Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
জোটের শরিকরা আনুমানিক ৬৫ থেকে ৭০ আসন পেতে পারে : ওবায়দুল কাদের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মনোনয়নে ‘চুলচেরা বিশ্লেষণ’ করছে আওয়ামী লীগ  আ'লীগে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৮,  বিএনপি জোটে ১১   আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত | প্রজন্মকণ্ঠ এ পর্যন্ত ১১টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ  আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা, প্রত্যাবাসন স্থগিত  ক্ষমা চাইতে ফখরুলকে ছাত্রলীগের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলো ছাত্রলীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের যড়যন্ত্র সফল হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন, পেছানোর সুযোগ নেই : নির্বাচন কমিশন সচিব প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার

এখন কোথায় আছে ১২ শিক্ষার্থী, তাদের কী অপরাধ জানতে পারছে না পরিবার | প্রজন্মকণ্ঠ


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ১০:৫১ পিএম:
এখন কোথায় আছে ১২ শিক্ষার্থী, তাদের কী অপরাধ জানতে পারছে না পরিবার | প্রজন্মকণ্ঠ

রাজধানীর মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকা থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১২ শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়েছে বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার৷ তারা এখন কোথায় আছে? তাদের অপরাধই বা কী? এসবের কিছুই জানতে পারছে না পরিবারের সদস্যরা৷

রবিবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে ১২ শিক্ষার্থীর স্বজনরা সাংবাদিক সম্মেলন করেন৷ সেখানে স্বজনদের দ্রুত মুক্তি দাবি করেছেন তারা৷ অপরাধ করলে কোর্টে পাঠানোর কথাও বলেছেন৷ 

নিখোঁজ ১২ শিক্ষার্থীর একজন মুজাহিদুল ইসলাম৷ তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র৷ তাঁর বাবা মাহবুব আলম বলেন, ‘‘৫ সেপ্টেম্বর ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তেজগাঁও এলাকা থেকে ৫২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়৷ এদের মধ্যে ৪০ জনকে ডিবি অফিস থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে৷ তাই আমাদের মনে হয় বাকি ১২ জনও ডিবি অফিসেই আছে৷'' 

তিনি বলেন, ‘‘আমি নিজে ডিবি অফিসে গিয়ে একজন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেছি৷ ডিবি অফিসে একটি দরজার বাইরে আমি আমার ছেলের জুতো দেখেছি৷ আমার বিশ্বাস ছেলে ওখানেই আছে৷ কিন্তু কোন কর্মকর্তাই এ ব্যাপারে কোন তথ্য দিচ্ছেন না৷''

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন জহিরুল ইসলাম হাসিব৷ তাঁকেও আটক করে নিয়ে যায় ডিবি পরিচয়ধারীরা৷ তাঁর বাবা এনামুল হক বলেন, ‘‘কোটা আন্দোলন যখন চলে, তখন আমার ছেলে বাড়িতে ছিল৷ ও কোন রাজনীতি করে না৷ কেন তাঁকে ধরা হয়েছে আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না৷ আমি চাই ওকে দ্রুত আদালতে পাঠানো হোক৷'' 

ঢাকা পলিটেকনিকের ৮ম সেমিস্টারের ছাত্র ইফতেখার আলম৷ তাঁর ভাই রাশেদ আলম বলেন, ‘‘আমার ভাইকে ছাত্রাবাস থেকে তুলে নেয়া হয়েছে৷ কী অপরাধে তাঁকে তুলে নেয়া হয়েছে আমরা কিছুই জানতে পারছি না৷ যাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে শুনেছি, ওদের উপর নাকি নির্যাতন করা হচ্ছে৷''

আরো যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন আল আমিন, জাহাঙ্গীর আলম, সাইফুল্লাহ বিন মনসুর, গাজী এম বোরহান উদ্দিন, তারেক আজিজ, মাহফুজ, রায়হানুল আবেদীন, তারেক আজিজ ও মেহেদী হাসান রাজীব৷ এরা সবাই শিক্ষার্থী৷ এসব শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর এই শিক্ষার্থীদের আদালতে তোলার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তাদের বেআইনিভাবে আটকে রেখেছে পুলিশ৷ 

সাইফুল্লাহ বিন মনসুর নামের এক শিক্ষার্থীর বাবা মনসুর রহমান সাংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি এই ১২ জনকেও ধরে নিয়ে যায় পুলিশ৷ এর মধ্যে সিফাত নামের এক শিক্ষার্থীসহ আরও কয়েকজনকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়া হলেও মুক্তি মেলেনি তাঁর ছেলেসহ ১২ জনের৷ 

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘‘এই ১২ জনের বিষয়ে আমি বলতে পারব না৷ তবে ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেকে পরিচয় গোপন করে সহিংসতায় অংশ নিয়েছে৷ তাদের ব্যাপারে তদন্ত করে আটক করা হচ্ছে৷ কেউ অপরাধ করলে তাঁর বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নিতে হবে৷'' 

এই ১২ শিক্ষার্থী অপরাধী হলে কেন তাদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ যাদের গ্রেফতার করে তাদের আইন অনুযায়ী আদালতে হাজির করে৷ আমরা কাউকে গ্রেফতার করলে অবশ্যই কোর্টে হাজির করব৷''

উল্লেখ্য, কাউকে গ্রেফতারের পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার আইনি বাধ্যবাধ্যকতা রয়েছে৷ বাংলাদেশে এই সংস্কৃতি কেন চালু হচ্ছে না জানতে চাইলে মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘আইন তো সবাইকে মানতে হবে৷ পাকিস্তান আমলে যখন বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তখনও কিন্তু তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়েছে৷ এখন যদি এটা না করা হয় তা দেশের আইনের শাসনের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য এমনকি মানবাধিকারের জন্যও বড় হুমকি৷ আসলে আইন সবার মেনে চলা উচিত৷ যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন তাদের বিশেষ করে এটা মনে রাখতে হবে৷'' 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top