Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৯ , সময়- ৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
১০টি অঞ্চলে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন আওয়ামী লীগ দেশ চালাতে পারবে না : রব ৫ কোম্পানির পানি মানহীন : বিএসটিআই পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল অর্থ ঋণ দিচ্ছে চিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন এরশাদ  মুন্সিগঞ্জের ট্রলারডুবি যে সত্যগুলো উন্মোচন করল রোহিঙ্গাদের কথা শুনলেন রাষ্ট্রসংঘের প্রতিনিধিরা সম্ভাবনাময় অন্যান্য রফতানি পণ্যে প্রণোদনা : বাণিজ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগের বিজয় উৎসব জনগণের সঙ্গে মশকরা কোনো অন্যায় সহ্য করা হবে না : মন্ত্রিসভায় শেখ হাসিনা

আমি আদালতে বারবার আসতে পারব না, ইচ্ছামতো সাজা দিয়ে দেন : বেগম খালেদা জিয়া


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ৬:৩৬ পিএম:
আমি আদালতে বারবার আসতে পারব না, ইচ্ছামতো সাজা দিয়ে দেন : বেগম খালেদা জিয়া

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা প্রচন্ড খারাপ। আমার পা ফুলে গেছে। ডাক্তার বলেছে, পা ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। এখানে আমি আদালতে বারবার আসতে পারব না। আপনাদের যা মনে চায়, যতদিন খুশি ততদিন সাজা দিয়ে দেন।’

বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী এই আদালত বসানো হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার রায়ে এই কারাগারে সাজা ভোগ করছেন খালেদা জিয়া। মামলার শুনানির আগের দিন আদালত স্থানান্তর করতে গেজেট জারি করায় ক্ষোভ জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এই মামলায় শুনানির জন্য আজকের দিন তো আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। কিন্তু একদিন আগে তড়িঘড়ি করে আদালত স্থানান্তর করে গেজেট দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়া আরও বলেন, ন্যায়বিচার বলে কিছু নাই। অবিচার হচ্ছে। কথা বলা যায় না। ইচ্ছামতো আপনারা যা খুশি সাজা দিয়ে দেন।

পরে আদালত থেকে বেরিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে ঢাকা বারের সভাপতি বিএনপিপন্থী আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হয়েছিলেন। আমার বাম পা সোজা হয়ে থাকে, বাঁকা করতে পারি না। তার বাম হাতও একেবারেই চলছিল না। তিনি কাঁপছিলেন। হুইল চেয়ার থেকে চেয়ারে বসতে পারেন না। তিনি আদালতকে বলেন, ‘মামলা যেভাবে চলে চলুক, আমি আর আদালতে হাজির হতে পারব না।’

গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, “খালেদা জিয়া আদালতকে আরও বলেন, ‘আপনারা সাজা দেওয়ার জন্যই তো এই আদালত পরিচালনা করছেন। আদালত তো আমার কথা শোনেনই না, শুনতেই চান না। নেমে চলে যান। আজ তাও সামনে দিয়ে গেলেন। এই মামলায় ১২/১৩ তারিখ পরবর্তী দিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট দেখলে বুঝতেন আমার শরীরের অবস্থা কী। সুতরাং আমি আর আসতেই পারব না। এই কোর্ট তো সাজা দেওয়ার জন্যই। আপনাদের যা ইচ্ছা সাজা দিয়ে দেন, আমি আর আসতে পারব না। আমি তো আর পারতেছি না।”

এদিন আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা উপস্থিত না থাকায় আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।

এর আগে, দুপুর ১২টা ১৪ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগারে তার কক্ষ থেকে হুইল চেয়ারে করে আদালতের এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আদালতের কার্যক্রম শেষে এরপর হুইল চেয়ারে করে তাকে কারাগারে নিজ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়ার পর থেকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি অন্য কোনো মামলায় আর হাজিরা দেননি। এমন পরিস্থিতিতে আদালতকেই কারাগারে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে মঙ্গলবার গণমাধ্যম কর্মীদের জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। তিনি জানান, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পরে গতকাল সন্ধ্যায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিভাগ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার সম্পন্ন করতে ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করে গেজেট প্রকাশ করে। মামলার কাজ পরিচালনার জন্য নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারের অফিসের একটি কক্ষ বিচারকাজ পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় যে আদালত দণ্ড দিয়েছে, সেখানে আরও একটি মামলা শেষ পর্যায়ে আছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ১ ফেব্রুয়ারি আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। আর পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেন। এই মামলায় এখন কেবল খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন বাকি আছে। কিন্তু সাত মাসেও আর এই যুক্তি উপস্থাপন হয়নি। ফলে এই মামলার শুনানি কবে শেষ হবে, সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এর মধ্যে কারাগারে খালেদা জিয়া অসুস্থ বলে খবর ছড়ায় এবং তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করে সরকার। বিএনপি নেত্রীকে একবার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে এনে পরীক্ষা নিরীক্ষাও করা হয়। এরপর আরেক দফা তাকে এখানে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেড ছাড়া অন্য কোথাও যাবেন না বলে জানিয়ে দেন। বিএনপি নেত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির আরও চারটি মামলা চলছে এবং তার অনুপস্থিতির জন্য সবগুলো মামলাতেই কার্যক্রম আটকে আছে।


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top