Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ , সময়- ৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
এরশাদের বিরুদ্ধে করা মঞ্জুর হত্যা মামলার প্রতিবেদন দাখিল, আগামী ১৮ নভেম্বর নির্বাচন সামনে রেখে শিগগিরই সারাদেশে অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ২৮ রানে জয় পেলো বাংলাদেশ  সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফর : প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন, আগামীকাল গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির জন্য চালু হচ্ছে ঢাকা-কালিয়াকৈর ট্রেন সার্ভিস শিগগিরই ছোট হচ্ছে মন্ত্রিসভা আপনার কথায় অস্ট্রেলিয়ায় থাকা আমার মেয়েও লজ্জিত : মঈনুলকে ফোনে মির্জা ফখরুল  আমরা আর দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান হতে চাইনা, সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ চাই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  সিলেটে সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট  ইমরুলের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেট হারিয়ে টাইগারদের সংগ্রহ ২৭১ রান

শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বৈঠক বাতিল 


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ১২ অক্টোবর ২০১৮ ১২:১৯ এএম:
শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার বৈঠক বাতিল 

ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে নিজেদের অভিন্ন দাবিদাওয়া এবং লক্ষ্য নির্ধারণ করতে ফের বৈঠকে বসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করেছেন বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতারা। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৭টায় এ বৈঠকটি প্রথমে বিশিষ্ট আইনজীবী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ও গণফেরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বেইলী রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তিনি অসুস্থ থাকায় তা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় স্থানান্তর করা হয়। রাত ৯টায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে তা স্থগিত করা হয়।

দু’দফায় স্থান নির্ধারণ করেও শেষ মুহূর্তে এসে কেন বৈঠকটি স্থগিত করা হলো সে বিষয়ে যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা কিছু বলতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, সন্ধ্যায় ড. কামাল হোসেনের বাসায় তিন পক্ষের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তিনি অসুস্থ থাকায় এটি রাত ৯টায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় স্থানান্তর করা হয়। পরে এই বৈঠকটি স্থগিত করা হয়।

কেন স্থগিত করা হলো- এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘এত কিছু বলতে পারব না। শুধু এটুকু জানি বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে আবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দিন-তারিখ-স্থান ঠিক হলে তখন মিডিয়াকে জানানো হবে’।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তফ্রন্টের এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠকে বসার আগে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের কাছে খবর আসে যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ভূমিকাপালনকারী বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বাসভবন পুলিশ ঘিরে রেখেছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, কী ঘটতে যাচ্ছে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ভাগ্যে- তা বোঝার জন্য শেষ মুহূর্তে এসে তিন পক্ষের নেতারা বৈঠকটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্র জানায়, বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে যাওয়ার আগে বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন, আসন ভাগাভাগি ও নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা করতে চান যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এ লক্ষ্যে তিন পক্ষ আলাদা আলাদাভাবে দাবি এবং লক্ষগুলোর একটি প্রাথমিক খসড়াও তৈরি করে। এখন এসব দাবিদাওয়া এবং লক্ষ্যগুলো সমন্বয় করার কাজ চলছে। প্রাথমিকভবে সাত দফা দাবি এবং ১১ দফা লক্ষ্য ঠিক হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হলেই আন্দোলনে নামবে বিএনপি-যুক্তফ্রন্ট-জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। এছাড়াও তিনপক্ষ মিলে যে জোট হচ্ছে, সেই জোটের নাম কী হবে, সেটাও চূড়ান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বৈঠক বাতিল হওয়ায় বিষয়টি ঝুলে গেল নতুন করে।

এছাড়া বিএনপি-যুক্তফ্রন্ট-ঐক্যজোটের নেতাদের মধ্যেও মতের অমিল এবং সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র। বেইলি রোডে ড. কামাল হোসেনের বাসায় ঐক্যপ্রক্রিয়ার বৈঠকের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা, বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান পরবর্তী বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। বৈঠকে অংশ নেয়া থেকে পিছিয়ে যান সাবেক রাষ্ট্রপতি, যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীও। এ অবস্থায় আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে এই বৈঠকও স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে কোনো পক্ষই মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তফ্রন্টের এক নেতা জানান, ড. কামাল হোসেনসহ তিন পক্ষের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকটি হতে আরও সময় লাগতে পারে। এর আগেই দাবি ও লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে। এরই মধ্যে খসড়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিএনপির সঙ্গে আসন্ন জোটের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। সাত দফা দাবি ও ১১টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে। যদিও যুক্তফ্রন্টের আরেক শীর্ষ নেতার মতে, নাম ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ও হতে পারে। তবে সবকিছুই চূড়ান্ত হবে শীর্ষনেতাদের বৈঠকে।

প্রাথমিকভাবে যেসব দাবিকে সামনে রেখে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।

যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা ও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সব কালো আইন বাতিল করতে হবে। নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো ধরনের মামলা না দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

প্রাথমিকভাবে যেসব লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনাসহ প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ করা। ৭০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের সংশোধন করা। সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, সৎ-যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দানের জন্য ‘সাংবিধানিক কমিশন’ গঠন করা।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের নীতিমালা প্রণয়ন করা। দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। সব নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চয়তার বিধান করা। কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা। নারীর সমতা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।

জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বচ্ছতা ও জাবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা। রাষ্ট্রের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক স্বচ্ছতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত, জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

নিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল ও কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া। ‘সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’- এই নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সৎ প্রতিবেশীসুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নেয়া।

বিশ্বের সব নিপীড়িতদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি পূর্ণসমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত ও পুনর্বাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা। একইসঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণ দেয়া। প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা। তথ্য- যুগান্তর রিপোর্ট


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top