Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ১০:০১ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলা সারা দেশে ব্যাপক শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় বিজয় দিবস উদযাপন বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টকে ভোট না দেয়ার আহ্বান খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সংগ্রাম চলছে, চলবে : ফখরুল  ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবসে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা গণমানুষের শেখ মুজিব, ইতিহাসের মহানায়ক বিজয় দিবসের বীর শ্রেষ্ঠরা বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন, মহান বিজয় দিবস আজ নির্বাচনে নিরাপত্তার ছক চুড়ান্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

গাজীপুর ২ আসনে আওয়ামী লীগে রাসেল, বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী | প্রজন্মকণ্ঠ


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৬ অক্টোবর ২০১৮ ৫:০৭ এএম:
গাজীপুর ২ আসনে আওয়ামী লীগে রাসেল, বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী | প্রজন্মকণ্ঠ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদর, গাছা, বাসন, টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা নিয়ে গঠিত গাজীপুর-২ আসন। এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অনেকটাই চূড়ান্ত। বিএনপির প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন। নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি, সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ নানা ইস্যুতেই আওয়ামী লীগ নেতারা যাচ্ছেন তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছাকাছি। 

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন ফিরিস্তি তুলে ধরছেন নানাভাবে। অন্যদিকে মামলা-মোকদ্দমাসহ নানা কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিএনপি নেতারা তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে পারছেন না। অবশ্য শুধু সিটি নির্বাচনকে ঘিরে ধানের শীষের নেতা কর্মীদের বিশেষ তৎপরতা ছিল নির্বাচনী এলাকায়। একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় ইউনিটভিত্তিক মতবিনিময় সভা এমনকি ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটিও গঠন করছে।

বিএনপি নতুন করে দল ঘুচানোর মতো কিছু ঘরোয়া কর্মসূচি করলেও মহানগর কমিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধেও আছেন। কমিটি বাতিলের মতো দাবির আন্দোলনও রয়েছে।

গাজীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থিতা অনেকটাই প্রায় চূড়ান্ত। তিনি হলেন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে বর্তমান সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল। যদিও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান মনোনয়ন চাইতে পারেন। এই নির্বাচনী এলাকায় ফ্যাস্টুন, বিলবোর্ডসহ নানা প্রচারে আওয়ামী লীগের মধ্যে জাহিদ আহসান রাসেলের একচ্ছত্র অবস্থান রয়েছে। এলাকায় শিক্ষা, চিকিৎসায় ও সড়কসহ নানা ক্ষেত্রে বিগত দুই টার্মের উন্নয়নের চিত্র ঝুলছে মোড়ে মোড়ে।

অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতির আলোচনায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাবেক সিটি মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মহানগর আহবায়ক সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দীন সরকার, শ্রমিক দলের কার্যকরি সভাপতি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মাজহারুল আলম, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি টঙ্গী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও জিএস বর্তমান জেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সরাফত হোসেন, সিটির সাবেক মেয়রের ছেলে মুঞ্জুরুল করিম রনি। এছাড়াও গত নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী হতে চেয়েছেন এমন আরো কয়েকজন নেতা রয়েছেন। তবে এম এ মান্নান ও হাসান সরকার এ দুজনের একজন মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদিও এই দুজন নেতাই বর্তমানে অসুস্থ। অসুস্থতার কারণে সিটি মেয়রের নির্বাচন থেকে দূরে ছিলেন অধ্যাপক এম এ মান্নান। 

আর লাঠিতে ভর দিয়েই নির্বাচনী লড়াইয়ে ছিলেন হাসান উদ্দিন সরকার। বিএনপির কোন নেতা বা কারো পক্ষেই নির্বাচনি তৎপরতায় এখানো মাঠে নামেনি কেউ। আওয়ামীলীগ নেতাদের মতো বিএনপির কোন নেতার ছবি সম্বলিত পোস্টার বা বিল বোর্ড ও চোখে পড়ছে না। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনুসারীরা অবশ্য তাদের নেতার পক্ষে শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চাচ্ছেন তাদের প্রিয় নেতারা মনোনয়ন পাক। বর্তমানে নামে মাত্র ও কৌশলে কিছু কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন ছাড়া এখানে বিএনপির সার্বিক কার্যক্রমই মূলত ফেসবুকনির্ভর। নির্বাচনে হেফজাতে ইসলামের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, বাসদের আব্দুল কাইয়ুম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শেখ মাসুদুল আলম, সিপিবির জিয়াউল কবির, গণফোরামের হাবিবুর রহমান প্রার্থী হতে পারেন। ঐক্য প্রক্রিয়ার কোন সুসংহ অবস্থান কিংবা আলাদা প্রার্থী দেয়ার মতো কোন তৎপরতা এখনো চোখে পড়েনি।

