্যপরিচালক ছাড়াই কোরিওগ্রাফি! কিন্তু কীভাবে সেটা সম্ভব হয়? অতীতে মানুষ সহজ নিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রাণীদের ঝাঁকের আচরণ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করতো৷ যেমন, সবাই নাকি সর্দারকে অনুসরণ করে! অথবা শত্রুকে এড়িয়ে যেতে প্রাণীরা নাকি ঝাঁকে ঘোরাফেরা করে৷ আজ সেই মনোভাব বদলে গেছে৷ অ্যালেক্স জর্ডান বলেন, ‘‘আমরা জানি, এমন প্রণালীতে প্রত্যেক প্রাণীর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য রয়েছে৷ তারা যেভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করে বা প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা মোটেই এক নয়৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের আচরণে স্বয়ংক্রিয় কোনো প্রক্রিয়া নেই৷ আজ আমরা তাদের পর্যবেক্ষণ করার সময়ে প্রত্যেকটি প্রাণীর উপর লক্ষ্য রেখে আলাদা করে তাদের গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে পারি৷ তার ভিত্তিতে প্রশ্ন করতে পারি৷''

কখনো ঝরা পাতার মতোন, কখনো ওড়ার চেষ্টা করা ঘুঘু, কিংবা কখনো সাঁতরে বেড়ানো বিশাল তিমি মাছের আকৃতি তৈরি করে পাখির ঝাঁক৷ এই স্টারলিংগুলো ইউরোপীয় পরিযায়ী পাখি৷ ইসরায়েলে আসে রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপ থেকে৷

ব্যক্তি নিয়ে কীভাবে সমষ্টি সৃষ্টি হয়? সেটা জানলে সেই জ্ঞান মানুষের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে৷ তখন নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো সমষ্টিতে মানুষের আচরণ বোঝা যাবে৷

আফ্রিকার মধ্যভাগে টাঙ্গানাইকা হ্রদে সিচিল্ডস গোত্রের মাছের ঝাঁকের আচরণ অ্যালেক্স জর্ডানের কাছে বিশেষ আগ্রহের কারণ হয়ে উঠেছে৷ কখনো তারা ঝাঁক বেঁধে এগিয়ে যায়, কখনো আলাদা থাকে৷ তাই তারা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত৷

কনস্টানৎস শহরের ল্যাবেও সেটা সম্ভব৷ সেখানে গবেষকরা আফ্রিকার হ্রদের একটা অংশ গড়ে তুলেছেন৷ তাতে নানা প্রজাতির সিচিল্ডস মাছ মিলেমিশে রয়েছে৷ তাদের মধ্যে কিছু মাছ অত্যন্ত সামাজিক আচরণে অভ্যস্ত, বাকিরা একেবারেই নয়৷ অ্যালেক্স জর্ডান বলেন, ‘‘এই প্রজাতির মাছ আমার মতো অনধিকার প্রবেশকারীকে বরদাস্ত করবে, এমন সম্ভাবনা অনেক কম৷ তারা আমাকে ধারেকাছে আসতেই দেবে না৷''

এই মুহূর্তে এই মাছগুলি কেন ঝাঁকে ঘোরাফেরা করছে না? এমন আচরণের ব্যাখ্যা দিয়ে অ্যালেক্স বলেন, ‘‘পৃথিবীটা বড় নিষ্ঠুর৷ সেখানে একা ও আত্মকেন্দ্রিক হলে কঠিন পরিস্থিতেতে পড়তে হতে পারে৷ সেই নিরাপদ পরিবেশে হয়তো নিয়ম মানার ও সংঘদ্ধ হয়ে কিছু করার চাপ অনেক শিথিল হয়ে পড়ে৷ তখন সবাইকে নিজের মতো আচরণ করতে দেখা যায়৷''

একসময় মাছকে মনে করা হতো অনুভূতিহীন প্রাণী৷ কিন্তু ধীরে ধীরে বিজ্ঞানীরা জানতে পারছেন যে, মাছেরও আছে নিজেদের সামাজিক জীবন৷ তারা শোক প্রকাশ করে, একসাথে শিকারে যায় এমনকি বিভিন্ন অদ্ভুত রকমের যৌন সম্পর্কেও জড়ায়৷ মাছের এই অজানা জীবন দেখতে হলে যেতে হবে সাগরের গভীরে৷

এই গবেষণার অন্যতম ফল হিসেবে জানা গেছে, যে প্রাণীরা টিকে থাকতেই ঝাঁকের মধ্যে ঘোরে৷ অ্যালেক্স জর্ডান ভিডিও ক্যামেরায় মাছেদের গতিবিধির ছবি তোলেন৷ এক সফটঅয়্যার সেই ছবিতে প্রত্যেকটি মাছকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারে৷ অ্যালেক্স বলেন, ‘‘এমনই একটি দৃশ্য দেখে কম্পিউটার অ্যালগোরিদম একটি মাছের আচরণ তুলে ধরতে পারে৷ তার পরিচয়, তার অবস্থান, ঝাঁকে একটি মাছের আচরণের ফলে পরিবর্তন সম্পর্কে বাকিদের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সে সব জানিয়ে দিতে পারে৷''

মাছেরা কখন ঝাঁকের মধ্যে বাকিদের অনুসরণ করবে, কখনই বা আলাদা হয়ে যাবে – কীভাবে তারা সেই সিদ্ধান্ত নেয়? এই প্রশ্নের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি৷ তবে সিচিল্ডস মাছ যে দলবদ্ধ হয়ে বেশ মজা পায়, তা বেশ স্পষ্ট৷ ঝাঁকের মধ্যে তারা যে শক্তিশালী, সেই বোধ হয়তো তাদের আছে৷


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top