আওয়ামীলীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে তৎকালীন চার দলীয় জোট আমলে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যার পর তাঁর ছেলে জাহিদ আহসান রাসেল উপনির্বাচনে প্রার্থী হন। ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে জাহিদ আহসান রাসেল বিপুল ভোটের ব্যাবধানে জয় লাভ করেন। 

মূলত বিএনপির আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এই আসনে ভোটের ব্যাবধান বিপুল ছিল। গত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হন জাহিদ আহসান রাসেল। আর এর আগের নির্বাচনে আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে জাহিদ আহসান রাসেলকে এই নির্বাচনী এলাকা ছাড় দিতে বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জেলা সদরের এই আসন ছেড়ে নির্বাচনে যান গাজীপুর-১ আসনে। 

আ ক ম মোজাম্মেল হক গাজীপুর-২ এলাকার বাসিন্দা হয়েও গাজীপুর-১ নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে নির্বাচন করায় জাহিদ আহসান রাসেলের দলীয় প্রার্থীতার ভিত তার আসনে আরো মজবুত হয়ে যায়। গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে আহসান উল্লাহ মাস্টারের দুবার বিজয় এবং তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে জাহিদ আহসান রাসেলের পর পর দুবার বিজয়ি হওয়ায় ও একবার বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সংসদ সদস্য হওয়ার পর এবারও রাসেলের মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। এই আসনে আওয়ামী লীগের আরো দু-একজন নেতা সংসদ সদস্য পদে পার্থী হওয়ার মতো থাকলেও শেষ পর্যন্ত হয়তো ছাড় দেয়া হয় জাহিদ আহসান রাসেলকে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেলের পিতা প্রয়াত আহসান উল্লাহ মাস্টারের প্রতি রয়েছে এলাকাবাসীর অগাধ ভালোবাসা। শক্তিশালী প্রার্থী থাকলেও দল ও স্থানীয়দের মধ্যে এসব কিছু হিসেবে করেই বলা যায়, আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ আহসান রাসেল অনেকটাই চূড়ান্ত। 

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিলেন অধ্যাপক এম এ মান্নান। ’৯১ সালের নির্বাচনের পর তিনি এমপি ছাড়াও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয় একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এরপর ২০১৩ সালের গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে অধ্যাপক এম এ মান্নান মেয়র পদে প্রার্থী হয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থী টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানকে লক্ষাধিক ভোটে হারিয়ে মেয়র পদে নির্বাচিত হন। মেয়র পদে বিজয়ী হওয়ার পর নাশকতাসহ নানা অভিযোগে তার নামে দায়ের করা হয় ৩০টি মামলা। এসব মামলায় তিনি জেল খাটেন ২২ মাস। মামলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় তিনি মেয়রের দায়িত্বের বাইরে ছিলেন ২৮ মাস। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য হাসান উদ্দীন সরকার। রাজনীতিতে, নির্বাচনে হাসান সরকারের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। টঙ্গী পৌরসভা চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি। হাসান উদ্দীন সরকার আর জাহিদ আহসান রাসেল এ দুজনেরই বাসা শিল্প নগরী টঙ্গীতে।

বিএনপির অপর দুজন মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী শ্রমিক নেতা সালাউদ্দীন সরকারের নানা অবদান রয়েছে বিএনপিতে। এ পর্যন্ত তিনি পৌরসভা, উপজেলা কিংবা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও বিএনপির রাজনীতিতে তারও রয়েছে আলাদা বলয়। টঙ্গীতে রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য। রয়েছে প্রভাব-প্রতিপত্তি। বিএনপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শিক্ষিত-ভদ্র এ প্রজন্মের নেতা ডা. মাজহারুল ইসলামের রাজনীতে কোনো দুর্নাম নেই। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা সরাফত হোসেনেরও রয়েছে আলদা বলয়, আলাদা ইমেজ। ১৯৯৬ এর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন হাসান সরকার এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ মান্নান। ওই নির্বাচনে এই দুজনের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল শহীদ আহসান উল্লাহর প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে বেশি। পরের দুটি নির্বাচনে তাদের মধ্যে ছিল বিদ্রোহী প্রার্থী, দলে ছিল প্রচণ্ড দ্বন্দ্ব ও বিরোধ। 

বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ মিটিয়ে নেতাদের মধ্যে সমন্বয় করে নির্বাচনের মাঠে নামলে জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটিতে কঠোর নির্বাচনী লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top